| |

শিক্ষকদের গড় হাজিরায় চলছে একটি ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম : প্রতিমাসে সরকারী খরচ ৪ লাখ ২২ হাজার টাকা

মো: আব্দুস ছাত্তার, ফুলবাড়িয়া : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলাধীন আছিম পাটুলী ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকদের গড় হাজিরায় চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। মামলা মোকাদ্দমাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্খিত উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অজোপাড়া গায়ে মাদ্রাসাটির অবস্থান। ১৯৫২ সনে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৬২ সনে আলিম ১৯৭৮ ফাজিল পাঠদানের অনুমতি পায়। জমিদাতারা সরল মনে ভূমি উৎসর্গ করলেও পরে তাতে অশুভ শক্তি ভর করে। ফলে ক্রমেই স্থানীয় কিছু শিক্ষক-কর্মচারী, দুস্কৃতিকারীদের যোগসাজসে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঁঙ্গে পড়তে থাকে। এভাবে কমিটির কমিটি রদবদল হলে বতর্মান উপাধ্যক্ষ মো: হাবিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময় শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অনিয়মের কারণে কমিটির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে মামলা পর্যন্ত গড়ায়, মামলার নিস্পত্তিতে কারাবরণ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান। দীর্ঘ সময়ে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর পদ শুন্য হয়ে যায়। এদিকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে আসেন এক প্রভাষক শাহ্ মোঃ জাহিদ হাসান। তিনি নিয়মিত কমিটির মাধ্যমে ৯জন শিক্ষক ও ২জন কর্মচারী নিয়োগ দিতে সক্ষম হন। নতুন অধ্যক্ষ হিসাবে মো: ইসমাইল হোসেন নিয়োগ লাভের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকেরা আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু সেটিও আলোর মুখ দেখেনি। প্রতিষ্ঠানের অফিসের তথ্য মতে, কাগজে কলমে ১ম থেকে ফাজিল পর্যন্ত ১৪ টি ক্লাশে মোট ৪৪০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে।

বার্ষিক জরিপের তথ্য সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকে ১ম-৫মশ্রেণি পর্যন্ত ১৭২জন শিক্ষার্থী রয়েছে দাখিল (মাধ্যমিক) স্তরে ১০৫ জন আর আলিম ১ম ও ২য় বর্ষ, ফাজিল ১ম-২য় বর্ষ মিলে ৭৩জন।

এর মধ্যে বাস্তবে দু’শতাধিকের উপরে নিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ মাত্র কয়েকশ শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার পেছনে শিক্ষক-কর্মচারীগণ সরকারী অংশের বেতন ভাতা গ্রহণ করেন প্রতিমাসে ৪ লাখ ২২ হাজার টাকা।

এনটিআরসিএ নিয়োগের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা পদে কোন শিক্ষক নিয়োগনেননি। সৃষ্ট কম্পিউটার পদেও অত্র প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিতে আগ্রহী হননি।

প্রাচীনতম এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে কিন্তু প্রতিষ্ঠানের তেমন কোন উন্নয়নের দৃশ্য চোখে না পড়ার পেছনে অনেক কারণ লুকায়িত আছে।

নিয়মিত প্রাত্যহিক ক্লাশ না হওয়ার পেছনে শিক্ষক না থাকার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। জেলা পরিষদের অনুদানে অত্র প্রতিষ্ঠানে ৬৬ বছরে একটি হাফ বিল্ডিং নির্মিত হয়েছে। যেখানে অফিসের কার্যক্রম চলছে কিন্তু তাতেও আলমিরার উপরে পলিথিনের ছাওনি দৃশ্যমান।

মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর সেলিনাবেগম এর সাথে কথা হয়। ফাজিল (অনিয়মিত) পরীক্ষার্থী সে। তার কাছে ফরম পূরণ বাবদ দাবী করা হয়েছে ২ হাজার ৯ শ টাকা। আর অফিসের যোগাযোগের জন্য সাথে আরও দাবী করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা, যাতায়েত খরচ বাবদ ১হাজার টাকা। তবে যদি মাদ্রাসার এত আয়, কেন তাহলে প্রতিষ্ঠানের এই বেহালদশা।

সে সব জানার জন্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানের খোঁজ নিতে গেলে তাঁকে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়নি, উপাধ্যক্ষ পবিত্র হজ্ব পালনের জন্যে তিনি অনুপস্থিত। দায়িত্ব কাউকে না দেয়ায় সমস্যগুলো নির্ণয় করা সম্ভব হলেও সমাধান বা পক্ষেরকোন যুক্তি তুলে আনা সম্ভব হয়নি।

পরে জানা যায় অধ্যক্ষ সাহেবের স্ত্রী অসুস্থ তাই তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছেন। এর আগেও তার স্ত্রী ময়মনসিংহমেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এক্ষেত্রে হাসপাতালে থাকাটা স্বাভাবিক, তবে কেন ছুটির কোন কাগজপত্র অফিসে নেই, কেনইবা কাউকে দায়িত্ব পালন করার জন্য লিখিত দেয়া হয়নি এর কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। এক শিক্ষক বলেন তিনি (প্রিন্সিপাল) মাঝে মধ্যে এসে স্বাক্ষর করে যান, বেতন বিলে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি।

কতজন শিক্ষকের মধ্যে কতজন আছেন জানতে চাইলে অফিসের প্রধান সহকারী আদম আলী কৌশলে পাশ কাটিয়ে যান। তখন ঘড়িতে বেলা সাড়ে ১১ টা বাজে উপস্থিত হলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহিদ হাসান শিক্ষক হাজিরা খাতা দেখানোর অনুরোধ করলে তিনি তাঁর নিজের স্বাক্ষরটা করেন। এখন কেন স্বাক্ষর- এসবের উত্তরে তিনি পারিবারিক ব্যস্ততাকে দায়ি করেন।

মৌখিকভাবে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র আরবী প্রভাষক হারুন অর রশিদ জানান, আমাকে লিখিতভাবে দায়িত্ব না দিলে আমি অফিসের কাগজ পত্র দেখাতে পারব না।

প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের কাছে অধ্যক্ষ সাহেবের ফোন নম্বর চাইলে তিনি জানান, আমি ফোন নম্বর দিতে পারবো না, এমনিতেই আমার অনেক দোষ, প্রিন্সিপাল সাহেব নম্বর দিতে নিষেধ করেছেন।

গড় স্বাক্ষর দিয়ে চলছে শিক্ষক হাজিরা। কখনো গাওয়া হয়না জাতীয় সংগীত। একটি ফাজিল মাদ্রাসা শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাজ দেয়ার পর লাইক এবং কমেন্টে নানা মতামত উঠে আসে।

গফ অহরংঁৎ জধযসধহ কমেন্টে বলেন, এই মাদ্রাসায় অনেক দিন যাবৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহ কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলে এই মাদ্রাসার ১১ টা নিয়োগ হয়েছিল সেই টাকা দিয়ে মাদ্রাসার উন্নয়নকাজে না লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক আর স্থানীয় লোকজন মিলে সব টাকা বাগাবাগি করে যার যার বাড়িতে নিয়ে চলে যায় উন্নয়ন কোথায় থেকে হবে মিডিয়া ব্যক্তি বর্গদের কাছে অনুরোদ এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করবেন পাশাপাশি সরকার এই বিষয়টি অতি তারাতারি তদন্ত করবেন এটাই এলাকাবাসীর দাবি।

আর এই মাদ্রাসায় ছাত্র সংখ্যা মোট ৩০জন আর শিক্ষক হচ্ছে ২০ জন আর মাদ্রাসার ক্লাশ শুরু হয় ১০’৫০মিঃ শেষ ১টায় তাহলে আপনারাই বলেন এখানে কি রকম দূরনীতি হচ্ছে সকল এফবিবন্ধুরা ঘটনাটি শিয়ার করবেন।

গ. ঊ. ঐ. জধংযবফ কমেন্টে বলেন, মাদ্রাসায় কি জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়?

গফ. অনফঁং ঝধষধস কমেন্টে বলেন, সাংবাদিক সাহেব,এসব তদন্ত,দেখবাল করার জন্য সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষ মহোদয় আছেন, উনাদেরকে সরকার এই বিষয়গুলো দেখাশুনা করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন, কাজেই অনুমান নির্ভর কথাবার্তায় না জড়ানোই শোভনীয়।

সর্বোপরি নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন না হওয়া, পাঠদান কার্যক্রম অনিয়মিত, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের অন্তরায়, সরকারী কারিকুলাম মোতাবেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, জবাব দিহিতা নিশ্চিতকরণ, আয়ের-ব্যয়ের হিসাব নিকাশ, শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার কারণ ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।