| |

ভাল নেই কেন্দুয়ার গ্রাম পুলিশেরা মানবেতর জীবন যাপন

মহিউদ্দিন সরকার : নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বর্তমানে মোট ১২৯ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানায় সাপ্তাহিক হজিরা দিতে এসে সোমবার দুপুরে গ্রাম পুলিশের একটি দল কেন্দুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে তাদের দুঃখ কষ্টের কথা তুলে ধরেন গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। রোয়াইলবাড়ী আমতলা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ জালাল উদ্দিন জানান, দিনের বেলায় তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করতে হয়। আবার রাতে এলাকার জঙ্গি, মাদক এবং বিভিন্ন মামলার আসামী ধরার কাজে পুলিশকে সহায়তা করতে হয়। এজন্য কোন কোনদিন সারারাত জেগেও তাদেরকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। মাসকা ইউনিয়নের ৫৫ বছর বয়সি গ্রাম পুলিশ ফজলুল হক জানান, পরিষদের কাজে ইউনিয়নের এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে হেঁটে যেতে হয়। সরকারি ভাবে একটি সাইকেল বরাদ্দ দেয়া হলে খুব উপকার হতো বলে তিনি দাবী জানান । চিরাং ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে আমাদেরকে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেয়া হয়। কয়েকদিন আগে এপ্রিল ও মে মাসের ভাতা দেয়া হয়েছে। নিয়মিত ভাতা না পেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমাদেরকে খেয়ে না খেয়ে খুব দুঃখ কষ্ট করে চলতে হয়।

বলাইশিমুল ইউনিয়নের কোকিল রবি দাস বলেন, আমাদের সাপ্তাহিক ভাতার ৪/৫ মাসের টাকা বাকি। প্রতি সোমবার উপজেলায় এবং থানায় হাজিরা দিতে হয়। এজন্য ৩শ টাকা করে মাসে ৪ সপ্তাহে ১২ শ টাকা ভাতা দেয়া হয়। এই ১২শ টাকা ৩ হাজার টাকার সাথে দিলে আমাদের অনেক উপকার হয়। গ্রাম পুলিশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কদ্দুছ বলেন, আমরা গ্রামপুলিশের সদস্যরা মাসে যে ভাতা পাই সেই ভাতার টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না।তিনিও গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয়করণ, প্রতি জনের সাইকেল বরাদ্দ দেয়া, একটি মোবাইল ও সীমকার্ড দেয়া সহ রেশন চালু করার জন্য সরকারের নিকট অনুরোধ করেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের (গ্রাম পুলিশের বেতন ভাতার দায়িত্বে থাকা) অফিস সহকারী আব্দুল বারীর কাছে গ্রাম পুলিশের সুবিধা অসুবিধার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে ১% টাকা এসে জমা হয়। সেই জমা টাকা থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের অংশের টাকা পরিশোধ করা হয়। তাছাড়া সরকারি অংশের ১৫শ টাকা ৩ মাস পর পর চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। সাপ্তাহিক ভাতার টাকা চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিশোধ আছে বলে তিনি দাবী করেন।

গ্রাম পুলিশ পুলিশেরই সহায়ক। খেয়ে না খেয়েই দুঃখ কষ্টের মধ্য দিয়ে চলে তাদের জীবন সংসার। সকাল থেকে রাত জেগে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। কিন্তু এর পরও পায়না তারা শ্রমের ন্যায্য মজুরী। আবার যে ভাতাটুকু পায় সেটাও মাসে মাসে পায় না। অনেক সময় বকেয়া পরে থাকে। ফলে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ঈদ কিংবা পূজোয় গ্রাম পুলিশের সদস্যরা তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে উৎসব আমেজে আনন্দের সাথে উদযাপন করতে পারেন না।তাই,গ্রাম পুলিশের সদস্যরা ,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরি সরকারি করনের দাবী করেন।