| |

জামালপুরের চাঞ্চল্যকর শিশু মুস্তাসিম বিল্লাহ হত্যার রায়ে ৫ জনের ফাঁসির আদেশ ॥ একজন বেকসুর খালাস

এস এম হালিম দুলাল প্রতিনিধি : জামালপুরের চাঞ্চল্যকর শিশু মুস্তাসিম বিল্লাহ হত্যা মামলার রায়ে ৫ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জনাব ওয়াহেদুজ্জামান শিকদার । দন্ডপ্রাপ্তরা হলো তোফায়েল আহমেদ হীরা, সোহেল রানা শিপন, আনোয়ার হোসেন, লোকমান আলী ও আইনুল হক। অপর আসামি ফারুক হোসেন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানাযায়,পারিবারিক সম্পত্তির লোভে ২০০১ সালের ৩১ মে রাতে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমেরিকা প্রবাসী লুৎফর রহমানের ৭ বছরের শিশুপুত্র মুস্তাসিম বিল্লাহকে ভার্জিন(পনি ও) খাওয়ানোর কথা বলে তার আপন চাঁচাতো ভাই তোফায়েল আহমেদ হীরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে জামালপুর সদরের নান্দিনা খড়খড়িয়া এলাকায় নিয়ে দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা শিশু মুস্তাসিম বিল্লাহকে অপহরণ করে মোটা অংঙ্কে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে দেরি করায় শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে একটি নির্মাণাধীন ভবনের মেঝেতে মাটিতে পুতে রাখে।
এ ঘটনায় শিশুর খালু আশরাফ হোসেন বাদি হয়ে ৬জনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় ৩০২,২০১ এবং ৩৪ ধারা মোতাবেক ৩৫ নং হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তোফায়েল আহমেদ হীরাকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপহরণের ৮০ দিন পর শিশু মুস্তাসিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করে। ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ১৮ নভেম্বর বুধবার জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহেদুজ্জামান শিকদার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তোফায়েল আহমেদ হীরা, সোহেল রানা শিপন, আনোয়ার হোসেন, আইনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালত তাদের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ হীরা, সোহেল রানা শিপন, আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়। মামলায় অপর আসামী ফারুক হোসেনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। মামলাটি বাদি ও রাষ্ট্র পক্ষে আইন জীবি হিসাবে অতিরিক্ত পি,পি এডভোকেট আবুল কাশেম তার মামলাটি পরিচালনা করেন।
আদালতের রায় ঘোষনা পর শিশুর পিতা লুৎফর রহমান অশ্র“সীক্ত জ্বলে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রয়া ব্যক্তকরে বলেন এ রায় আমি সন্তুষ্ট। তবে উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাসির কার্যকর করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।