| |

ঈশ্বরগঞ্জের নির্যাতিত গৃহকর্মী বেগম ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে

আবুল কালাম আজাদ, ঈশ্বরগঞ্জ(ময়মনসিংহ) থেকে
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের রাউলেরচর গ্রামের বেগম আক্তার (১৮) ঢাকায় নির্যাতনের শিকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্রমশ: ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় রোববার রাতেই ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তার শরীরে নির্যাতনের চি‎হ দেখলে যে কেউ শিঁউরে উঠে। তার সাথে কথা বলতে গেলে সে ভয় পায়। এ ঘটনায় নির্যাতিতার ভাই স্বপন বাদী হয়ে গৃহকর্তী শিল্পি আক্তার, তার স্বামী আবুল কালাম, মোছা শিল্পির মা, মোছা বিলকিছ, মোছা হালিমা ও ফাতেমা খাতুনসহ ৬ জনকে আসামী করে রোববার রাতে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অসহায় দরিদ্র বেগম আক্তার অভাবের তাড়নায় ঈশ্বরগঞ্জের জাটিয়া ইউনিয়নের বড়ইবাড়ি গ্রামের আ: ছালামের স্ত্রী ফাতেমার মাধ্যমে ঢাকায় এক বাসায় গৃহ পরিচারিকার কাজ পায়। ওই বাসায় ১০/১২ দিন কাজ করার পর আবুল কালামের স্ত্রী শিল্পি আক্তার বেগমকে আরো মোটা অংকের বেতনের কথা বলে ঢাকার মানিকনগর এলাকার কোণাপাড়াস্থ ছয় তলা ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় নিজ বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেয়। সেই বাসায় কয়েকদিন কাজ করার পর কাজে বিলম্বের অযুহাতে গৃহকর্ত্রী শিল্পি বেগমকে প্রায়ই মারধোর করতো। মাসখানেক আগে কাজ করতে দেরি হওয়ায় গৃহকর্ত্রী বেগমকে রড দিয়ে পিটিয়ে সারা শরীরে জখম করে। এক পর্যায়ে গরম ইস্ত্রি দিয়ে তার বাঁ পা, পিঠে, বুকে ও মুখে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর আহত করার পরও কোনো প্রকার চিকিৎসা করেনি। এমনকি তার বাড়িতে কোন খবর না দিয়ে এ অবস্থাতেই দুইমাস গৃহবন্দি করে রাখে। বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে শনিবার বেগমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাওন চক্রবর্তী জানান, ফাতেমকে আটক করার পর রোববার রাতেই অন্যান্য আসামীদের ধরার জন্য ঢাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফাতেমা ছাড়া আর কেউ গ্রেফতার হয় নি।