| |

জামালপুরে পপুলার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু॥ক্লিনিক কর্মীকে গণধোলাই

এসএম হালিম দুলাল জামালপুর প্রতিনিধি॥জামালপুরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কা- ঘটেছে। প্রসূতির বিক্ষুব্ধ স্বজনদের রোষাণলে পড়ে ক্লিনিকের এক কর্মী গণধোলাই দিয়েছেন। গত ২৬ আগষ্ট রবিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় জামালপুর পপুলার হাসপাতাল (প্রা:) লাইঃ-৪১৭৬ নামের ওই ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকটির মালিক ও ম্যানেজারসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
মৃৃত নবজাতকের দাদী জোবেদা বেগম জানিয়েছেন,জেলার মেলান্দহ উপজেলার ফুলকোচা ইউনিয়নের ফুলকোচা গ্রামের বাসিন্দা নওশের আলী আকন্দের ছেলে ইসমাইল হোসেন আনন্দ তার অন্ত:স্বত্বা স্ত্রী দোলনা বেগম সুখীকে (২৪)কে রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মুমুর্ষবস্থায় এনে জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় বাচ্চা প্রসবের জন্য পপুলার ক্লিনিকে ভর্তি করান । ভর্তির সময় প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান, নার্স মৌসুমী ও রিতু প্রসূতীকে ভর্তি করাতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করলে প্রসূতীর স্বামী আনন্দ ১ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা করতে বলেন। এ সময় প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান ও নার্সরা প্রসূতীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।

প্রথমে তারা স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর ভোর ৬টার দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে তারা প্রসূতীর স্বজনদের জানায় ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছি। এ সময় প্রসূতীর স্বজনদের সন্দেহ হলে অন্য ক্লিনিকে যেতে চায় তারা। কিন্তÍ প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান ও এক্স-রে অপারেটর আরিফ রোগী নিয়ে যেতে হলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে প্রসূতী কি অবস্থায় আছে তাও জানতে দেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।
একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের প্রসূতী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম এনেসথেসিয়া একজন ডাক্তারকে সাথে নিয়ে প্রসূতীর অস্ত্রোপচার করলে মৃত মেয়ে বাচ্চা প্রসব করে। এ নিয়ে প্রসূতির স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। মৃৃত নবজাতকের পিতা ইসমাইল হোসেন আনন্দের অভিযোগ, ডাক্তার ক্লিনিকে আসার আগেই স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা কালে নবজাতককে টনাহেছড়া করে মেরে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভোরে কর্তব্যরত প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান ও এক্স-রে অপারেটরসহ ক্লিনিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গা ঢাকা দেন।
বেলা দেড়টার দিকে এক্স-রে অপারেটর আরিফ ক্লিনিকে ফিরে এলে প্রসূতীর লোকজনরা তাকে চিনতে পেরে আটক করে গণধোলাই দিতে থাকে।
খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশের এসআই মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এই উদ্বোদ্ধ পরিস্থিতিতে বেলা ৩টার দিকে জেলা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়গনোস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম বুলবুল এসে প্রসূতির স্বজনদের সাথে দফায় দফা বৈঠক করে ম্যানেজ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত দফায় দফা বৈঠক চলছিল।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তিনি বলেন জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনিি আরো বলেন, প্রসূতীর স্বজনরা কেউ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ^াস দিয়েছেন। অপর দিকে এ বিষয়ে প্রসূতী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম এর সাথে মোঠু ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,সকালে আমি ওই হাসপাতালে সিজার অপারেশন করে চলে এসেছি,এর পর সেখানে কি হয়েছে তা’জানিনা বলে জানান। ক্লিনিকের মালিক মনিরুজ্জামান রুমেল গা ঢাকা দেওয়ায় তার মোঠু ফোন ০১৭৮৮৯৯০৮৪৪-০১৬১১১৯০৮৪৪ বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।