| |

গৌরীপুরে চাঞ্চল্যকর কিশোর সাগর হত্যার চার্জশিট প্রদান

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা ॥
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চুরির অপবাদে প্রকাশ্যে গাছে-খুঁটিতে ঝুলিয়ে কিশোর সাগরকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখির করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকান্ডের ১০মাস ২৫দিন পর মামলার তদন্তকারী অফিসার ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাবইন্সপেক্টর মোঃ আলাউদ্দিন ও পরিমল চন্দ্র দাস বিজ্ঞ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টরের নিকট গত ২১ আগস্ট (সোমবার) অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে ৮জনের নামে হত্যাকান্ডে জড়িত মর্মে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের মৃত শহর আলীর পুত্র মো. আক্কাছ আলী ওরফে আক্কা (৪০), হাসান আলী ওরফে হাসু (৩৮), জুয়েল (৩০), সোহেল (২০), একই গ্রামের হাজী মোঃ আতাব উদ্দিনের পুত্র মোঃ রোকন উদ্দিন (৪০), তারাকান্দা উপজেলার বাথুয়াদী মলামারা গ্রামের আব্দুল হেকিমের পুত্র কাইয়ুম (২০), চরশ্রীরাপুর গ্রামের মোসলেম খাঁর পুত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন খাঁ (৫২), মৃত বাদ মিয়ার পুত্র মো. ফজলুর রহমান (৫২)। তাদের মধ্যে চরশ্রীরামপুর গ্রামের হাজী মোঃ আতাব উদ্দিনের পুত্র মোঃ রোকন উদ্দিন (৪০) এখনো পলাতক রয়েছে।
২০১৭সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে পানি উত্তোলনের পাম্প চুরির অভিযোগে খুঁটিতে ও গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে সাগরকে। সে ময়মনসিংহের রেলওয়েবস্তির মোঃ শিপন মিয়ার পুত্র। ওর লাশ পরের দিন হ্যাচারীর কাশবন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাগরের বাবা শিপন মিয়া বাদী হয়ে এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ওইদিনই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চরশ্রীরামপুরের মৃত শহর আলীর পুত্র আক্কাছ আলী ওরফে আক্কা (৪০) তার ভাই হাসু মিয়া (৩৮), আঃ ছাত্তার ওরফে ছত্তর (৩৫), জুয়েল মিয়া (৩০), সোহেল মিয়া (২০), তারাকান্দা উপজেলার মলামারার আব্দুল হেকিমের পুত্র আব্দুল কাইয়ুম (২০) ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬জনকে আসামী করা হয়। মামলা থেকে এজাহারভূক্ত আসামী আব্দুস ছাত্তার ওরফে ছত্তরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সাগরের মা হাসি আক্তার। তিনি বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ। এ মামলা চালাবার সামার্থ্য আমাদের নেই। সরকারের সহযোগিতায় পুত্রহত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। ভাঙ্গারী জিনিসপত্র কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো সাগর।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক পরিমল চন্দ দাস বলেন, সাগর হত্যা মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আদালতের মাধ্যমে সাতজন জামিনে রয়েছে। একজন অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।