| |

ভালুকায় এক ঔষধ কোম্পানিতে তিন দফা অভিযান ঃ তিন লাখ টাকা জরিমানাঃ ১ জনের জেল

নিজস্ব সংবাদদাতা ভালুকা ময়মনসিংহ ২৯ আগষ্ট : ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের আমতলী মাদুরভিটা এলাকার নিভৃত পল্লীতে স্টার ল্যাবরেটরিজ নামে একটি ঔষধ কোম্পানিতে সোম ও মঙ্গলবার দু’দিনে তিন দফা অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। যেখানে হারবাল ঔষধের পাশাপাশি দেশি বিদেশী দামী ঔষধের লেবেল এবং প্যাকেটজাত ওষধও পাওয়া যায়। অবশেষে ময়মনসিংহ ওষধ প্রশাসন ও ভালুকা উপজেলা প্রশাসন সমন্বয়ে অভিযান শেষে যৌথভাবে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৩লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭দিনের জেল এবং ওই প্রতিষ্ঠানের কেমিস্টি হাকিম কামরুজ্জামানকে ১০ দিনের জেল দেওয়া হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার দুপুরে হবিরবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু, ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজাহারুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামালের নেতৃত্বে আমতলী মাদুরভিটা এলাকার নিভৃত পল্লীতে স্টার ল্যাবরেটরিজ নামে একটি ঔষধ কোম্পানিতে অভিযান চালান।
রাতে আবার জেলা ড্রাগ সুপার এস,এম সুলতানুল আরেফিনসহ পুনঃরায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল ওই কারখানায় গিয়ে দুপুরে পরিদর্শণ কালে খোলা ক্যাপসুল ও লেবেল রেখে যাওয়া কিছু সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অনেক ঔষধ সরিয়ে ফেলার পর তৃতীয় বারের মতো অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল ৪০ হাজার পিস, বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু ও লোশন। ০১ হাজার পিস চায়না, আমেরিকা, গুজরাট ইন্ডিয়া, হংকং, ইউকে, কোরিয়া, হাঙ্গেরী ও থাইল্যান্ডের নাম দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের যৌন উত্তেজক ঔষধ জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত ।
স্থানীয়দের অভিযোগ দিনাজপূরের হারবাল কোম্পানির লাইসেন্স নিয়ে জেলা ড্রাগ সুপারকে অবগত না করে হারবালের পণ্য উৎপাদের নামে চায়না, আমেরিকা, গুজরাট ইন্ডিয়া, হংকং, ইউকে, কোরিয়া, হাঙ্গেরী ও থাইল্যান্ডের নাম দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ চমৎকার লেবেলে প্যাকেট করে বাজারজাত করা হতো। যার অধিকাংশই ঔষধই যৌন উত্তেজক। কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার গৌতম বনিক রানা স্বীকারপূর্বক জানান, পার্বতীপুর দিনাজপুরের নিউ ভেন্টিস ল্যাব. লি. নামে লাইসেন্সে স্টার ল্যাবরেটরিজ নাম দিয়ে উপজেলার হবিরবাড়ী আমতলী এলাকার মাদুরভিটার নিভৃত পল্লীতে যৌন উত্তেজক হারবাল ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলসহ বিভিন্ন ঔষধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে।
সবশেষ ২৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি আলমগীর হোসেনকে তাৎক্ষণিক তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের জেল এবং ওই প্রতিষ্ঠানের কেমিস্টি হাকিম কামরুজ্জামানকে ১০ দিনের জেল দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রাগ সুপার) এস.এম. সুলতানুল আরেফিন জানান, ওই কোম্পানির ৩৮ প্রকারের ঔষধ তৈরির অনুমোদন আছে। কিন্তু তারা যৌন উত্তেজক ঔষধসহ বিভিন্ন প্রকারের অনুমোদনবিহীন ওষধ বানাচ্ছিলো। কোম্পানির গোডাউন থেকে ৬৮ প্রকারের ঔষধ জব্দ করা হয়। এরমধ্যে বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল আছে ৪০ হাজার পিস। বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু ও লোশন। ১ হাজার পিস চায়না, আমেরিকা, গুজরাট ইন্ডিয়া, হংকং, ইউকে, কোরিয়া, হাঙ্গেরী ও থাইল্যান্ডের নাম দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের যৌন উত্তেজক ওষধ জব্দ করা হয়।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ কামাল জানান, প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটি ওষধের অনুমোদন এনে তারা অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন ঔষধ, শ্যাম্পু ও লোশন বানাচ্ছিলো। তাই তাদেরকে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের জেল এবং ওই প্রতিষ্ঠানের কেমিস্টি হাকিম কামরুজ্জামানকে ১০ দিনের জেল দেওয়া হয়।