| |

কিশোরগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে গৃহবধু জেবিনকে হত্যা

নজরুল ইসলাম খায়রুল : যৌতুকের জন্য গৃহবধু আয়েশা আক্তার জেবিনকে (৩২) নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

পরিবারের দাবি, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হামিদুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী সাবিকুন্নাহার ও বোন শিরিন আক্তার নির্যাতন করে গৃহবধু আয়েশা আক্তার জেবিনকে হত্যা করে।

গতকাল শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান নিহতের পিতা মো. মুর্শেদ মিয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন-নিহতের মা নাঈমা আক্তার নাসিমা, মামা রেজাউল হাবীব রেজা, নারী নেত্রী খুজিস্থা বেগম জোনাকী, ভাই ইমন, দুই সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

নিহতের পিতা মো. মুর্শেদ মিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিয়ের ৩ মাস ২৩ দিনের মাথায় গত ২০ আগস্ট বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কোন এক সময় কালিহাতি থানার হামিদুলের বাসায় যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের সময় জামাই হামিদুলকে নগদ ৮০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে হামিদুল আরো ২ লাখ টাকা দাবি করে। এ টাকা না দেয়ায় জেবিনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে হামিদুল। এক পর্যায়ে তার মেয়ে জেবিনকে কিশোরগঞ্জের তার বাসায় রেখে কর্মস্থলে চলে যায় হামিদুল।

পরে গত ১২ আগস্ট স্বামী হামিদুলের কর্মস্থল কালিহাতি থানায় যায় জেবিন। গিয়ে দেখেন থানার পাশে সাতোটিয়া অরুন চন্দ্র রায়ের ভাড়াটিয়া বাসায় হামিদুল, তার প্রথম স্ত্রী সাবিকুন্নাহার ও ননদ শিরিন অবস্থান করছেন। এসময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের সাথে ঝগড়া হয় জেবিনের। এক পর্যায়ে জেবিনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে ২০ আগস্ট বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কোন একসময়ে জেবিনকে হত্যা করা হয়। পরে হামিদুল মোবাইল ফোনে জেবিনের মাকে জেবিন অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের লোকজন জেবিনের মৃত্যু সংবাদ পান। এসময় পুলিশ মরদেহের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলেছে। এরপর জেবিনের মরদেহ কিশোরগঞ্জ নিয়ে এসে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ হত্যায় জড়িত আসামীদেরকে গ্রেফতার করছে না। হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়ে তদন্ত করতে দাবি জানানো হয়।

এদিকে গত ২৭ আগস্ট নিহত জেবিনের পিতা মো. মুর্শেদ মিয়া বাদী হয়ে কালিহাতি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এএসআই হামিদুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী সাবিকুন্নাহার ও তার বোন শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা (মামলা নং-১৬) দায়ের করেন।