| |

রাজধানীতে গৃহবধূকে অপহরণের পর গণধর্ষণের অভিযোগ : আটক – ১

এনএনবিঃ রাজধানীতে ২০ বছরের এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে অপহরণের পর গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ ওই গৃহবধূকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইমরান হোসেন (২২) নামে লম্পট বখাটে এক ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা এনএনবিকে জানায়, বুধবার দিবাগত রাত ১১টায় ২০বছর বয়সী ধর্ষিতা এক গৃহবধূকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ডাক্তারী পরীক্ষার করাতে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনেন রামপুরা থানা পুলিশ ও তার স্বজনেরা। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষিতার কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্ষিতার বরাত দিয়ে রামপুরা থানার এসআই আব্দুর রশীদ এনএনবিকে বলেন, রামপুরার মোল্লাবাড়ির জামতলা বস্তির একটি কক্ষে গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। ৭ মাস আগে ওই গৃহবধূ ইমরান হোসেন কাজল নামে এক ছেলের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সবুজবাগের একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতেন। বিয়ের দু’মাস পর গৃহবধূ তার স্বামীর সাথে গ্রামের বাড়ি রংপুরে তার শ্বশুরালয়ে যান। কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেয়নি এমনকি তাকে ওই বাড়িতে থাকতেও দেয়নি। পরে স্বামীকে রেখেই তিনি ঢাকায় ফিরে এসে পুর্ব রামপুরায় তার ফুপুর বাসায় উঠেন। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মেনে না নিলেও গভীর প্রেমের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একে অপরের প্রতি অনেক টান ও সম্পর্ক ছিলো। ওই সম্পর্কের টানে ইমরান হোসেন প্রায়ই রংপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় এসে স্ত্রীর সাথে বসবাস করতেন আবার গ্রামে চলে যেতেন। সম্প্রতি তার স্বামী গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। বুধবার ফের তার স্বামী ইমরান হোসেন কাজলের ঢাকার রামপুরায় আসার কথা ছিলো। পুর্ব নির্ধারিত সময়ের আগেই স্বামীকে এগিয়ে আনতে বুধবার সকাল ৮টায় ওই নারী রামপুরা বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখানে স্বামীর অপেক্ষায় থাকাবস্থায় রামপুরার মোল্লাবাড়ির বখাটে অপর যুবক ইমরান হোসেন তাকে অনুসরণ করেন। ঘটনার একপর্যায়ে ইমরান ও তার অপর সহযোগিসহ ৩/৪জন সুযোগ বুঝে জোরপুর্বক তাকে ডেকে অপহরণ করে তুলে মোল্লাবাড়ির জামতলা বস্তি বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বখাটে লম্পট ইমরান হোসেনসহ তার অপর ৩সহযোগি তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। দুপুর ১টা পর্যন্ত তার উপর এমন পৈশাচিকতা চালায় বখাটেরা। ঘটনার একপর্যায়ে তাকে ঘরের ভেতর কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রামে রেখে বাইরে দিয়ে দরজা বন্ধ করে প্রহরায় থাকে লম্পট ধর্ষকেরা। এসময় তিনি সুযোগ পেয়ে দরজার বিপরীতে থাকা ঘরের ভেতরের জানালা খুলে লাফিয়ে পড়ে দ্রুত পালিয়ে ফুপুর বাসায় চলে যান। এরপর ধর্ষিতা ওই গৃহবধূ পুরো ঘটনাটি তার ফুপুর কাছে খুলে বলেন। পরে প্রতিবেশীদের পরামর্শে ফুপুর সহযোগিতায় বুধবার দিবাগত রাত ৮টায় ধর্ষিতা ওই নারী রামপুরা থানায় হাজির হয়ে তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে লম্পট ধর্ষক ইমরান হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মামলা নথিভুক্ত করেন। এরপর ওই মামলায় রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ধর্ষিতা নারীর সনাক্তে পুলিশ ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি লম্পট ধর্ষক ইমরান হোসেনকে আটক করেন। এরপর ধর্ষিতা ওই নারীর জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য মধ্যরাতে তাকে ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি করে পুলিশ। ঘটনার তদন্তসহ জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে এনএনবিকে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা ।