| |

হালুয়াঘাটে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন থানায় মামলা,

হালুয়াঘাট থেকে হুমায়ুন কবীর মানিকঃ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে হিজরা স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের ঘটনায় থানায় মামলা। ঘটনা সুত্রে জানাযায় উপজেলার ধারা ইউনিয়নের কয়রাহাটি লালারপাড় গ্রামের মোঃ জবান আলীর পুত্র নবী হোসেন দুটি বিয়ে করেন। একই গ্রামের ৫ সন্তানের জনক মোঃ মিরাজ আলী (৩৫) থেকে মিনারা খাতুন হিজরা হওয়ায় প্রায় ১ বছর পূর্বে তাকে ৩য় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ধারা বাজার মাঝিয়াইল নামক স্থানে কুতিকুড়ার মৃত নুরুন্নবীর পুত্র ডাঃ জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রায় ৮ মাস যাবৎ ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে।
গত ১৪ নভেম্বর দিবাগত রাতে মিনারা খাতুন নবী হোসেনকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে ভাড়াটিয়া বাসায় । ঘুমন্ত অবস্থায় গভীর রাতে মিনারা খাতুন ধারালো দা দিয়ে তার স্বামী নবী হোসেনের নাকের নীচে সজোরে কোপ দেয়।১৫ নভেম্বর ভোরে স্বামী নবী হোসেন রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের দরজা খুলে দৌড়ে তার নিজ গ্রামে প্রবেশ করে এবং সমস্ত ঘটনা তার পিতার নিকট খুলে বলে। তার পিতা জবান আলী সহ এলাকার লোকজন তাৎক্ষনিক ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থা আসংখ্যা জনক দেখে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসা চলাকালিন অবস্থায় গত ১৯ নভেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
হিজরা মিনারা খাতুনের বড় ভাই মোঃ সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বললে সে জানায় তার ছোট ভাই মিরাজ আলী ওরফে মিনারা খাতুন প্রথমে উপজেলার নড়াইলের তালেব হোসেনের কন্যা মানিকজান ও ২য় শীলঘাটার ফিরোজাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২টি ছেলে ও ৩ টি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। ছেলেরা বিয়ে করলে নাতিনের মূখ দেখেন মিরাজ আলী। হঠাৎ একদিন মিরাজ আলী শাট-লুঙ্গী ছেড়েদিয়ে সেলোয়ার কামীজ ও শাড়ী পরতে লাগলো। এমন কর্মকান্ড দেখে পরিবারের সকলে মিলে দীর্ঘ ৫ বছর পূর্বে তার বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। বেশ কিছুদিন পরে নবী হোসেনের সাথে সর্ম্পক গড়ে উঠে একপার্যায়ে বিয়ে করে বাজারে বাসা ভাড়া করে থাকে। তারপর এই ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে নবী হোসেনর পরিবারের সাথে কথা বললে তারা জানায় নবী হোসেন একই গ্রামের ইমান আলীর কন্যা পারভীন বেগম ও শোয়ারী কান্দার শাবানা খতুনকে বিয়ে করেন। প্রত্যেক স্ত্রীর একটি করে পুত্র সন্তান রয়েছে। ১ম স্ত্রীর পুত্র ইমাইল হোসেন (১২) কে.কে বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরিক্ষার্থী, ২য় স্ত্রীর পুত্র মোঃ সুমন মিয়া (৬) বছর বলে জানাযায়। ৩য় বিয়ে করেন হিজরা মিনারাকে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এস.আই মোঃ হুমায়ুন ঘটনাস্থল থেকে ২টি ধারালো দা, একটি কোড়াল, একটি মোবাইল ফোন, তাদের যৌথ কিছু ছবি ও রক্তাক্ত অবস্থায় একটি লেপ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ভাড়াটিয়া ঘর মালীক ডাঃ জাহাঙ্গীর আলমকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি জানান সকাল ৭টায় সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে হাজির হয়। পরে মিনারাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে জানায় রাতে কোথায় যেন গিয়ে ছিল সেখান থেকে কোপ খেয়ে ঘরে এসেছে। থকন ঘরমালীক মিনারাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এস.আই হুমায়ুনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে জানায় প্রাথমীক তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রেকর্ড করেছি এবং ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত জব্ধকরেছি।