| |

দুর্গাপুরে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে গনেশ্বরী নদীর কালো পাহাড় পাদদেশে হতে পারে একটি মিনি পর্যটক স্পট

মোঃ মোহন মিয়া , দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর কলমাকান্দার ঠিক মধ্য সীমানা ঘেষে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উচু পাহাড় বেষ্টীত এলাকা ভারতীয় রংড়া বিএসএফ ক্যাম্প বাংলাদেশে ১৭৭২ নং পিলার সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজরিত ৭ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি সাত শহীদ মাজার।পাশেই বাংলাদেশে অবস্থিত বিশাল উচু ও সাড়ি সাড়ি কালো পাহার এবং কালো পানির ঝিল। মাঝখান দিয়ে ভারত থেকে বয়ে এসেছে খর¯্রােতা গনেশ্বরী নদী।বর্ষায় এ নদীর রূপ থাকে ভয়াভহ আর শীত মৌসুমে নাব্যতা হারিয়ে হয়ে যায় মন্থর যৌবনে। ভারতীয় ও বাংলাদেশে উপজাতীয় নারী পুরুষদের নদীতে নেমে নদীর সাথে একাকার হওয়ার দৃশ্য মন কেড়ে নিবে সবার। এপাড় ওপাড় যাওয়ার রয়েছে বাশের সাকো এবং ছোট ছোট খেয়া নৌকা। সবাই যেতে পারেন এপার ওপার। ভারতীয় বিএসএফ সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করতে পারেন। ৭ শহীদ মাজারটি রয়েছে সুসজ্জিত। ১৯৭১ সালের পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন নেত্রকোনা জেলার আব্দুল আজিজ, নাগরাড় মোঃ ফজলুল হক, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার ইয়ার মাসুদ, বড় গ্রামের ভবতুস চন্দ্র দাস, দীগেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, মজদিয়া গ্রামের নুরুজ্জামান, ও জামালপুর জেলার জামাল উদ্দিন। পাহাড়ি শাল বনের ছায়ায় মাজারটি ঘিরে রেখেছে। পর্যটকদের আগমন দেখে কালা পাহাড় ও শালবনগুলি যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। শুনতে পারবেন পাহাড়ি পাখ পাখালি রং বেরং পাখিদের কুহু কুহু আওয়াজ। এতে মন কেড়ে না নিবে কার ? পাশে আছে চকলেট বাড়ি একদম ভারত সীমান্ত ঘেষা।এখানে রয়েছে প্রচুর আদিবাসীদের বসবাস।একদম কাছেই ভারতীয় সাড়ি সাড়ি উচু পাহাড়। পাহাড় গুলোতে উঠার বহু রাস্তা তবে বাঙ্গালীরা যেতে না পারলেও আদিবাসীদের যাতায়াতের কোন অসুবিধা নেই। আনতে পারেন ভারতীয় সাবান , চকলেট , চানাচুর , কমলা , আনারস এখানকার ঐতিহ্য ফুলের ঝাড়–।বর্ষায় পর্যটকদের ভীড় কিছুটা কম থাকলেও শীত মৌসুমের শুরুতেই দুর দুরান্ত থেকে আসা পিকনিক পার্টির সমাহার। সরকারী বেসরকারী উচ্চ পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গের ভ্রমন পিয়াসু স্ব – স্ত্রী ও আত্বীয় স্বজনদের ভীড় ও কম নয়। পিকনিক পার্টি ও ভ্রমন পিয়াসু ব্যাক্তিদের নিয়ে তখনি ঘটে যায় মিলন মেলায় যা না আসলে বুঝা যাবে না।
কীভাবে যাবেন ঃ দুর্গাপুর থেকে গেটলক বাস , মিনিবাস , মাইক্রো , সি,এন,জি এবং হোন্ডা যোগে লেঙ্গুড়া বিজিবি ক্যাম্প হয়ে পাকা মেঠো পথ বয়ে প্রায় সাত কিঃমিঃ দুরে ৭ শহীদের মাজার। রাস্তার দুই পার্শ্বে রয়েছে শাল বন গাছ। কিছুদুর যেতেই ৭ শহীদের মাজারের কাছেই প্রথমেই দেখা মিলবে কালো পাহাড় ও কালো পানির ঝিল। প্রতিবছরেই এখানে ঘটে দেশ বিদেশী পর্যটক ও নাজিরপুর যুদ্ধ দিবস পালন উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রায় সকল মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন মেলা।প্রতি বছরেই ৭ শহীদ মাজারে নাজিরপুর , যুদ্ধ দিবস পালন উপলক্ষে বাংলাদেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন মেলা ঘটে এ স্থানে।