| |

মুকুটহীন স¤্রাট নবাব সিরাজউদ্দৌলা নামে খ্যাত’ কিংবদন্তী অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী

জামালপুর প্রতিনিধি॥জামালপুরের কৃতি সন্তান,বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন স¤্রাট ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ নামে খ্যাত, পাক-ভারত উপমহাদেশের কিংবদন্তী অভিনেতা,আনোয়ার হোসেন’ এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী দেখতে দেখতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত। তিনি চলচ্চিত্র জগতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা-বাংলার নবাব নামে খ্যাত পাক-ভারত উপমহাদেশে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
শক্তিমান অভিনেতা আনোয়ার হোসেন ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নজির হোসেন এবং মাতার নাম সাঈদা খাতুন। তিনি তার পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান।
মুকুটহীন স¤্রাট আনোয়ার হোসেন শিক্ষা জীবনে গ্রামের বাড়ি প্রাথমিক শিক্ষা পাঠ চোকিয়ে জামালপুর বকুলতলাস্থা বসবাস করে জেলা স্কুল থেকে ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তী উচ্চ শিক্ষা লাভের আশায় তিনি ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৭ সালে নাসিমা খানম এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিনি ঢাকায় অবস্থান করে বসবাস শুরু করেন। তিনি স্কুল জীবনে আসকার ইবনে শাইখের পদক্ষেপ নাটকে সর্ব প্রথম অভিনয় করেন ।
বাল্য জীবনে নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি অভিনয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। সে সময়কার রূপালী জগতের অন্যতম তারকা ছবি বিশ্বাস এবং কাননদেবী তাদের বিভিন্ন ছবি দেখে মন মুগ্ধ হয়ে রূপালী জগতে আসার প্রবল ইচ্ছ জাগ্রত হয়ে উঠেন।
পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে তিনি সারাজীবন অভিনয় করবেন এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য কোন জীবিকার সন্ধান না করে তিনি সরাসরি তৎকালিন চিত্র পরিচালক মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে উপস্থিত হলেন ।
পরিচালক মহিউদ্দিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুবাদে আনোয়ার হোসেন তার অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করে
অবশেষে তিনি ১৯৫৮ সালে চলচিত্র জগতে ”তোমার আমার ছবিতে” সর্বপ্রথম অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় জীবনে প্রবেশ করেন।
কৃত্বিমান অভিনেতা আনোয়ার হোসেন অভিনয় জগতে অসামান্য অবদান রাখায় স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি মুকুট বিহীন সম্রাট উপাধীতে ভুষিতসহ বিভিন্ন পুরুস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে লাঠিয়াল ছবিতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে প্রথমবারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া পাকিস্থানের নিগার পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, ১৯৮৮ একুশে পদক, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, সর্বশেষে তিনি ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। ঢাকার চলচ্চিত্র (ঢালিউড) জগতে এই কিংবদন্তী অভিনেতা ৫২ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।
সর্বশেষে ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৮১ বছর বয়সে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।