| |

বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজে নানা সমস্যায় বেহাল অবস্থা, শিক্ষক সংকটে বিপাকে শিক্ষার্থীরা!

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি : জামালপুরের বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজী, আইসিটি ও গণিত বিভাগের প্রভাষক না থাকায় এসব শিক্ষার্থীরা দারুনভাবে বিপাকে পড়েছেন। একই সঙ্গে নানা সমস্যার কারণে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কলেজটিতে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বকশীগঞ্জ কিয়ামত উল্লাহ ( কেইউ) কলেজ ১৯৮৭ সালে জাতীয়করণ হয়। কলেজটি জাতীয়করণের পর থেকে শিক্ষক সংকট ও নানা সমস্যায় ভুগছে ।
বর্তমানে সরকারি এই কলেজে একাদশ, দ্বাদশ ও ডিগ্রি পর্যায়ের (¯œাতক ) প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতি বছরই এই কলেজে শিক্ষক সংকট পোহাতে হয়। সম্প্রতি ৩৬ তম বিসিএস ক্যাডারের ৬ কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন।
তিন মাসে আগে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী যোগ দিয়ে তদবির করে কলেজে শিক্ষক আনা সহ কলেজের সার্বিক পরিবেশ বদলানোর চেষ্টা করছেন।
কলেজটিতে বর্তমানে ইংরেজী, বিজ্ঞান বিভাগের গণিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয় , মানবিক বিভাগের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পদের প্রভাষক পদের শূন্য রয়েছে।
এছাড়াও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদটিও দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে।
এই কলেজের প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজও উপাধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি হয়নি।
বিশেষ করে ইংরেজী শিক্ষক না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ইংরেজীতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
যদিও শিক্ষক সংকটের কারণে এমনটা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবুও নতুন শিক্ষকের পদায়ন দেয়া হয়নি।
অপরদিকে এনাম কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী সরকারি কলেজ গুলোতে প্রতিটি বিভাগের অনুকুলে একজন সহকারী অধ্যাপক পদ থাকার নিয়ম থাকলেও এই কলেজে শুধুমাত্র ইসলামের ইতিহাসের একজন সহকারী অধ্যাপকের পদ রয়েছে। বাকি সকল বিভাগে শুধুমাত্র প্রভাষক দিয়ে চলছে।
এতে করে দক্ষ শিক্ষকের আগমন ও তাদের পাঠদানে সুযোগ নিতে পারছে না এই কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মান সম্মত শিক্ষা অর্জনেও ব্যাঘাত ঘটছে তাদের ।
সব চেয়ে বড় সমস্যা হলো এই কলেজে কোনো প্রভাষক যোগ দিলে কারণে-অকারণে আগেই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এতে করে শিক্ষার্থীদেদর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়।
অবিলম্বে বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজে ইংরেজী , গণিত ও আইসিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিয়ে উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী জানান, কলেজের শিক্ষকের শুন্য পদ পূরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জোর তদবির করা হচ্ছে আশাকরি শিগগিরই শিক্ষক পাওয়া যাবে।