| |

টাকার অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে অর্থই এখন বড় বাধা মেধাবী সাজিদার

চয়ন কান্তি দাস,: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় খ ইউনিটে ১৩৮১তম স্থান পেয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদা আক্তার। কিন্তু দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থী টাকার অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে। ২০১৩সালে ধর্মপাশার জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে মানবিক বিভাগে জিপিএ৫ ও চলতি বছরে ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও মানবিক বিভাগে জিপিএ৫পেয়েছিল সাজিদা। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে সুনামের সঙ্গে উত্তীর্ণ হলেও মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে তাঁর দরিদ্র মা বাবার চোখে মুখে বিষন্নতার ছাপ। আগমি ১ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। আর এর জন্য দরকার ১১হাজার টাকা। যেখানে পরিবারটিতে নিত্য দিনের খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েই জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে সেখানে এতো টাকা জোগাড় করে মেয়েকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সাজিদা আক্তারের বাবা আবু তাহের পেশায় দিন মুজুর। বয়সের ভারে ও শারিরীক অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর কাজে যেতে পারেন না। মা গৃহিনী রাজিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সাজিদা পঞ্চম। ্সবার বড় ভাই নজরুল ইসলাম বিয়ে করে নতুন সংসার জীবন শুরু করেছেন গত পাঁচ বছর আগে। পরিবারের সবার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন সপ্তম শ্রেনিতে পড়ছে ধর্মপাশার জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। মেজো ভাই আজিজুলের অটোরিকশা চালিয়ে যা থাকে তার ওপর নির্ভর করেই চলছে তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের ছাপটা ঘরে সাজিদাদের বসবাস। দুটি চৌকি ও হাড়ি পাতিল ছাড়া ঘরের মধ্যে তেমন কিছু নেই। ঘরের বেড়া দেওয়া রয়েছে পাটকাটি দিয়ে। দুটি চৌকি পাতা রয়েছে ঘরের ভেতর। বইপত্র সাজানো রয়েছে চৌকির ওপর। আর সেই ঘরের এককোণে বসেই এতোদিন পড়াশুনা করেছে সে।
সাজিদার মা রাজিয়া খাতুন ও মো.আবু তাহের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাইলেও আমরার তো তারে লেহাপড়া করাইবার হেই সামর্থ নাই। অতদিন স্কুল- কলেজের স্যার ও প্রতিবেশিদের সাহায্য নিয়া মাইডারে লেহা পড়া চইল্যা আইছে । অহন ঢাকা ভার্সিটিক ভর্তি অইতেই ১১হাজার টেহা লাগবো। এর ফরে বই কিনন থাওন কাওন আরও কতো কিছু আছে । কীবায় যে কীতা অইবো তা ভাইবা পাইতাছি না ।
মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদা আক্তার বলেন, আমি এখন দুচোখে অন্ধকার দেখছি। আমার খুবই স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার। টাকার অভাবে সেখানে পড়াশুনা করার স্বপ্ন কী আমার অধরাই থেকে যাবে ? আমার সামনের দিন গুলোতে আমার কপালে কী যে আছে তা ওপর ওয়ালাই জানেন । আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আরও সামনে এগোতে পারি ।
ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো.আব্দুল করিম বলেন, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও সাজিদা আক্তার অত্যন্ত মেধাবী ।ওর পাশে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে ভবিষ্যতে অবশ্যই সে আরও ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস ।