| |

গফরগাঁওয়ে হাসপাতালে নি¤œমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ

গফরগাঁও প্রতিনিধি ঃ
গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর খাদ্য সরবারহে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত পরিমানের কম এবং নি¤œমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ করেছেন রোগীরা। খাবার সরবারহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি চলতি বাজার দরের চেয়ে অবিশ^াস্য কম দর দিয়ে হাসপাতালের রোগীদের খাবার পরিবেশনের কাজটি বাগিয়ে নিয়ে পরিমানে কম ও নি¤œমানের খাবার পরিবেশন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর হাসপাতালের কোনো ওয়র্ডে খাদ্যতালিকা না থাকায় এ নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্যও করতে পারেন না।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিযোগে জানা যায়, রোগীদের সকালের নাস্তায় মেয়াদ উত্তীর্ন একটি পঁচা পাউরুটি ও খাওয়ার অনুপযোগী একটি ছোট কলা দেওয়া হচ্ছে। পাউরুটির ওজন একশত গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও ৫০/৬০ গ্রাম ওজনের লেবেল বিহীন ছোট পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে। দুটি সাগর কলার পরিবর্তে একটি সাগর কলা দেওয়া হচ্ছে। চিকন চালের পরিবর্তে মোটা দেওয়া হচ্ছে মোটা হাইব্রীড চালের ভাত। প্রতি রবিবার, মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার সপ্তাহে চারদিন দুবেলা করে ব্রয়লার মুরগির ছোট্র একটি টুকরা দেওয়া দেওয়া হয়। দুবেলা সরবারহ করা মাংসের পরিমান সর্বোচ্চ ৭০ গ্রাম। সিডিউল মোতাবেক দুবেলায় খাসির মাংস কমপক্ষে ৩৫০ গ্রাম অথবা দেশী মুরগীর ৪৭০ গ্রাম মাংস দেওয়ার কথা। অন্য তিনদিন সরবারহ মাছের পরিমানও খুবই কম।
হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী উপজেলার পুখুরিয়র গ্রামের সেলিম (৬০), হাটুরিয়া মাসুদ মিয়া (৫০)সহ একাধিক রোগীর কথা বলে জানা যায়, সরবারহকৃত খাবারের মান এতই খারাপ যে রোগীরা তো দূরের কথা, স্বজনরাও মুখে নিতে পানে না। রোগীর স্বজন বাহার উদ্দিন (৬৩), নূরুল আমিন (৪৩) বলেন, খাবারের মান অত্যন্ত নি¤œমানের হওয়ায় অনেকেই এ খাবার নেন না। বাইরে থেকে খাবার কিনে এনে খান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি এন্টারপ্রাইজ চলতি বাজার দরের চেয়ে অস্বাভাবিক কম দর দিয়ে এই হাসপাতালে খাদ্য সরবারহের কাজটি বাগিয়ে নেয়। খাসীর মাংস বাজারে বর্তমানে ৭’শ টাকা থেকে ৭’শ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২০০ টাকা কেজি দরে খাসীর মাংস সরবারহ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানায়, অস্বাভাবিক কম দর দিয়ে কাজটি বাগিয়ে নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত পরিমানের কম এবং নি¤œমানের খাবার পরিবেশন করছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল গনি বলেন, এ হাসপাতালের রোগীদের সিডিউল মোতাবেক খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলম আরা বেগম বলেন, অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে পরিবেশন করা খাবারের মান অনেক ভাল। রোগীদের উন্নত মানের খাবার সরবারহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।