| |

মওলানা ভাসানী আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিরদিন আমাদের মাঝে থাকবেন …ডা. কামাল হোসেন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ও গণ ফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সকলেই আমরা যাকে শ্রদ্ধা করি। এখানে জনগনের পক্ষে যত আন্দোলন, সংগ্রাম হয়েছে। সবকটিতে আমাদের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মওলানা ভাসানী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে তার মূল নেতৃত্বে ছিলেন মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি আমাদের নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুরু। তার আত্মার মাগফেরাত কামনার জন্য আমরা মাজারে এসেছি। আমি মনে করি মাওলানা ভাসানী আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিরদিন আমাদের মাঝে থাকবেন। আমরা যে কাজ করে যাচ্ছি তা হলো সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও অসহায় মানুষদের জন্য। তিনি যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, প্রেরণা দিয়ে গেছেন তা আমাদের চলার পথকে সহজ করে দিয়েছে। আমরা মনে করি টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী মাজার থেকে সারা বাংলাদেশে এ প্রেরণার আলো ছড়িয়ে যাবে।

শনিবার সকালে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইলের সন্তোষ মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

টাঙ্গাইলের সন্তোষে এসে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। স্থানীয় সাংবাদিকরা সকাল থেকেই ড. কামালের অপেক্ষায় ছিলেন। সাংবাদিকসহ উপস্থিতিদের ধারণা ছিল ড. কামাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জোড়ালো বক্তব্য দিবেন।

তবে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আজ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য নয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, গণ ফোরাম নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ।

এর আগে সকাল ৯টা ৪০মিনিটে ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এরপর মাজার প্রাঙ্গণে আসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, শেখ মুজিব, মওলানা ভাসানী ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস নয়। আজকে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে।

এদিকে ভাসানীর মৃত্যু দিবসে শনিবার ভোর থেকেই সন্তোষে জনতার ঢল নামে। তার অসংখ্য মুরিদান ও ভক্তদের কন্ঠে যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী স্লেগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে মজলুম জননেতার সমাধিস্থল টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাজার প্রাঙ্গন।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাওলানা ভাসানীবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

এরপর থেকেই মাজারে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মরহুমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়ছ।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে (১৭ নভেম্বর) ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।