| |

ঝিনাইগাতীতে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় ৩০০ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ অনিশ্চিত!

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা-২০১৮ তে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছিল। তন্মধ্যে অনুত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী। মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল। এর ফলে ওই ৩০০জন শিক্ষার্থী আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারছে না। তাই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর পড়া-লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
উপজেলার ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা-২০১৮ তে ঝিনাইগাতী সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮৫ জনের মধ্যে ৮৫ জন, রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৯ জনের মধ্যে ৫ জন, হাজী অছি আমরুনেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৩ জনের মধ্যে ৪ জন, মালিঝিকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২১৫ জনের মধ্যে ২২ জন, পাইকুড়া এ আর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৩ জনের মধ্যে ১৯ জন, ঘাগড়া দক্ষিণপাড়া এফ রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭৪ জনের মধ্যে ১৩ জন, আহাম্মদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৫ জনের মধ্যে ৩ জন, আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৯ জনের মধ্যে ৩৯ জন, বনগ্রাম হাফেজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮২ জনের মধ্যে ১ জন, বনগাঁও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১০ জনের মধ্যে ৩ জন, একতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০ জনের মধ্যে ৮ জন, চেঙ্গুরিয়া আনসার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৫ জনের মধ্যে ৩৫ জন, বাকাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ জনের মধ্যে ২৫ জন, শালচূড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৬ জনের মধ্যে ১৪ জন, গুরুচরণ দুধনই উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ জন, মরিয়মনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ জনের মধ্যে ৬ জন, ভারুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জনের মধ্যে ৬ জন, ধানশাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জনের মধ্যে ৬ জন শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ম্যানেজিং কমিটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর পাবলিক পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক-দুই বিষয়ে ফেল করলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জরিমানা দিলেই নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস দেখিয়ে দেওয়া হতো। তাই নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে এমন সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষে নাম মাত্র পাঠদান করিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। আর প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় ফেল করানো হয়।
ঝিনাইগাতী সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিবাবক মোশারফ, রফিক, বাদল, বিল্লালসহ অনেকেই জানান, তাদের ছেলে-মেয়েরা বেশির ভাগ গণিত ও ইংরেজীতেই ফেল করেছে। দুই বছর ধরে একটি বই (বিষয়) পড়ানোর পরেও যদি টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় ফেল করে শিক্ষার্থীরা। তাহলে মাষ্টাররা (শিক্ষক) শিক্ষার্থীদের কি পড়া-লেখা করায়ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, সরকারী পরিপত্র মেনে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হচ্ছে। এর বাহিরে কোন সুযোগ নেই।