| |

নকলায় সাড়ে ১৬ হাজার ইঁদুর নিধন

মুহাম্মদ হযরত আলী:
‘ঘরের ইঁদুর মাঠের ইদুর ধ্বংস করে অন্ন, সবাই মিলে ইঁদুর মারি ফসল রক্ষার জন্য’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে দেশব্যাপী চলেছে জাতীয় ইদুর নিধন অভিযান। এই ইদুর নিধন অভিযানের অংশ হিসেবে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় চলছে ইদুর নিধন অভিযান কার্যক্রম।

উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের ভূরদী খন্দকারপাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যান সংস্থার সব কৃষক সদস্যরা দিনের অন্তত ২ ঘন্টা ইঁদুর নিধনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ঐ সংস্থার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা গত বছর (২০১৭ সালে) এক দৈনিক পত্রিকা মারফত জানতে পারেন, কোন এক কৃষক সংগঠন সর্বোচ্চ সংখ্যক ইদুর মেরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক পুরুস্কৃত হয়েছে। এটা দখে তারা উদ্বুদ্ধ হয়। পরবর্তী তাদের সাপ্তাহিক সভায় তারাও ইদুর নিধনের জন্য সর্বসম্মতীক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকেই শুরু হয় তাদের ইদুর নিধন কার্যক্রম। ইদুর নিধনে তারা নকলায় রেকর্ট গড়তে চায়।

সংস্থার রেজিষ্ট্রারের তথ্য মতে, গত বছরের (২০১৭ সালের) আগষ্ট মাস থেকে ভূরদী খন্দকারপাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যান সংস্থার সদস্যরা ইদুর নিধন শুরু করে চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬৫৪টি ইদুর মেরে এলাকার কৃষকসহ সবার মনে আলোচনার ঝড় তুলেছেন।

ইদুর নিধনের পরে এসব ইঁদুর ধ্বংস করার বিষয়ে সংস্থার সাধারন সম্পাদক হেলাল উদ্দিন জানান, ইদুর মারার পরে সংস্থার রেজিষ্ট্রারে দিন তারিখ উল্লেখ করে ইদুরের সংখ্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে রাখেন। তাদের সাপ্তাহিক সভায় এক সপ্তাহে যে কৃষক সদস্য সর্বোচ্চ সংখ্যক ইদুর মারেন তাকে সংস্থার পক্ষ থেকে স্বাদ্যানুযায়ী পুরষ্কৃত করা হয়

নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ভূরদী খন্দকারপাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যান সংস্থার বছরব্যাপী ইদুর নিধন অভিযানের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তাদের দেখাদেখি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত কৃষক সংগঠনের সদস্যরাও ইদুর নিধনের কাজ হাতে নিয়েছেন বলে জানান মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাগন। ইদুর নিধনের জন্য ওই কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যান সংস্থার কৃষকদেরসহ উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মাঝে ইদুর মারার যন্ত্র বা বিষ টোপ বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।