| |

সৈয়দ আশরাফকে শেষ দেখার অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জবাসী

নজরুল ইসলাম খায়রুল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে সংবাদ মাধ্যমে তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রচারের সাথে সাথে কিশোরগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো কিশোরগঞ্জবাসী। সৈয়দ আশরাফের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রাতেই শহরের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ভিড় জমান। সৈয়দ আশরাফের পৈতৃকবাড়ি সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের যশোদল-বীরদামপাড়া গ্রামের মানুষ শোকে একেবারেই মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। স্বজন ও এলাকাবাসী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে শেষবারের মতো দেখার জন্যে অপেক্ষা করছে তাঁর নির্বাচনি এলাকা সদর ও হোসেনপুর উপজেলার মানুষসহ পুরো কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এলাকায় সৎ আদর্শবান ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিতি ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এলাকাবাসী তাকে একেবারেই কাছে পেয়েছে। বাড়িতে এলে স্বজন ও এলাকাবাসীর খোঁজ-খবর নিতেন তিনি। সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে এলাকাবাসী গর্বিত ছিল। ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে বেশ কয়েক মাস ধরে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাকে। অনুপস্থিতিতেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শুধু দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকরাই নন, সাধারণ মানুষও শোকে মুহ্যমান। প্রিয় অভিভাবককে হারানোর বেদনা সবার মাঝে। সবার একটাই কথা, সৈয়দ আশরাফের শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়। এ ক্ষতি অপূরণীয়। হয়তো কোনোদিন পূরণ হবার নয়।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্বজন সৈয়দ পারভেজ হাসান জানান, তার চাচা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাড়িতে এলে তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। চাচার এই অকাল মৃত্যুকে এলাকাবাসী কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তাঁকে শেষ বারের মতো দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজল জানান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে দেশবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি খুবই নির্লোভ, সৎ ও আদর্শবান নেতা ছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান জানান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুর্দিনে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশবাসী একজন ত্যাগী নেতাকে হারিয়েছে।