| |

ধর্মপাশায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা মুল্যের সরকারি তিনটি রেনটি গাছ কর্তন করার অভিযোগ

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা সরকারি কলেজের উত্তরপাশে সওজের সড়ক সংলগ্ন সরকারি জায়গা থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা মুল্যের তিনটি রেনটি গাছ সমুলে কেটে সাবার করা হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ সরকারের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার সকাল দশটা থেকে শুক্রবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত স্থানীয় ২-৩জন শ্রমিক এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপাশা সরকারি কলেজের খানিকটা উত্তরপাশে এই সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কটির অবস্থিত। ওই সড়ক লাগোয়া উত্তর পাশের অংশে বেশ কয়েকটি রেনটি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধলক্ষাধিক টাকা মুল্যের তিনটি রেনটি গাছ কেটে ফেলার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ২-৩জন শ্রমিক নিয়োজিত করেন উপজেলার কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ সরকার। তাঁর নির্দেশে শুক্রবার বিকেল তিনটার মধ্যে এই গাছগুলো কেটে গাছের কাঠের ঠুকরো ও ডালপালাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলার সওজের যাবতীয় কার্যক্রম গত তিনবছর ধরে নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,এই তিনটি রেনটি গাছই সরকারি জায়গায় পড়েছে। কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ সরকার এলাকায় খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি আইন কানুনের কোনোরকম তোয়াক্কা না করে এই তিনটি গাছ কেটে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ সরকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সঠিক নয়। আমি সরকারি কোনো গাছ কাটিনি। এই তিনটি রেনটি গাছই আমার নিজের হাতের লাগানো। সড়ক হওয়ার আগেই আমি এই গুলো লাগিয়েছিলাম। আমি নিজে এই গাছগুলো আমার জায়গায় লাগিয়েছিলাম, তাই কাটার সময় কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন,সওজের সড়ক লাগোয়া সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন,ধর্মপাশায় সওজের সড়ক সংলগ্ন সরকারি গাছ কাটার ঘটনাটি আমাকে কেউ জানায়নি। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##