| |

ধর্মপাশায় সড়ক ও ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে চলছে মাছ শিকার,জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের এলজিইডির ঘুলুয়া- রাজাপুর পাকা সড়কের চারটি স্থানে ও একই ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে গত এক মাস ধরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীরা স্থানীয় জেলেদের দিয়ে সেখান থেকে মাছ শিকার করে আসছেন। এতে করে আসন্ন বোরো আবাদ নিয়ে এখানকার কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন বিষয়টি জানলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না । এ নিয়ে এলাকার নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাস খানেক আগে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল হুদা চৌধুরী রাসেল, আওয়ামী লীগ কর্মী শাহজাহান মিয়া, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আমিন অপু, যুবলীগ কর্মী জুবায়ের, শাহাজুল মিয়া ও আবুল খায়েরের নেতৃত্বে ২০থেকে ২৫জন মাছ ধরার সুবিধার্থে ওই ইউনিয়নের এলজিইডির ঘুলুয়া-রাজাপুর সড়কের রণখালী নামক স্থানের পাকা সড়কের চারটি স্থানে শাবল দিয়ে সড়ক ভেঙ্গে ও একই ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী গ্রামের সামনে ফসলরক্ষা বাঁধ কোদাল দিয়ে কেটে পানি প্রবাহের জন্য নালা তৈরি করেন। সেখানে তাঁরা স্থানীয় জেলেদের দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাছ শিকার করে আসছেন। এতে করে জন ও যান চলাচলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে এসেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এতে সম্পৃক্ত খাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের মেউহারী গ্রামের কৃষক আলতাব মিয়া (৬০) বলেন, সড়ক লাগাইল ধারাম ও চন্দ্র সোনার থাল হাওরে কৃষকের শত শত একর জমি রয়েছে। সড়ক ও বান কাইট্টা সরকারি দলের নেতাকর্মীরা কামডা ভালা করছইন না। সাধারণ মাইনসের লাইগ্যা কী দেশো কুনু আইনকানুন নাই। এই আকামডা করার লাইগ্যা হেরার (আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের) নেতাকর্মীরার কী কুনু শাস্তি পাইত না।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোকাররম হোসেন জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সড়ক ও বাঁধ কেটে মাছ শিকার করায় জন ও যান চলাচলে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বোরো আবাদ নিয়েও কৃষকেরা হুমকির সম্মুখীন। আমি এ নিয়ে বাধা দিলেও প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতায় তাঁরা এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় জড়িতরা সরকারি দলের নেতাকর্মী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি জানলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে আুইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২২নভেম্বর উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি এ নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে গত বুধবার চিঠিও পাঠিয়েছি।