| |

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে ময়মনসিংহে শোকের ছায়া

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সৈয়দ আশরাফ একটি নাম, একটি পরিচয়। যার চরিত্র মেঘমুক্ত আকাশের মত স্বচ্ছ। লক্ষ শতকোটি তারকার মত আলোকিত। যার ঝুড়ি মেলে না। নিপাট ভদ্র, বিনয়ী ও সজ্জন স্বভাবের সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ স্পর্শ করেছে কাছের মানুষ থেকে দূরের মানুষকেও। বিশেষ করে তাঁর শৈশবের স্মৃতিঘেরা শহর, যেখানে ১৯৫২ সালে জন্মেছিলেন তিনি, সেই নগরীতে এখন শোকের ছায়া। তাকে ঘিরে শোকস্তব্ধ বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ দেশের সব প্রান্তর।
স্মৃতিকাতরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহকর্মীরা। সবাই বলছেন, মুখে যা বলতেন তাই বিশ্বাস করতেন ভেতরেও। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করা নীতিবান এই মানুষটি আদর্শ, সততা ও মানবিক গুণাবলীর কারণেই জনপ্রিয় ছিলেন ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশেই।
বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২ টার দিকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বেগম রওশন এরশাদ শোকস্তব্ধ কন্ঠে তিনি বলেন, ‘সততার মূর্ত প্রতীক ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
সৈয়দ আশরাফ যখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তখন ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ।
এদিন রাতে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফ নীতিতে অটল থাকতেন। তাকে আপন ভাইয়ের মতো আদর করতেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখিন হলো। যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের সহকর্মী আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি হামিদুল হক বলেন, ‘রাজনীতিতে এতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও নিজেকে কীভাবে সৎ রাখা যায়, সেই দিকটিই আমাদের দেখিয়ে গেছেন সৈয়দ আশরাফ। সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করতো।’
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল স্নেহময়ী চাচা’র মতো আশীর্বাদ পেয়েছেন সৈয়দ আশরাফের।
বাবেল গোলন্দাজ বলেন, ‘নিজের স্বকীয়তা, ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক গুণাবলী দিয়ে সবার মন জয় করেছিলেন তিনি (সৈয়দ আশরাফ)। মেধায়-প্রজ্ঞায় তিনি ছিলেন অনন্য এবং অসাধারণ। নীরবে তিনি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। নীরবেই তিনি চলে গেছেন।’
সাবেক ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর খবরে শোক বিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি বলেন একজন গতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হারালো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তাঁর মৃত্যুকে কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না, তাঁরপরও এই কঠিন সত্যের মধ্য দিয়ে আমাদের সকলকে একদিন গমন করতে হবে।
এদিকে তাঁর মৃতুতে ময়মনসিংহে সর্বস্তরের নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট জহিরুল হক খোকা এবং ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ ও জাতি আজ রাজনীতির এক বিরল ব্যক্তিত্ব হারালো। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তার বিশস্ত এবং সৎ একজন সহকর্মীকে হারালেন। সম সাময়িক বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বাধিক আলোচিত একজন ন্যায়নীতি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন।
বিবৃতিতে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামূল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত গভীর শোক প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন প্রজন্ম একজন্য যোগ্য উত্তরসূরী ও পথ প্রদর্শককে হারালো। যা জাতির জন্য দূর্ভাগ্যজনক।
সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ জানান, শোকাহত সৈয়দ পরিবারের সাথে আজ আমরাও শোকাহত। পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি জানান সমবেদনা। কায়মনো বাক্যে সৈয়দ আশরাফের শান্তি ও বেহেস্ত কামনা করেন ময়মনসিংহের জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।