| |

ফুলবাড়ীয়ায় বাবুগঞ্জ ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিলক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো অফিস : তাল পাতার ছাউনি থেকে এখন হাফ বিল্ডিং রূপান্তরিত হয়ে বাবুগঞ্জ ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে পড়া লেখা করছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার ৮নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের দানবীর মরহুম মির্জা শামছ উদ্দিন, কলিম উদ্দিন সরকার, নছিম উদ্দিন, মির্জা আব্দুস সামাদ, মির্জা ময়েজ উদ্দিন গংরা ১৯৭৬ সনে আরবি/কুরআন শিক্ষার মক্তব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন বাবুগঞ্জ মাদ্রাসা। আমন ধানের আবাদী ফসল কেটে তাতে কিছু মাটি ভরাট করে তাল পাতার ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে মাদ্রাসাটির যাত্রা শুরু। সময়ের বিবর্তন ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ‘বাবুগঞ্জ ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা’ নামে কার্যক্রম শুরু করে- ১৯৮৩সালে প্রথম এমপিও ভুক্ত হয়। ৬০হাত লম্বা টিনের ঘরটি দিয়েই দাখিল স্তরের কার্যক্রম শুরু। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সময় স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ পরিচালনা কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে যেমনটি উন্নয়ন হওয়ার প্রয়োজন ছিল সে অনুপাতে উন্নয়ন হয়নি। দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ১ম শ্রেণী হতে ১০ম শ্রেণীতে পর্যন্ত ৩২০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কয়েক বছর আগেও সামান্য বৃষ্টিতে মাদ্রাসা মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ফুলবাড়ীয়া এডিপি’র সহযোগিতায় ২০১০সালে মাঠে মাটি ভরাটের কাজ করায় এখন আর আগের মতো পানি জমে না। ২০০২সালে এ প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম ইটের ছুঁয়া লাগে। বর্তমান মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সঠিক নেতৃত্বে মাদ্রাসায় আমুল পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয় অধিবাসী ও কর্মরত শিক্ষকরা দাবী করেছেন।
মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন উনবিংশ শতাব্দীতে আমরা যখন লেখাপড়া করতাম তখন একটা দু’চালা টিনের ঘর ছিল। এখন অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকরা জানিয়েছেন প্রথম দিকের এমপিও’র এরিয়া বিলের সিংহভাগ টাকাই মাদ্রাসার অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য খরচ করেছেন। ২০০৯সনের আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নেন স্থানীয় মির্জা মো. কামরুজ্জামান (দুলাল)। তিনি দায়িত্ব নেবার পর থেকে তার সদস্যদের সহযোগিতায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অনুদানের টাকায় ৫১ ও ৫৬হাত মোট ১০৭হাত লম্বা চারচালা টিনের ২টি হাফ বিল্ডিং নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করেছেন।
তবে ঘরের প্লাস্টার, দরজা-জানালার কাজ বাকী রেখেই ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
সুপার মো. আলী আকবর জানান উত্তর পার্শ্বে প্রতিষ্ঠাকালীন ৫২হাত লম্বা একটি ঘর একোবারেই জরাজীর্ণ যে কোন মহুর্তেই ধসে গিয়ে মারাতœক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে সেখানে ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি মির্জা মো. কামরুজ্জামান (দুলাল) প্রতিষ্ঠানটির কিছু সমস্যা দরজা, জানালা, স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট, সুপীয় পানির ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় অধিবাসী ও কর্মরত শিক্ষকরা জাতীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের কান্ডারী আলহাজ্ব মো. মোসলেম উদ্দিন এ্যাডভোকেটর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।