| |

শ্রীবরদীতে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে হাসি

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি:

শ্রীবরদী উপজেলায় চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছে স্থানীয় চাষিরা। মাঠে প্রান্তরে যেদিকে চোখ যাচ্ছে হলুদ রঙের সরিষা ফুলের চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সাজে হৃদয় মন তৃপ্ত হয়ে যায়। দিগন্ত জোড়া মাঠে এখন শুধুই হলুদের সমারোহ। সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় উপজেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। স্বল্প খরচে অল্প সময়ের মধ্যে সরিষার উৎপাদন বেশি হয়। দিন দিন শ্রীবরদীতে সরিষার আবাদ বাড়ছে। অপরদিকে সরিষার ফুল থেকে মৌমাছিসহ বিভিন্ন পোকা-মাকড়, পাখির গুণ গুণ শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহের দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারি সরিষা-১৪ বেশি চাষ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা। এছাড়া সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, নিড়ানী ও কীটনাশকের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। স্বল্প সময়ে কম খরচে সরিষা চাষ করা যায়। সরিষার আবাদের ফলে জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। কিছু দিন পরেই শুরু হবে ক্ষেত থেকে সরিষা তুলার কাজ। আমন ও বোরো আবাদের মাঝে যে সময় থাকে সেই সময় জমি পতিত পরে থাকে। ওই পতিত জমিতে স্বল্প সময়ে সরিষা চাষ করা হয়। এতে করে অধিক লাভবান হয় কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১ হাজার ৩ শত ১০ হেক্টর জমিতে। উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষের জন্য কৃষি প্রনোদনার আওতায় উপজেলার ৭ শত চাষির মাঝে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার বিরতণ করা হয়। এবার এই উপজেলায় বারি সরিষা-১৪ সহ, বারি-১৫, ১৭, বিনা-৯, ১০ এবং স্থানীয় টরি-৭ জাতের চাষ করা হয়েছে। প্রতি বছরই শ্রীবরদীতে সরিষার আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা বোর ধানের জামিতে আগাম এই ফসলের চাষ করে কৃষকরা অতিরিক্ত মুনাফা ঘরে তুলছেন।
কৃষক মাহমুদুল হাসান, ধলা মিয়া, জেসমিন আক্তার, আব্দুল মোতালেব, সোহরাব আলী, মটকু মিয়া’র সাথে কথা হলে তারা জানান, সরিষা মৌসুমে ধান চাষের উপযুক্ত জমিতে আমরা সরিষার আবাদ করছি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছি। কম খরচে সরিষা চাষে অধিক লাভ করা যায়। অপরদিকে সরিষা তুলার পর আবার সেই জমিতে বোর ধান রোপণ করা যায়। এতে করে আমরা অধিক লাভবান হচ্ছি। এছাড়াও স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে আমাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ নাজমুল হাছান জানান, এবার এ উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি সরিষা-১৪ আবাদ বেশি হয়েছে। আমন ধান ও বোর ধান চাষের মাঝের সময়টাতে জমিগুলো পতিত পরে থাকে। আমন ধান কাটার পর কৃষকরা সেই জমিতে সরিষা চাষ করে ৭৮-৮০ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে তুলে। কম খরচে স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। এরপর আবার সেই জমিতে কৃষকরা বোরো ধান আবাদ করে। আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়ের পতিত জমিতে সরিষা চাষ করায় একদিকে যেমন জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় অপরদিকে কৃষকরা অধিক লাভবান হয়।