| |

জামালপুরে এসএসসি পরীক্ষা ২০১৮সালের প্রশ্ন দিয়ে ৩ কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহন॥ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এসএম হালিম দুলাল জামালপুর প্রতিনিধি॥জামালপুর সদর উপজেলার তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২০১৮সালের প্রশ্ন দিয়ে ২০১৯সালে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওইসব কেন্দ্রে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। গত ফেব্রুয়ারী শনিবার এ ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব এবং পরীক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া এলাকার বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫৯ জন ও তুলসীপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে ২০১৮সালের গত বছরের প্রশ্ন দেওয়া হয়। প্রশ্ন পাওয়ার ২৫ মিনিট পর, পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারে এটা এ বছরের প্রশ্ন নয়, গত বছরের প্রশ্ন। পরে শিক্ষকদের জানানো হলে তরিগড়ি প্রশ্ন পরিবর্তন করে বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে তুলসীপুর উচ্চবিদ্যালয়ে গত বছরের প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে সদর উপজেলার হাজিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন দেরিতে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের দেরিতে প্রশ্ন দেওয়া হলেও তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। ফলে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে বিক্ষোভ করেন। কেন্দুয়া বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৯সালের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এস.এস.সি পরীক্ষার্থী সিফাত হোসেন বলেন, আমি বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বিজ্ঞান ভবনের ২য় তলায় ০২নং কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। কক্ষের দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিদর্শক আমাকে বাংলা ১ম পত্রের ২০১৮সালের প্রশ্নপত্র দেন। বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষাটি বাতিলের দাবীতে কেন্দ্র সচিবের কক্ষের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দুয়া কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কন্ট্রোল রুম থেকে প্রশ্নপত্র ভালো ভাবে না দেখে পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে তা সরবরাহ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কক্ষ পরিদর্শকেরও এটা দেখে শুনে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করার দরকার ছিল। এটা আমাদের উভয়েরই ভুল হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ও রশিদপুর ইউনিয়নের তুলসীপুর উচ্চ বিদ্যালয় এস.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র একই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউ.এন.ও ফরিদা ইয়াছমিন বলেন,বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন,বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। যে সকল কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের ২০১৮সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাদের রোল নম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণের মাধ্যমে তাদের খাতা আলাদা ভাবে মূল্যায়ণের কথা বলেছেন তারা।