| |

গফরগাঁওয়ের সেনা সদস্য কাজল হত্যাকান্ডের মুলহোতা চাচা মালেক সিআইডির হাতে গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জেলার ত্রিশালে সেনা সদস্য রফিকুল ইসলাম ওরফে কাজল হত্যাকান্ডের মুলহোতা মাহবুব অর রশিদ ওরফে মালেককে ময়মনসিংহ সিআইডি পুলিশ গতকাল ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারকৃত মালেক পুলিশকে জানায় সে তাঁর ভাতিজা সেনা সদস্য কাজলকে হত্যার সাথে জড়িত। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার দাওয়াধাইর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রংপুর সেনানীবাহিনীতে কর্মরত রফিকুল ইসলাম কাজল ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে তারই আপন চাচা মাহবুব অর রশিদ ও তার ভাড়াটিয়াদের হাতে খুন হন। গত ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল সকালের যেকোন সময়ে কাজলকে ছুরিকাঘাতসহ দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ত্রিশালের রায়ের গ্রামে একটি ধান ক্ষেতে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা রাজ্জাক তার অপর ভাই খালেকের সহায়তা ও নির্দেশনা মতে ১৮জনকে আসামী করে ত্রিশাল থানায় মামলা-২৮ তাং ২০/৪/১৫ দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে ত্রিশাল থানা পুলিশ এবং পরে সিআইডি পুলিশের একজন এসআই তদন্ত করেন। দীর্ঘ তদন্তে মামলার এফআইআরভুক্তদের উল্লেখিত মামলায় কোন ধরণের সম্পৃক্ত খুজে না পেয়ে মামলাটির মুল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ পরিদর্শক শেখ নাসিম হাবিবকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শেখ নাসিম হাবিব তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত খোরশেদ ওরফে ফারুককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ফারুক সিআইডি পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তার নিজের সম্পৃক্ততাসহ খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এ সময় কাজল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্যদের নাম প্রকাশ করে গত ২২ নভেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ফারুকের জবানবন্দি মতে জানা গেছে, সে মাস্টারবাড়ী স্কয়ার ফ্যাক্টরীতে কাজ শেষে গেটে বের হলে মালেক, আসাদ, আহাম্মদ, জহুর, আমির, খালেকসহ অজ্ঞাতনামারা তাঁর কাছে যায়। এ সময় উল্লেখিতরা নিজেদেরকে ডিবির লোখ পরিচয় দিয়ে রফিকুল ইসলাম কাজলের কাছে ফারুককে যেতে বলেন। তাদের কথামতো গাড়ীতে উঠে শ্রীপুরের রঙ্গিলা বাজারে যান। রঙ্গিলা বাজারে গেলে উল্লেখিতচক্রটি ফারুককে ভয় দেখিয়ে কাজলকে ফোন দিতে বলেন। এতে সে ভয় পেয়ে ফোন দেন এবং ফোন পেয়ে কাজল রঙ্গিলা বাজারে আসে। এ সময় ফারুক নিহত কাজলকে দূর থেকে দেখিয়ে দিলে চক্রটির মালেক, আসাদ, জহুর, খালেক, আহাম্মদ ও আমিরসহ কয়েক সদস্য তারা আইনের লোক পরিচয়ে থাবা দিয়ে ধরে গাড়ীতে তুলে নেয়। পরে পৃথক দুটি গাড়ীযুগে কাজলকে নিয়ে ত্রিশালের রায়ের গ্রামে গেলে সেখানে মালেক, খালেক ও কাজলের সাথে মালেকের মেয়ে নিয়ে পুর্ব আক্রোশের জের ধরে সেনা সদস্য কাজলকে হত্যা করা হয়। এ সময় ফারুক আদালতে আরো বলেন, সেনা সদস্য কাজলকে প্রথমে তারই আপন চাচা মালেক ছুরি দিয়ে কাজলের থুতনির নীচে আঘাত করে। এ সময় আসাদ দা দিয়ে কাজলের মাথায় এবং আমির তার চোখে রড দিয়ে ঘাই মারে। এ সময় অন্যান্যরা কাজলকে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। নিহত কাজলের পিতা রাজ্জাক বলেন, তার ছেলেকে হত্যার পর ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে খালেক ১৮ জনের নামে মামলা করতে বলে এবং তার কথায় মামলা করি। সিআইডি পুলিশ বিশদ তদন্তশেষে তার ছেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে এবং মুলহোতা মালেককে গ্রেফতার করেছে। তিনি অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারসহ মালেকের কঠোর শাস্তি মৃত্যুদন্ড কামনা করেন। এ সময় নিহতের ভাইন নয়ন জানান, মালেক চাচা হয়ে তার ভাতিজা আমার বড় ভাইকে হত্যা করেছে। তার সর্ব্বোচ্য শাস্তি চাই। সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক শেখ নাসিম হাবিব জানান, কাজল হত্যা মামলার অন্যতম আসামী খোরশেদ ওরফে ফারুক আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ঘটনার মুলহোতা মাববুব অর রশিদ ওরফে মালেকের নাম প্রকাশ করে। মালেক ঢাকা ওয়াসার পাম্প অপারেটর হিসাবে ইকরা মসজিদ এলাকায় কাজ করে। গতকাল সোমবার তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।