| |

ফুলবাড়ীয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা আতœসাত

মো: আব্দুস ছাত্তার : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় এনায়েতপুর ফাজিল মাদ্রাসার মৃত শিক্ষকের কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সোনালী ব্যাংক আছিম বাজার শাখা, কেশরগঞ্জ বাজার শাখা ম্যানেজারের যোগসাজসে দাদন ব্যবসায়ী আতœসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর ৩ বছর পর চেক ইস্যু, রেজিস্ট্রারে এন্টি না থাকা, অন্য শাখা হতে ওয়ারিশান বাদে তৃতীয় ব্যক্তির টাকা উত্তোলন, পরিবারের কাছে তথ্য গোপন এসব সংঘবদ্ধ একটি চক্রের কাজ হতে পারে বলে মনে করেন মৃত শামসুদ্দিনের পরিবার, কর্মস্থল এনায়েতপুর ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও ভক্তবৃন্দ। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্টরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।
অভিযোগের আলোকে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ গ্রামের (মুন্সী বাড়ী) মো. শামসুদ্দিন সহকারী মৌলভী পদে ১৯৮২ সালে ১১ ডিসেম্বর চাকুরীতে যোগদান করে ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি কর্মদিবস শেষ করেন। তার ব্যাংক হিসাব নং- সঞ্চয়ী ৩৩০২১০০০০৪৯৪০ সোনালী ব্যাংক আছিম বাজার শাখা। ২০১৫ সালের ৯ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে ২ স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে যান। শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাওয়ার জন্য ওয়ারিশানগণ শুশুতি বাজারে জনৈক বদরুলের দোকানে বসে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, ইয়াকুব আলী, ছফর আলীর উপস্থিতিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ ফকির কে ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু টাকা নিয়েও প্রিন্সিপাল মৃত শিক্ষকের পরিবারের পক্ষে কাজ করেননি। উল্টো একই বাজারের দাদন ব্যবসায়ী আ: মালেকের কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার পক্ষে কাজ করেন। মরহুম শামসুদ্দিন একজন আধ্যাত্মিক লোক ছিলেন। যে কারণে তার অনেক ভক্তদের সাথে কথা হয় শুশুতি বাজারে।
মৃত শামসুদ্দিনের ছেলের বউ ওজিফা খাতুন বলেন, আমার শশুরের কল্যাণ ফান্ডের টাকা পাওয়ার জন্য বাট্রা (সুদ) করে ৪০ হাজার এবং উনার তিন মেয়ে মিলে ১০ হাজার মোট ৫০ হাজার টাকা শুশুতি বাজারের বদরুলের মনোহরি দোকানে প্রিন্সিপালের কাছে দেয়া হয়।
মরহুম শামসুদ্দিন আধ্যাতিক (পীরভক্ত) হওয়ায় তার অনেক ভক্ত অত্র এলাকায় আছে। তাদের একজন ইয়াকুব আলী বলেন, হুজুরের জানাজায় পরিবারের পক্ষে বলা হয়েছিল যারা টাকা পান তারা বললে, তার ওয়ারিশান ও আমরা আছি পরিশোধ করবো। আর যদি বলার মতো না হয় তাহলে আল্লাহরস্তে মাফ করে দিবেন। তখন কিন্তু মালেক বলে নাই, সে টাকা পায়। এতদিন পর কেমনে টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানা হল? এটা একটা চক্রান্ত।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে টাকা পাওয়ার জন্য সকল কাগজপত্র প্রিন্সিপাল পাঠিয়ে দিলে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয়ী হিসাব ৩০২১০০০০৪৯৪০ নং জমা হয়। ব্যাংক স্ট্রেইটম্যানে দেখা যায় ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর চেক বই ইস্যুর চার্জ হিসাবে ১০ টাকা কর্তন করা হয়েছে। আবার একই তারিখে কেশরগঞ্জ বাজার শাখা হতে ৪৬৮৪১৫১ নং চেকে ২,২০,০০০/- এবং ৪৬৮৪১৫৫ নং চেকে ১০,০০০/- মোট ২,৩০,০০০/- টাকা দাদন ব্যবসায়ী আ. মালেক কেশরগঞ্জ শাখার ব্যাংক ম্যানেজারের সহযোগীতায় টাকা উত্তোলন করে আতœসাত করেন। দেখা দিয়েছে চেকের স্বাক্ষর ও ব্যাংক হিসেবের স্বাক্ষরে ভিন্নতা।
মৃত শামসুদ্দিনের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, আমরা নিরিহ গরিব মানুষ, আমার ৪ ছেলে ও ৩ মেয়েরদের মধ্যে ছেলে ২টা পাগলা। স্বামীর মৃত্যুরপর অভাবের কারণে তিন বেলা ঠিক মতে খাইতে পারিনা। আর বেটারা সব ট্যাহা (টাকা) তুইলা নিল গা।
দাদন ব্যবসায়ী আ. মালেক জানান, আমার কাছ থেকে শামসুদ্দিন সাব টাকা নিয়ে চেক দিয়া গিয়েছিল। কল্যাণ ফান্ডের টাকা আসার পর আমি ঐ টাকা উত্তোলন করেছি। ফান্ডের টাকা পাওয়ার জন্য প্রিন্সিপাল সাব কে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছি। গরিব মানুষের বুদ্ধি কম। এ জন্য এরা আরও গরিব হয়। ব্যাংক ও প্রিন্সিপালের পেছনে কিছু খরচ করছি আমার টাকা আমার হাতে।
অধ্যক্ষ মো. হাবিবুল্লাহ ফকির এর প্রতিষ্ঠানে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তিনি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, আমি ফরমালিটি অনুযায়ী কাজ করেছি।
আছিম ব্যাংকের ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন আগের চেক কিন্তু অন লাইনে এন্টি হয়নি তাই ৭ নভেম্বর এন্টি দেয়া হয়েছে। তবে নন ড্রয়াল সনদপত্রের বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কেশরগঞ্জের ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, অন লাইন সিস্টেম হওয়ার কারণে গ্রাহক যে কোন শাখা হতে টাকা উত্তোলন করতে পারে। স্বাক্ষর গড়মিলের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।