| |

হোসেনপুরে ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্দা নদ এখন মরা খাল ঃ বোরো ক্ষেতে সেচ নিয়ে দুচিন্তায় কৃষক

(কিশোরগঞ্জ) ঃ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্দা নদের ভয়াবহ নাব্যতা সস্কটে পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষি আবাদে নেমে এসেছে স্থবিরতা। নদ দু’টির তলদেশে পানি না থাকায় সেচ নির্ভর কৃষকরা রোরো ক্ষেতে সেচ দিতে পড়েছে মহা সংকটে। কালের উত্তাল ব্রম্মপুত্র ও নরসুন্দা নদ আজ স্মৃতীর গহিনে হারিয়ে যাচ্ছে। যদিও গত কয়েক বছর আগে নরসুন্দা নদের কিছু অংশ খনন করলেও বর্তমানে পানি প্রবাহ না থাকায় এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। তাই ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্দা নদের দু-পারের মানুষের প্রানের দাবি অতিদ্রুত নদ দু’টির গভীর খনন করে পানির প্রবাহ পুর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন করা।
সরেজমিনে গতকাল রোববার (১০ ফেব্রুয়ারী) হোসেনপুর-গফরগাঁও সড়কের খুরশিদ মহল সেতু সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে পলি জমে এর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে এক কালের উত্তাল নদটি ছন্দ হারিয়ে আজ মরা খালে পরিনত হয়েছে। নাব্যতা সংকটে হোসেনপুর,গফরগাঁও ও ময়মনসিংহ জমালপুর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। পানির প্রবাহ না থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে চলছে চাষাবাদ। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে জীব বৈচিত্রসহ মৎস্য সম্পদ ও নানা জলজ প্রাণী। হাজার হাজার জেলে পরিবার এ পেশা ছেড়ে বেকারত্ব ঘোচাতে বেছে নিয়েছে অন্য পেশা। খেয়া পারের মাঝিরা বৈঠা ছেড়ে কলের নৌকা চলিয়েও শেষাবধি ছাড়তে হয়েছে বাপ-দাদার পেশা। জালের মত ছড়িয়ে থাকা শাখা নদী গুলো এখন বিত্তবানদের ফসলি জমি। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দখল নিতে প্রতি মৌসুমেই মারামারিতে প্রাণহানি ঘটে। ফলে ব্রহ্মপুেত্রর খাস জমি ও বালু ব্যাবসার আদিপত্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক অসন্তোষ বেড়েইে চলছে। অপরদিকে হোসেনপুর উপজেলার চর জামাইল থেকে চর-পুমদি এলাকায় গিয়ে দেখাযায়,বিগত দিনে নরসুন্দা নদ গভীর খনন না করায় ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে সংযোগ রক্ষা করা হয়নি। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে নরসুন্দা নদ খনন করা হয়ে ছিলো তা ভেস্তে গেছে। রামপুর বাজার সংলগ্ন নরসুন্দা পাড়ের ব্যবসায়ী রুকন মিয়াসহ অনেকেই জানান, এক সময় এ নরসুন্দ নদ দিয়ে আশুগঞ্জ,ভৈরব ও সুনামগঞ্জ থেকে বড় বড় নৌকা ও কার্গো মালামাল নিয়ে শ্রীপুরের মাওনা ও বরমী বাজার পর্যন্ত চলাচল করতো। কিন্তু বর্তমানে এ নদ নাব্যতা হারিয়ে ফসলি জমি ও ব্যাক্তি মালিকানায় ছ্টো-বড় মৎস্য খামারে পরিনত হয়েছে।
অপর দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে খুরশিদ মহল গ্রামের আলাল মিয়া, রইছ উদ্দিন, ওয়াদুদ মিয়া, কাঞ্চন মিয়াসহ অনেকেই সাংবাদিকদের জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সস্কটে পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষি আবাদে নেমে এসেছে স্থবিরতা।ব্রহ্মপুত্রের দু’ধারের কৃষি জমি গুলেতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে না পেরে কৃষকেরা চলতি মওসুমে বোরো আবাদ নিয়ে পড়েছেন দুচিন্তায়। তাছাড়া প্রতি বছরই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া নেয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম,বিস্থীর্ণ ফসলী জমি,স্কুল মাদ্রাসা। এ এলাকার মানুষের অভিয়োগ বারবার প্রশাসনের কাছে অবেদন-নিবেদন করলেও অদ্যবধি নেওয়া হয়নি কোন কার্যকরি উদ্যোগ। ভয়াবহ নাব্যতা সংকটের কারনে শুকনো মৌসুমে সাধারন নৌকাগুলোও চলতে সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় ব্যবসা বানিজ্যেতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রাকৃতিক জল বৈচিত্র ধংস হয়ে যাওয়ায় প্রণীকুলের ভারসাম্যও হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
জনশ্রুতি রয়েছে,তৎকালিন বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে নৌ বহর নিয়ে হোসেনপুর এলাকা দিয়ে যাতায়ত করতেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নৌ বহর ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে নিয়মিত টহল ও রসদ সরবরাহের নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করত। হোসেনপুর তারা নীলকুঠিও স্থাপনও করেছিল। এসব সমৃদ্ধ ইতিহাস আজ কেবল স্মৃতি,নাব্যতা সস্কটে ব্রহ্মপুত্র আজ বিপন্ন। তাই এ এলাকার মানুষের প্রানের দাবী ব্রহ্মপুত্র নদ সরকারী উদ্যেগে জরুরি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। আর তাতেই সেচ সংকট থেকে মুক্তি পাবে কৃষক।