| |

ইসলামপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের অনাস্থার বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

জামালপুর প্রকিনিধি॥জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেটের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অনাস্থা প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১১ ইউপি সদস্য। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের র্কাযালয়ের মিলানায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বাবু। তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে টিআর কাবিখা, এলজিএসপি প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ইউপি সদস্যদের সভাপতি করে তিনি নিজেই নামে মাত্র কাজ করে তা আতœসাৎ করেন। এছাড়া ইউপি সদস্যদের সাথে অসৎ আচরন করে আসছে। ইউপির নির্বাচিত ১২ সদস্যের মধ্যে ১১ জন সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নারী সদস্য লাভলী আখতার অভিযোগ করে বলেন, কুলকান্দির বেড়িবাধ নির্মাণ প্রকল্পে তাকে সভাপতি করা হলেও তাকে না জানিয়ে ৫০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা নামমাত্র কাজ করে অবশিষ্ট চাল আতœসাত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের ইউপি সদস্যদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের ২২০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা আতœসাত এবং ঝিগাতলা গুচ্ছ গ্রামের মাটির কাজের জন্য ৪৩৮ মেট্রিক বরাদ্দকৃত চলের মধ্যে ২২০ মেট্রিক টন উত্তেলন করে তিনি সিংহভাগ আতœসাত করেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান দিনে পরিষদের কাজ না করে রাতে কাজ করায় সাধারণ মানুষ ও ইউপি সদস্য নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন। তারা এ সবের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সাথে অশালীন আচরন করে থাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য ফারুকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও নারী সদস্য লাভলী আক্তার বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা দুর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যান সনেটের বিরুদ্ধে আনিত অনাস্থা প্রমÍাব দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনে।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেটের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি সদস্যরা আমাকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলন করেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
ইউপি চেয়ারম্যনের অনাস্থার বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আগামী ২০ ফেব্রয়ারি তদন্ত হবে। তদন্তে শেষে তা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।