| |

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ ডাক্তারের পদশূন্য॥ ৪ জন ডাক্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে প্রেষনে নিচ্ছেন বেতন

ইসলামপুর(জামালপুর)প্রতিনিধি॥জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ডাক্তার সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার রুগীরা। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালটিতে ৩৩ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছে মাত্র ১০ জন । এর মধ্যে ৪ জনই প্রেষণে অন্যত্র থেকে নিচ্ছেন বেতন। মাত্র ৬ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে এ অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। ফলে নদীভাঙন কবলিত দরিদ্রতম উপজেলাবাসি ও সাধারন মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছে।
জানায়, যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদী বিধৌত ইসলামপুর উপজেলার, ১ টি পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এছাড়া পার্শ্ববর্তী মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপর নির্ভরশীল।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি এ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও একটি দীর্ঘদিন যাবৎ অকেঁজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এছাড়া ডাক্তার সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটারটি প্রায় ৫ বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দরিদ্রপীড়িত অঞ্চলের রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই এলাকার সাইদুর রহমান, সাকিল আহাম্মেদ, জাবেদ আলী, শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল করিম মিয়া জানায়, হাসপাতালে এক্সরে, ইসিজি করতে এসে সরকারের নির্ধারিত ফ্রির চেয়ে বেশী টাকা দাবী করায় অসহায় অনেক মানুষ সেবা নিতে এসে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম, অপরিচ্ছন্নতা ও ডাক্তার সংকটের কারণে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় ফিরে যায়। ভূক্তভোগী রোগদের মধ্যে আব্দুল কাশেম মিয়া, ইয়াছিন সরকার, সবিতা বেগম, কামরুন্নাহার বিউটি ও শিল্পি বেগম এরা জানান, হাসপাতালালের পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটারে এক সময় সিজারসহ প্রতিদিন বিভিন্ন অপারেশন করা হতো। এতে দরিদ্র মানুষরা উপকৃত হতো। দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। একমাত্র আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার গৌতম রায় জানায়, ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ( ইসলামপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালটিতে ) ২১ টি পদ রয়েছে। এই উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন ৩ টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলি হচ্ছে, চিনাডুলি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, শ্যামপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কুলকান্দি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৯ টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য সহ হাসপাতালটিতে ৩৩ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১০ জন ডাক্তার কাগজ-কলমে কর্মরত থাকলেও ৪ জন ঢাকা ও টাঙ্গাইল ও জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রেষণে রয়েছেন। প্রেষণে চার জনের মধ্যে ১। ডাঃ আবু সালেহ মোঃ মহিউদ্দিন তিনি ইসলামপুর উপজেলার শ্যামপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বর্তমানে পেষনে মুগদা হাসপাতাল, ঢাকায় কর্মরত আছে। ২। ডাঃ সায়দাতুস সাবা,তিনি ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউ. উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বর্তমানে পেষনে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, জামালপুর এ কর্মরত আছে। ৩। ডাঃ আরিফুল ইসলাম তিনি ইসলামপুর উপজেলার চর পুটিমারী ইউ. উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বর্তমানে পেষনে টাংগাইল মেডিকেল কলেজ, টাংগাইল এ কর্মরত আছে। ৪। ডাঃ ফারজানা জামান মুনা,তিনি গোয়ালের চর ইউ. উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বর্তমানে পেষনে মুগদা হাসপাতাল, ঢাকায় কর্মরত আছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন আরোা জানায়, এই চারজন ডাক্তারকে মহা পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে আদেশ দিয়ে পেষনে বদলী করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম শহীদুর রহমান জানান, ডাক্তার সংকটের কারণে হাসপাতাল চালানো সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রেষণ বাতিলসহ শূন্যপদে ডাক্তার চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।