| |

ফুলবাড়িয়ায় ৪ প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করে নতুন বিদ্যালয়ের অনুমতির প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ

মো: আব্দুস ছাত্তার : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিমে ‘ডাঃ জামান একাডেমী’ নামের নতুন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতির জন্য ৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তথ্য গোপন করে প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. মোঃ দিাদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রস্তাবিত জামান একাডেমী আছিম আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের একই মাঠে হলেও প্রতিবেদনে ঐ বিদ্যালয়ের কথা বলা হয়নি। প্রতিবেদনে জামান একাডেমী ছাড়া ৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোন বিদ্যালয় নেই বলায় চার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিকার চেয়ে ৪ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, আছিমে ৪ টি বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে ১৯৪৭ সালে, আছিম আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে ১৯৬৯ সালে, আদর্শ উচ্চ বিদ্যানিকেতন স্থাপিত হয়েছে ১৯৯৩ সালে ও হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে ১৯৮৪ সালে। আছিমে ৪ টি প্রতিষ্ঠান থাকার পরও ৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করে ডাঃ জামান একাডেমী নামের নতুন একটি বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ২০১৮ সনের ৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. মোঃ দিাদরুল আলমকে দিয়ে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন শিক্ষামন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল প্রতিবেদনটি সচিব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সচিব বরাবরে প্রেরন করেন।
৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকার পরও নতুন করে আরও একটি বিদ্যালয় স্থাপন করা হলে ৪ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। শিক্ষা বোর্ডের সাথে প্রতারণা করে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হলে সরকারের ভাবর্মূর্তি ক্ষুন্ন হবে।
আছিম আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম জানান, ১৯৬৯ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী ৩শ ৪৩ জন। পুরাতন এ প্রতিষ্ঠানটির মাঠ ঘেঁষে ডাঃ জামান একাডেমী নামের নুতন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য বোর্ড কর্তৃক পরিদর্শন করে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। মিথ্যা ঐ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হলে পুরো শিক্ষক সমাজ কলুষিত হবে। আমার প্রতিষ্ঠার ছাড়াও আছিমে আরও ৪ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রেজ্জাক বলেন, আমার বিদ্যালয় থেকে জামান একাডেমী ৩শ গজ দূরে। সেখানে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন হয় কিভাবে? তাছাড়া জামান একাডেমীর সাথে আছিম বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে কেজি স্কুল পরিচালিত করছে জামান একাডেমী।
আছিম বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে জামান একাডেমী নামে কেজি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আমি নিজে কেজি স্কুলটি বন্ধ করার জন্য প্রশাসনকে বারবার অনুরোধ করেছি কেউ কেজি স্কুলটি বন্ধ করেনি।
ডাঃ জামান একাডেমীর পরিচালক ডাঃ মোঃ কামরুজ্জামান জানান, নিয়মনীতি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা কঠিন। বোর্ড চেয়ারম্যান নিজে পরিদর্শন করে আমাকে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।