| |

নুসরাত কে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় আসামি নুরু উদ্দিনকে ভালুকা থেকে গ্রেফতার

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
েেফনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অন্যতম আসামি নূরু উদ্দিন (৩০) কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ীর সিডস্টোর আমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)) পরিচয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন । নুরুউদ্দিন ওই মামলার দুই নম্বর আসামি। নূরু উদ্দিনকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি অভিযুক্ত অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ উদদৌলার মুক্তি দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্বদাতা।
প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম জানান,সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে সিডস্টোর আ.লীগের অফিসে আসতে বলেন। পরে তিনি সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তারা আকবর নামের এক লোকের ব্যাপারে জানতে চান। শফিক তখন তাদের কে বলেন আকবর সীডস্টোরের আমতলী এলাকার আব্দুল মজিদের কাছ থেকে চার বছর আগে জমি কিনে টিন সেটের একটি বাড়ি করেছেন।পরে অপরিচিত নম্বর ধারীরা শফিককে নিয়ে আকবরের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে ওই বাসা থেকে নুরু উদ্দন কে গ্রেপ্তার করে ওই গ্রেপ্তারকারীরা নিজেদের কে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশের পরিচয় দেন।পরে নুরু উদ্দিন কে নিয়ে পুলিশ দুটি সাদা রঙের হায়েছ গাড়িতে করে ঢাকার পথে রওনা দেন।
শ্রমিক নেতা শফিকুল আরও জানান, আকবরের গ্রামের বাড়ি ও নুরু উদ্দিনের বাড়ি সোনা গাজীর একই এলাকায়। সেই সূত্রে ধরে গত রাতের কোন এক সময় নুরু উদ্দিন আকবরের বাসায় আশ্রয় নেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। তার বান্ধবী নিশাতকে মাদরাসার ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে একজন এসে তাকে জানায়। এমন সংবাদে তিনি ছাদে যান। সেখানে বোরকা পরা চারজন তাকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এ সময় নুসরাত বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। ১০৮ ঘণ্টা আইসিইউতে থাকার পর গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান । তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এর আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির মা।