| |

ভূঞাপুরে মামলায় জিততে ভুয়া কাবিননামা তৈরি

এ কিউ রাসেল, : প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়া মেয়ে সাইমুন নাহার তুনুকে (১৮) কব্জায় আনতে মামলা করেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রধাণ করণিক মো. ছানোয়ার হোসেন। আর সে মামলায় জিততে নিজের বিয়ের ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছানোয়ার হোসেন উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের মকছেদ আলীর ছেলে। আর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের মেয়ে সাইমুন নাহার তুনুর সাথে বছর দুই আগে একই গ্রামের ছবুর মন্ডলের ছেলে সাইদুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩রা সেপ্টেম্বর তারা একে অপরের হাত ধরে পালিয়ে যায়। আর এ ঘটনায় পরের দিন মেয়ের পিতা মো. ছানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সাইদুলকে প্রধান আসামী করে সাইদুলের বাবা ছবুর মন্ডল, চাচা মোহাম্মদ আলী মন্ডল, মা হামিদা বেগম ও ফুফা সঞ্জাব আলীর বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দয়ের করেন। ২৪ শে সেপ্টেম্বর পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ। পরের দিন আদালতে সাইমুন নাহার তুনু বাবা-মার কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আদালত তাকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওইদিনই তার মেডিক্যাল সম্পন্ন করা হয়। মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ি তার বয়স আঠার উপরে নির্ধারিত হয়। তখনি মাথা নষ্ট হয় ছানোয়ার হোসেনের। মেয়েকে নিজের কব্জায় আনতে তিনি নিজের বিয়ের ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেন। ওই কাবিননামায় ২রা জুন ১৯৯৭ তার বিয়ে তারিখ উল্লেখ করা হয়। এতে কাজেম আলী ও আব্দুল হামিদ আকন্দ নামের দুই জন স্বাক্ষীও যোগাড় করেন তিনি। অথচ তার বিয়ের প্রকৃত রেজিস্টারের তারিখ ২রা জুন ১৯৯৫। ওই সময় বিয়ের স্বাক্ষী ছিলেন খোরশেদ আলম ভূঞা ও মো.আব্দুল আওয়াল। মেয়ের বয়স যাতে ১৮ বছর না হয় এ জন্য জালিয়াতি করে নিজের বিয়ের বয়স ২ বছর কমিয়ে আনেন। আর তা আদালতে পেশ করে মেয়েকে নিজের কব্জায় নেন।
সম্প্রতি বিয়ের দু’টি কাবিননামার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। ২রা জুন ১৯৯৭ নয় ২রা জুন ১৯৯৫ সালেই বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে এ মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন রেজিস্ট্রি সম্পন্নকারী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার কাজী মাওলানা আনিছুর রহমান।
২রা জুন যে বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে ওই বিয়ের কাবিননামার স্বাক্ষী আব্দুল আওয়াল মাস্টার বলেন, ২রা জুন ১৯৯৫ সালেই ছানোয়ার হোসেনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আর আমি নিজে ওই বিয়ের স্বাক্ষী ছিলাম।
বিয়ে রেজিস্ট্রির বিষয়ে কাজী মাওলানা আনিসুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার মকছেদ আলীর ছেলে ছানোয়ারের সাথে নাটোর জেলার গোপালপুর উপজেলার অর্জুনপুর গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে হামিদার বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে ২রা জুন ১৯৯৫ সালে। এ বিষয়ে আমি একটি প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছি। ২রা জুন ১৯৯৭ সালে বিয়ে রেজিস্ট্রির বিষয়টি সঠিক নয়।
কাবিননামা জালিয়াতির বিষয়ে মো.ছানোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি আপনার সাথে পরে কথা বলবো।