| |

দ্বিতীয় প্রেমেও নিস্বফল ঝিনাইগাতীর মাধুবী

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : দ্বিতীয় প্রেমেও নিস্বফল মাধুবী। মাধুবী ঝিনাইগাতী উপজেলার খৈলকুড়া গ্রামের দুলাল উদ্দিনের মেয়ে। ২০১০ সালে উপজেলার গজারীকুড়া গ্রামের আমির আলীর ছেলে ২ সন্তানের জনক বাবুল মিয়ার হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। এ সময় মাধুবীর আত্মীয়-স্বজনরা বাবুল মিয়ার পিতা আমির আলীকে উঠিয়ে নিয়ে গারো পাহাড়ের নওকুচি গ্রামের আত্মীয় বাড়িতে হাত-পা বেধে আটকে রাখা হয় এবং বেধরক মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ আমির আলীকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানায় মাধুবীর আত্মীয়-স্বজনদের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যা বর্তমানেও চলমান অবস্থায় রয়েছে। অপরদিকে, এই মামলাটি দায়ের হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাধুবীর আত্মীয়-স্বজনরা উপজেলা সদরের রাস্তা বেরিকেড দিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মাধুবী প্রায় ২ বছর বাবুল মিয়ার ঘর-সংসার করার পর তার পরিবারের লোকজন সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনেন। বাবুল মিয়ার বাড়ি থেকে চলে আসার পর মাধুবী স্থানীয় ব্রাইট মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। এরই মাঝে অপর শিক্ষক ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতেœশ্বর চন্দ্র বর্মণের ছেলে অরবিন্দ্র চন্দ্র বর্মণের সাথে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। এভাবে কিছুদিন চলার পর ঘটনাটি মাধুবীর অভিভাবকদের কান পর্যন্ত গড়ায়। এক পর্যায়ে মাধুবীর অভিভাবকরা অরবিন্দ্রকে ধরতে মাধুবীকে দিয়েই জাল ফেলে। আর গত ১৫ অক্টোবর রাতে অরবিন্দ্র মাধুবীর ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের বাড়িতে গেলে মাধুবীর অভিভাবকরা অরবিন্দ্রকে হাত-পা বেধে বেধরক মারপিট করে। এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। অরবিন্দ্র চন্দ্র বর্মণ এ অপমান সইতে না পেরে ১৭ অক্টোবর নির্জন জঙ্গলে গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করে। পরে থানা পুলিশ অরবিন্দ্র চন্দ্রের লাশ ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে ২৬ নভেম্বর রতেœশ্বর বর্মণ বাদী হয়ে মাধুবীসহ ৬ জনকে আসামী করে শেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নেওয়ার জন্য ঝিনাইগাতী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশ বলে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ মামলাটি এফআইআর করেন। রতেœশ্বর বর্মণ জানান, মামলা দায়ের করার পর থেকে আসামী পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল মামলা তোলে নেয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে আসছে তাকে ও তার পরিবারের লোকদের। বর্তমানে আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই রসিকতা করে বলাবলি করছেন, দ্বিতীয় প্রেমেও নিস্বফল হলো মাধুবী।