| |

ডেঙ্গু জ্বরে হোমিও চিকিৎসা

ডাঃ জগন্নাথ চন্দ্র সরকার ঃ ডেঙ্গু অল্পকাল স্থায়ী জ্বর। ইহাতে হাত, পা, সারাশরীর ও মাথায় যন্ত্রনা এতই বেশী হয় যে তাহা রোগীকে একবারে কাতর করে ফেলে।
লক্ষণ ঃ জ্বর হঠাৎ আক্রমণ হয়। শীত করে। মাথায়, কোমড়ে ও মেরুদন্ডে ব্যাথা, সমস্ত গাঁটে গাঁটে ব্যাথা, পেশীতে ব্যাথা, পিত্ত বমি, গা বমি বমি, ক্ষুধালোপ, পিপাসা, কোষ্টবদ্ধ, মুখ লাল হয়ে যাওয়া, গায়ে হামের মত উদ্ভেদ দেখা দেওয়া, গাল, গলা ও কুঁচকীর গ্ল্যান্ড ফোলা শক্ত হওয়া সহ অন্যান্য লি¤ফ্যাটিক গ্ল্যান্ডের ফোলা, ১০২ ডিগ্রী/১০৩ ডিগ্রী হইতে ১০৪ ডিগ্রী /১০৫ ডিগ্রী পর্যন্ত জ্বর উঠা, নাড়ীপূর্ণ ও কঠিন এবং মিনিটে ১২০ হতে ১৪০ বার স্পন্দন হওয়া ইত্যাদি ইহার লক্ষণ।
এই জ্বর সাধারণত তিনদিনের মধ্যে কমে যায়। উপসর্গের মধ্যে সবুজ বর্ণের দুর্গন্ধ তরল ভেদ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, অত্যাধিক ঘাম প্রভৃতিতে কখনও রোগীকে দুর্বল করে ফেলে। জ্বর একবার আরোগ্য হয়েও ৫/৬ দিন পর পুনঃরায় প্রকাশিত হয় এবং আক্রমণগুলি পূর্বের মতই থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ৮/৯ দিন বা ২/৩ সপ্তাহ থাকতেও দেখা যায়। আক্রমনের ৫/৬ দিন পর উদ্ভেদ নির্গত হয় এবং তা অত্যন্ত চুলকায় । তবে এবছর দেখা যাচ্ছে যে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জ্বরের পরিমান ১০১ ডিগ্রী এবং সাথে ব্যাথার তীব্রতা অতি কম। চিকিৎসা ঃ রোগের প্রথম অবস্থায় একোনাইট, রাসটক্স বা ব্রাইয়োনিয়া। বমি হলে-ইপিকাক। উদরাময় হলে-আর্সেনিক। উদ্ভেদ হলে-রাসটক্স, সালফার। গ্যাস্ট্রিকে- নাকস্, কলোসিনথ্। জন্ডিসে-মার্ক, নাকস্, চেলিডোন। রক্তস্রাব হলে-এসিড সালফ, আর্স, সিকেল, চায়না। প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে-ক্যান্থার, বেল, আর্স, টেরিবিন্থ। অতিরিক্ত ঘাম নিবারণে জ্যাবোরেন্ডি, ক্যান্থার, কার্বো ইত্যাদি। যদি হাড় ভাঙ্গা ব্যাথা থাকে তবে-ইউপেটুরিয়াম ও পার্ফো।
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা ঃ-শীতভাব খুব বেশী হলে গরম পানি (ওয়াটার ব্যাগে) রেখে পায়ের তলায় ও বগলে চেপে রাখুন এবং গরম পানি পান করতে দিন। পথ্য-সাধারণ জ্বরের অনুরূপ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কথা হলো-হোমিও চিকিৎসকের বাধাঁধরা এই ঔষধগুলো শেষ কথা নয়। রোগ ও রোগীর প্রকৃতি ও ধাতুগত লক্ষণের উপর দৃষ্টি রেখে ঔষুধ নির্বাচন করা উচিত।