| |

কটিয়াদীতে শিশুশ্রম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সুবল চন্দ্র দাস ঃ কটিয়াদীতে ৮০ ভাগ রিকশাই এখন ব্যাটারিচালিত। এ অবৈধ রিকশায় পায়ে প্যাডেল মারতে হয় না। চলে হাওয়ার বেগে। প্রযুক্তির এ ব্যবহারটি বিজ্ঞানসম্মত নয় বলে সচেতন মহল মনে করছে। স্থানীয় কারিগররা রিকশার নিচের অংশের কাঠামোর সঙ্গে একটি ব্যাটারি ও মোটর যুক্ত করে আর কিছু খুচরা যন্ত্রাংশ দিয়ে রিকশাগুলোকে অটোরিকশায় রূপান্তরিত করে দিচ্ছেন। রিকশা চালাতে এখন আর বয়স বা চালকের শক্তি-সামর্থ্যরে প্রয়োজন হয় না। সুইচ টিপে ধরলেই হাওয়ার বেগে চলতে শুরু করে এসব রিকশা। শহরের রাস্তাঘাট তুলনামূলক ভালো বলে হয়তো সেখানে ঝুঁকি কম থাকে। কিন্তু গ্রামের কাঁচা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে এসব দ্রুতগতি সম্পন্ন রিকশা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এই ব্যাটারিচালিত রিকশা আকার, ওজন ও গতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। চালকরা যান্ত্রিক সুবিধা পেয়ে স্বাভাবিক গতির চেয়ে অতিরিক্ত গতিতে চলান। এতে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। ঝাঁকুনির মাত্রা এত প্রবল হয়, সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া দ্রুতগতিসম্পন্ন এই রিকশা মোড় ঘোরানোর সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন) ডা. অপরাজেয় বিভব বিকাশ বড়াল বলেন, কোনো যানবাহনের অসহনীয় ঝাঁকুনিতে মানুষের শরীরের মেরুদণ্ডের ক্ষতি হতে পারে। মেরুদণ্ডে সমস্যার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। এ সমস্যার কারণে মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। জানা যায়, একটি রিকশা ব্যাটারিচালিত রিকশায় রূপান্তর করতে ১৫-১৭ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। সারারাত ব্যাটারি চার্জ দিয়ে সারাদিন চালানো যায়। প্যাডেল মেরে রিকশা চালিয়ে দিনে মাত্র ২৫০-৩০০ টাকা রোজগার হতো। পরিশ্রম হতো বেশি। প্রয়োজন থাকলেও শারীরিক অক্ষমতায় রিকশা চালানো যেত না। এখন কম পরিশ্রমে ভালোই রোজগার হয়। দিনে ৪৫০-৫০০ টাকা আয় করা যায়। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে রিকশাগুলো অটোরিকশায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এসব রিকশার চালক বেশিরভাগই কিশোর বয়সের হওয়ায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। এ রিকশার সংখ্যা দিন দিন দ্রুতগতিতে বেড়ে যাচ্ছে। অবৈধ এসব যান চলাচল বন্ধ বা এর ওপর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দরকার বলে অনেকেই মনে করছেন। এদিকে অবৈধ এ রিকশা চলাচলে বিদ্যুতের প্রচুর অপচয় হচ্ছে। এক শ্রেণির পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেট ভারি হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কটিয়াদী আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম আক্তার হোসেন বলেন, চালকরা রিকশার ব্যাটারিগুলো গভীর রাতে বিদ্যুৎ চুরি করে চার্জ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় মেইন লাইন থেকে অবৈধভাবে লাইন নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হয়। আমরা মাঝে মধ্যে অভিযানে নেমে জরিমানাও করি। বিকল্প ব্যবস্থা না করে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই কঠিন। তাদের জন্য সরকার সোলারের ব্যবস্থা করছে বলে জানতে পেরেছি। এদিকে এ ব্যাপারে এএসপি সার্কেল জামাল উদ্দিন বলেন, এ রিকশার চালকরা সংখ্যায় অনেক। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে আন্দোলনে নেমে পড়ে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়টি জাতীয়ভাবে নিষ্পত্তির প্রয়োজন। এ যান চলাচলে পুলিশের কেনো সদস্য যদি অবৈধ সুবিধা নিয়ে থাকে, তবে তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
ছবি আছে।