| |

গফরগাঁওয়ে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরনে গলাকাটা ফি আদায়ের অভিযোগ

গফরগাঁও প্রতিনিধিঃ ২০১৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরনে গলাকাটা ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গফরগাঁও উপজেলা এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত বোর্ড ফির চেয়ে দ্বিগুন ফি আদায় করায় বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র অভিভাবকেরা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ড পরিপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরীক্ষা ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনোক্রমেই অতিরিক্ত গলাকাটা ফি নেয়া যাবে না। কিন্তু বোর্ডের আর্দেশ নির্দেশনাকে কোনো তোয়াক্কা না করে গফরগাঁও উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক ও আলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ২০১৬ সালের অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরনে অতিরিক্ত গলাকাটা ফি আদায় করছে। ঢাকা বোর্ড সূত্রে জানা যায়,বোর্ড ফি ১৪৩৫ টাকা.কেন্দ্র ফি ৪৮০ টাকাসহ মোট ১ হাজার ৯১৫ টাকা, ব্যবহারিক ফি,মার্কসীট ফি ,সনদ ফি, শিক্ষা সপ্তাহ ফি মানবিক শাখার ফি একই আলিম ১ হাজার ৯০০টাকা নিধারিত ফি হলেও আদায় করা হচ্ছে ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে। যার যার মতো করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইচ্ছা মাফিক ফি আদায় করা হচ্ছে। এ প্রতিনিধি উপজেলার বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসা গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গফরগাঁও উপজেলা এবার এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরনে একেক কলেজে ও একেক মাদ্রাসায় একেক ধরনের অতিরিক্ত গলাকাটা ফি নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পযর্ন্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। ফি আদায়ের ক্ষেত্রে কারো সাথে কারো কোনো মিল নেই। গফরগাঁও উপজেলা কলেজের সংখ্যা ৮টি আর ফাজিল মাদ্রাসার সংখ্যা ৭টি ও আলিম হলো ৩টি। ঐ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফরম পূরন করতে আসা শিক্ষার্থীদের হাতে ১০-১২টি খাত দেখিয়ে লম্বা ফিরিস্তি ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন খাতও তালিকায় জুড়ে দেয়া হচ্ছে ফির নামে টাকা আদায়ের স্বার্থে। কলেজ ও মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা জানান, ফরম পূরনের ফি বাবদ ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে ফি নিচ্ছে। খাত হিসাবে তাদের তালিকায় আছে,বোর্ড ফি, টিফিন ফি, বিদ্যুৎ বিল, মসজিদ চাদাঁ, শিক্ষক কল্যান ফি, মডেল টেষ্ট ফি, মিলাদ ফি, কেন্দ্র ফি, কোচিং ফি, চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী ফি, ডিসেম্বর মাস পযর্ন্ত বেতন ফি। সব মিলিয়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে ফি আদায় করছে। এসব বিষয়ে গয়েশপুর কাওরাইদ কলেজের অধ্যক্ষ বাবর আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা কোনো বাড়তি টাকা নিচ্ছি না। যা নিচ্ছি প্রয়োজনেই নিচ্ছি। আরো অন্যান্য প্রসঙ্গ তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ে এড়িয়ে যান। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ডের সব নিদের্শ মেনে চললে কলেজ ও মাদ্রাসা বিক্রি করে বাড়ি চলে যেতে হবে। এ দিকে পরীক্ষাথীদের ওপর নানা সমস্যা আসতে পারে এমন আশংকায় নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষুব্দ অভিভাবক জানিয়েছেন, পরীক্ষা ফরম ফিলাপ নিয়ে শিক্ষকরা যেভাবে বানিজ্য শুরু করেছেন তাতে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে আসছে। সরকার সেখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তুকি দিচ্ছে আর বিদায় মুহুর্তে সে সুযোগে টাকা কামানোর মিশনে নেমেছেন শিক্ষকেরা। গফরগাঁও সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জামিনি ক্লান্ত সরকার বলেন, আমার কলেজে কোন গলাকাটা ফি আদায় করা হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত শংকর কুন্ডু বলেন, কলেজ ও মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। যদি অভিযোগ পাই তবে ফি ভাবে ফরম পূরন করা হবে। খোজঁ খবর নিয়ে দেখি অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে কি না কেউ যদি নিয়ে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।