| |

যক্ষèা রোগে কাঁপছে গফরগাঁও, আক্রান্ত ৭৮১জন ওষুধের জন্য হাহাকার দুই বছরেই মারা গেছে ৩০ জন

এম,মানছুর আহমেদঃ ময়মনসিংহে গফরগাঁও উপজেলায় যক্ষèা রোগ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ছে। ওষুধের অভাবে দরিদ্র পরিবারের লোকজন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে দুবিযহ জীবন যাপন কাটাচ্ছে। গত ২০১৪ ও চলতি বছরে গফরগাঁও উপজেলা ১৫টি ইউনিয়ন থেকে আসা আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ৭৮১ জন। গত ২০১৪ সালের প্রথম কোয়টারে ১১৩,দ্বিতীয় কোয়াটারে ১১২, তৃতীয় কোযাটারে ১০৮, চতুর্থ কোয়াটারে ৯৪সহ মোট ৪২৭ জন যক্ষèা রোগী এবং চলতি ২০১৫ সালে প্রথম কোয়াটারে ১১৬, দ্বিতীয় কোয়াটারে ১৩০,তৃতীয় কোয়াটারে ১০৮জনসহ মোট ৩৫৪জন। এর মধ্যে দুই বছরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩০ জন। সরকারী হিসাবে যক্ষèা রোগে ৭৮১ জন আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ৮ কোয়াটারে মারা গেছে ২০ জন। তবে বেসরকারী ভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশ্।ী এলাকাবাসী ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গফরগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় যক্ষèা রোগের প্রকোপ দীর্ঘদিন ধরে। যক্ষèা কিঃ যক্ষèা একটি জীবানুঘটিত রোগ যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক জীবানু মাধ্যমে ছড়ানো এ রোগের প্রাদুর্ভাব। সরকার ২০১৫ সাল পযর্ন্ত এ রোগ নিয়ন্ত্রনের জন্য ঘোঘনা দিলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যক্ষèা রোগের বিস্তারঃ আক্রান্ত ব্যক্তির খোলামেলা হাঁচি, কাশির মাধ্যমে যক্ষèা রোগের জীবানু বের হয়ে বাতাসের মিশে যক্ষèা জীবানু ছড়িয়ে শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা সুস্থ মানুষের ফুসফুসে ভেতরে প্রবেশ করে বংশ বৃদ্ধি করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকলে খুব সহজেই সুস্থ্য ব্যক্তিরা হঠাৎ যক্ষèা রোগে আক্রান্ত হয়। যক্ষèা রোগের লক্ষনঃ এক নাগাড়ে ২১ দিন ব্যাপি কাশি, জ্বর, বুকে ব্যথা, খাবারে অরুচি, শ্বাসকষ্ট ও ওজনে কমে যাওয়া, সাধারন এন্টিবাইওটিক দিয়ে এ কাশি রোধ করা যায় না। সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের জাতীয় যক্ষèা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি আওতায় বেসরকারী সংস্থা ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন সিনিয়র টিএলসিএ খন্দকার আল মুনসুর জানান, গত বছর ও চলতি বছরে এ পযর্ন্ত যক্ষèা রোগের ভাইরাসে নারী পুরুষ ও শিশুসহ ৭৮১ জন যক্ষèা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ পযর্ন্ত সরকারী ভাবে মারা গেছে ১৫ জন। বেসরকারীভাবে মৃত্যুর হিসাব নেই। আমাদের হাসপাতালে যক্ষèা রোগের কোয়াটার ভিত্তিতে চিকিৎসা করানো হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কোয়াটার পদ্ধতিতে ৪ কোয়াটারে নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে যক্ষèামুক্ত হওয়া সম্ভব। এ ছাড়া জন্মের পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দেয়া, আক্রান্ত ব্যক্তি হাচি, কাশির সময় মুখে রোমাল ব্যবহার করা, রোগীর কফ বা থুথু নিদিষ্ট পাত্রে ফেলে বা পুতে রাখা এবয় ব্যক্তিগত স্থাস্থ্য বিধি মেনে চলা বাঞ্চনীয়। ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত লোকজন রোগীদের সাথে দুব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ দিকে গ্রামের মানুষ যক্ষèা রোগের চিকিৎসা না পেলে ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের সুপার ভাইজার মোজাম্মেল হক নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। ধুঁকে ধুঁকে যক্ষèা রোগে আক্রান্ত মানুষ মরলেও সুপাভাইজারের ঘুঘ ভাঙ্গেনি। সে কোন রোগীরই খোজ খবরই রাখে না। সূত্র জানায়,বর্তমানে যক্ষèা আক্রান্ত রোগীরা ৩ মাসে এক কোয়াটার পদ্ধতিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ প্রতিনিধি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কোনো না কোনো গ্রামে নতুন করে কেউ না কেউ প্রতিনিয়ত যক্ষèা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদর কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবার কেউ কেউ ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই অভাবের কারনে নিয়মিত বাহির থেকে ট্যাবলেট কিনতে পারছেনা। অনেক রোগী অশিক্ষা ও দারিদ্রের কারনে অনেক রোগী সময় মতো চিকিসা গ্রহন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কেউ কেউ বিনা চিকিৎসাতেই ধুঁকে মরছে। গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আলম আরা বেগম বলেন, আমিতো হাসপাতালে নতুন যোগদান করেছি। কত জন ভর্তি রয়েছে আর কত জন মারা গেছে তা রেজিষ্টার না দেখে কিছুুই বলা যাবে না। আক্রান্তদের প্রসঙ্গে বলেন, গ্রামের দরিদ্র লোকেরা কোন অসুখ হলেই প্রথমেই যায় গ্রাম্য ডাক্তারের ফার্মেসিতে। অনেক পরে আসে হাসপাতারের ডাক্তারের কাছে। তবে আমি খুঁজ খবর নিচ্ছি। তবে ভয়ের কিছুই নেই। এ বিযয়ে ময়মনসিংহ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম মোস্তফা কামাল বলেন, যক্ষèা রোগীর ওষুধের কোন সংকট নেই। তিনি আরো বলেন, জেনে শুনে তথ্য উপাথ্য সংগ্রহ করে পত্রিকায় লেখেন। রোগী মারা যাওয়ার বিযয়ে আমি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।