| |

শিকলবন্দী বাকৃবি ছাত্র বজলুর রহমানের বাড়িতে সহপাঠিরা ॥ চিকিৎসার আশ্বাস

ভালুকা প্রতিনিধি: “এক যুগ শিকলবন্দী বাকৃবির ছাত্র বজলুর রহমানকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে সমাসীন বজলুর রহমানের সহপাঠিরা তাকে দেখতে এসে চিকিৎসা ও আর্থিক সাহায্য সহ সকল রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। শনিবার বেলা অনুমান ১২ টার দিকে ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের টুংরাপাড়া গ্রামের নিভৃত পল্লীর সরু রাস্তা দিয়ে ৬/৭টি গাড়ী এসে থামেন বজলুর রহমানের বাড়ির কাছে। খবর পেয়ে গ্রামের শত শত লোক ভীড় জমায় ওই বাড়িতে। ৮৮/৮৯ ব্যাচের ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের বি এস সি, এজি অনার্স পড়–য়া সোহরাওয়ার্দী হলে বজলুর রহমানের সাথে থাকা কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তা গাড়ী থেকে নেমে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তারা শিকলবন্দী বজলুর কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা হলেন উপ-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় মো. আতাহার হোসেন, উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ঢাকা ড. শাহ কামাল, উপ-পরিচালক বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ঢাকা এ কে এম ইউছুফ হারুন, উপ-পরিচালক বিএডিসি জামালপুর রিয়াজুল ইসলাম টুটুল, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম ফারুক মানিক, ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান বাকৃবি ময়মনসিংহ খাইরুল আলম নান্নু, সিনিয়র ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ময়মনসিংহ মাজাহারুল ইসলাম, ভালুকা সার্ভিস কর্মকর্তা ইকবাল। শিকলবন্দী বজলুর সাথে উপস্থিত কর্মকর্তারা কথাবলার সময় এক আবেগঘন মুহূর্তের অবতারনা ঘটে। তার এ অবস্থা দেখে অনেকেই কেঁদে ফেলেন।
ড. শাহ্ কামাল জানান পত্রিকায় “১২ বছর শিকলবন্দী বাকৃবির ছাত্র বজলুর” খবর প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তার নজরে আসলে তিনি বিষয়টি অন্যান্যদের মাঝে শেয়ার করলে মহাসচিব বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন খাইরুল আলম প্রিন্সের পরামর্শে তারা সহপাঠি বজলুর রহমানকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি চোখের পানি ছেড়ে বলেন “কেন তারা আগে জানতে পারলেন না, সকলের সহযোগীতা পেলে অবশ্যই তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। পরে তিনি বজলুর রহমানের মাতা কমলী খাতুনের সাথে সাক্ষাত করে বলেন আপনি আমারও মা আরেকটু কষ্ট করুন আমরা আপনার ছেলেকে চিকিৎসা করে ভাল করবো ইনশাআল্লাহ। এ সময় তিনি বজলুর রহমানের ছোট ভাই হারুন মিয়াকে কাছে ডেকে বলেন সহযোগিতা করার জন্য। আতাহার হোসেন বলেন, তাদের একজন সহপাঠী এভাবে ধুকে ধুকে মরে যাবে এটা তাদের মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক সব রকম সহযোগীতা তারা করবেন। উপ পরিচালক বিএডিসি জামালপুর রিয়াজুল ইসলাম টুটুল বলেন তারা ৮৮/৮৯ ব্যাচে ভর্তি হয়ে একই হলে থাকতেন। বহুদিন পর বজলুর রহমানকে এ অবস্থায় দেখে মর্মাহত হয়েছেন, ভাল থাকলে সেও ডিস্টিক লেভেলে চাকরী করতেন। প্রফেসর ড. মো. গোলাম ফারুক মানিক জানান, তার সহপাঠী বজলুর রহমানের সাথে একই এলাকায় থাকার কারনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও পরে বাকৃবিতে লেখাপড়া করেছেন। সবাই মিলে সহযোগীতা করে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ্য করে তুলবেন।
উল্লেখ্য ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের টুংরাপাড়া গ্রামে প্রায় ১২ বছর ধরে নিভৃত পল্লীর নির্জন একটি কক্ষে শিকল বন্দী হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাফল্যের সাথে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয় হতে বি এস সি, এজি, অনার্স পাশ করা একজন মেধাবী কৃষিবিদ মৃত আঃ মালেকের পুত্র বজলুর রহমান (৪৮)। গত ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার টুংরাপাড়া গ্রামে মৃত মালেকের সবুজ বৃক্ষের আচ্ছাদনে চারিদিক ঘেরা বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় একটি ঘরের দরজা খোলা ভিতরে আসভাবপত্রহীন মেঝে পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে শিকলবন্দী অবস্থায় পড়নে কাপড় বিহীন জবোথবো হয়ে বসে রয়েছেন বজলুর রহমান। আশপাশে বসা কিংবা শয্যার কোন ব্যবস্থা নেই। তৃঞ্চা মেটানোর পানির পাত্র কিংবা খাবারের বাসন কোন কিছুই কাছে নেই। মেঝের মাঝখানে পুঁতা একটি বাঁকা লোহার সাথে কয়েকটি তালা অনুমান দেড়ফুট লম্বা শিকল পায়ের সাথে লাগানো বহুদিন না খোলার কারনে মরিচা ধরা। বুঝাযায় এখানেই মলমূত্র ত্যাগ করায় প্রতিদিন ধূয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়। শয্যা বিহীন স্যাঁত স্যাতে মেঝে শীত গরমে পরে থেকে আর অপুষ্টিতে ভোগে সুঠাম দেহের অধিকারী মানুষটির শরীরে ও চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পরেছে। তথাপিও তার চাহনী ও মুখ ভঙ্গিতে শিক্ষার প্রতিফলন প্রকাশ পাচ্ছিল। এভাবে এক যুগ কেটে গেছে তার জীবন থেকে।