| |

হারিয়ে যাওয়ার ১৯ বছর পর হেপি খোঁজে পেল বাবা মাকে

আবুল কালাম আজাদ ঈশ^রগঞ্জ (ময়মনসিংহ) থেকে
১৯ বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়াঈশ^রগঞ্জের ৮ বছরের বালিকা হেপি স্বৃতির পটে তার বাবা মাকে খোঁজে পেয়েছে। এত দিন পর হেপিকে ফিরে পেয়ে তার মা-বাবা যেন নিজের চোখকে বিশ^াস করতে পারছিলেন না। বাবা তার সন্তানকে ছিনতে পারলেও মা তার কন্যাকে ছিনতে পাছেন না। হেপি ঈশ^রগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ভুটুর কন্যা। বাবার অভাব অনটনের সংসারেচার বোন । ২০০০ সালে ঢাকা খিলগাও এলাকায় একটি বাসায় দু’ বোন ঝিয়ের কাজ নেয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই হেপি বাসা থেকে নিখুঁজ হয়। ঈশ^রগঞ্জের শাপলানীড়ের এক এনজিও কর্মচারির সহায়তায় দু’ বোন বাসায় কাজ করতে গিয়েছিল। হেপি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা মা বহু খোঁজাখুজির পরও তার কোন সন্ধান পায়নি। বাবা মা ভেবেছিল তার কন্যা হপিকে আর হয়তো কোন দিন পাবে না। রাখেআল্লা.. মারে কে। হেপিনিখোঁজ হওয়ার পর আশ্রয় নেয়রাজবাড়ী জেলার কালখালী উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান টিটু চৌধুরীর বাসায়। ওই চেয়াম্যানের বাসায় থেকে সে বড় হয়। পরে তাকে কালুখালী উপজেলার বলাশ পুর গ্রামে ফারুক মন্ডলের সাতে হেপিকে বিয়ে দেন চেয়ারম্যান।হেপির এক মাত্র কন্যা ফারজানা ইয়ন। স্বামীর সংসারে সুখি হলেও তার মনে শুধু বেদনা কখন মা বাবাকে খোঁজে পাবে। ছোট বেলার স্বৃতি শুধু বাবার নাম মায়ের নাম উপজেলা ঈশ^রগঞ্জ এতটুকোই তার জানা। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বুধবার হেপি মা-বাবার টানে ছোট বেলার সৃতিকে স্মরণ রেখে তার মামা শ^শুর ইয়ারুফ হোসেনকে নিয়ে ঈশ^রগঞ্জ আসে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাবার নাম বলে বিভিন্ন লোক জনের কাছে বাবার ঠিকানাটি জানতে চান। বহু খোঁজাখোঁজির পর অবশেষে লোকজনের সহায়তায় ঈশ^রগঞ্জ সরকারি কলেজের পেছনে ফুফুর বাসায় গেলে ফুফুও থাকে ছিনতে পারেনি। অনেক বলাবলির পর থাকে ছিনতে পারেন। এ খবর বাবা জানার পর ওই বাসায় এসে মেয়েকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে ফুফুর বাসা থেকে হেপিকে তার বাবা নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলে এলাকার লোকজনের ঢল নামে। ১৯ বছর পর কন্যাকে পেয়ে বাবা মা ও স্বজনরা পেয়ে মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। হেপি জানান, আমি কোন দিন ভাবতেও পারিনি বাবা মাকে ফিঁরে পাব। কিস্তু আমার বিশ^াস ছিল একদিন না একদিন আমার বাবা মাকে ফিরে পাব। পরিবারের লোকজনের কাছে ফিরে পেয়ে এত খুশি হয়েছি যা কাউকে বোঝাতে পারব না। আমি বর্তমান কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান টিটু চৌধুরীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তাঁর এ ঋণ কোন দিন শোধ করতে পারব না। এ ব্যপারে কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান টিটু চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান,হেপি তার মা বাবাকে খোঁজে পাওয়ায় আমি নিজেকে গর্ভিত মনে করছি। আমি তাদের মঙ্গল কামনা করছি।