| |

আধুনিক বিশ্বের অনুকরণীয় সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহাপুরুষ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)

ডক্টর দেওয়ান রাশীদুল হাসান :
পৃথিবীর আদি মানুষ হযরত আদম (আ.) হতে সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়। অতঃপর প্রাথমিক যুগ থেকে মানবসমাজের ক্রমবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী প্রসার ঘটে। নানা ধরনের জাগতিক মোহ ও শয়তানের কু-মন্ত্রণায়, গোত্র, সম্প্রদায় ভেদে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং পরস্পর শত্রুতা করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: মানবজাতি একই সমাজভুক্ত ছিল, অতঃপর তাঁরা বিভেদ সৃষ্টি করল”। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) রাসূল  হিসেবে পৃথিবীতে আগমনের প্রাক্কালে আরবের সামাজিক অবস্থা  চরম বিপর্যয় ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল । সামাজিক অনাচার পাপ পঙ্কিলতা এত চরমে পৌঁছেছিল যে তারা সব সময় মদ, যুদ্ধ আর নারী নিয়ে ব্যস্ত থাকত । এমনকি তারা পিতার বিবাহিত স্ত্রীকে বিয়ে করতে কুণ্ঠাবোধ করতো না। এমন বিপর্যয় পূর্ণ অবস্থায় ওহীবিহীন জিন্দেগির ৪০টি বছর সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়ে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ফলে নৈতিকতার চরম বিপর্যয়ের সে যুগেও উদভ্রান্ত  মানুষগুলোর ইস্পাত কঠিন হৃদয়কে জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি সামাজিক সকল অনৈক্য ভুলে একই সূত্রে আবদ্ধ হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর। দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা।” শুধু তাই নয়, আল কুরআনে এবং আল হাদিসে মুসলমানদের পরস্পর ভাই ভাই বলে ঘোষণা করেছেন। সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহা নবী (সা.) বলেছেন: ‘সে ব্যক্তি প্রকৃত মুসলমান নয় যার মুখ ও হাত হতে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ তিনি আরও ঘোষণা করেছেন : ‘যে ব্যক্তি বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না সে আমার দলভুক্ত নয়’।
মহানবী (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করলেন, তখন মাপ ও ওজনে কম দেওয়ার জন্য মদিনাবাসীর প্রসিদ্ধি ছিল। অতঃপর যখন তারা মুসলমান হয় এবং সুরা মুতাফফিফীন নাজিল হয়, তখন মদিনাবাসী এই পাপ ত্যাগ করে। মদ হারামের আয়াত নাজিল হলে তারা নিজেরা মদের পাত্রগুলো রাস্তায় ঢেলে দিয়ে মদ পান থেকে চিরতরে তওবা করে। কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে ওজনে ও মাপে কম করার কঠোর নিন্দা এবং সঠিকভাবে ওজন ও পরিমাণ করার জন্য কড়া তাগিদ করা হয়েছে। সূরা আন’আমে বলা হয়েছেঃ “ইনসাফ সহকারে পুরো ওজন ও পরিমাপ করো। আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশীর জন্য দায়িত্বশীল করি না।”  সূরা বনী ইসরাঈলে বলা হয়েছেঃ “মাপার সময় পুরো মাপবে এবং সঠিক পাল্লা দিয়ে ওজন করবে।” সূরা রহমানে তাগিদ করা হয়েছে ঃ “ওজনে বাড়াবাড়ি করো না, ঠিকভাবে ইনসাফের সাথে ওজন করো এবং পাল্লায় কম করে দিয়ো না। শো’আইবের সম্প্রদায়ের ওপর এ অপরাধের কারণে আযাব নাযিল হয় যে, তাদের মধ্যে ওজনে ও মাপে কম দেবার রোগ সাধারণভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং হযরত শো’আইব (আ.)  এর বারবার নসীহত করা সওে¦ও এ সম্প্রদায়টি এ অপরাধমূলক কাজটি থেকে বিরত থাকেনি। মহানবী (সা.)  বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেন : ‘প্রত্যেক মুসলমানের ধন সম্পদ, জান ও ইজ্জত কিয়ামত পর্যন্ত পবিত্র আমানত হিসেবে জানবে’। তিনি আরবের সেই জাহেলি সমাজকে সোনালী সমাজে পরিণত করেছিলেন কাউকে আহ্বান করে, কাউকে সতর্ক করে, আবার কাউকে ভালোবেসে কাছে টেনে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ইনসাফ ও ন্যায়বিচার দারুণভাবে উপেক্ষিত। মানুষের রচিত মনগড়া মতবাদের যাঁতাকলে মানবতা আজ ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এ থেকে বাঁচতে হলে রাসূল (সা.) এর অনবদ্য জীবনের এক বিশাল সমুদ্রে আমাদের পাড়ি জমাতে হবে। কারণ, একদা এখান থেকেই পৃথিবীর পথহারা, অচেতন, অর্ধচেতন, তৃষ্ণার্ত মানুষগুলো পেয়েছিল পথের দিশা।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বিভিন্ন সময় মুসলমানদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা রোধকল্পে নবীজীর ঐক্যগঠন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতিকে কাজে লাগানো হয়েছে। এই পদ্ধতি বা নিদর্শন সুস্পষ্ট হবার পর অনৈক্য থাকা ঠিক নয়। যেমনটি পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। “তোমরা তাদের মতো হয়োনা যাদের সামনে আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং পরস্পরের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করেছিল। ইসলামের নবী      (সা.) মদীনায় হিজরতের পর বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠির মাঝে চুক্তিপত্র করেন। সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটা ছিল সে সময়কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পদক্ষেপ বা কর্মকৌশল। নবীজীর প্রথম চুক্তিটি হয়েছিল মদীনার বিভিন্ন গোত্র ও জাতির সাথে। ঐ চুক্তিটিকে অনেকেই বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান        (মদীনা সনদ) বলে মনে করেন। ধর্মীয় সংহতি এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এই পদক্ষেপ ছিল সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কেননা, এই চুক্তির ফলে দ্বন্দপীড়িত গোত্রগুলোর মধ্যে সৃষ্ট ঐক্য মুসলমানদের সামাজিক অধিকারকে নিশ্চিত করেছিল এবং শাসন বা হুকুমাত প্রতিষ্ঠাসহ রাজনৈতিক সংহতি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ক্ষেত্র  প্রস্তুত করেছিল।
মদীনায় রাসূলে খোদার গুরুত্বপূর্ণ একটি অবদান হলো মুসলমানদের মাঝে সামাজিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা। এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ফলে গোত্রগত বিভাজন চিন্তা দূর হয় এবং অভিন্ন ঈমানের ভিত্তিতে সামাজিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাসূলে খোদা (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে আসা প্রত্যেক মুহাজিরের সাথে মদীনার একজন অধিবাসীর ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক সূত্র তৈরী করেন। এক্ষেত্রে ঐতিহাসিক একটি ঘটনা হলো ইমাম আলীকে (রা.) নবীজী দুনিয়া এবং আখেরাতে নিজের ভাই বলে অভিহিত করেন।  যাহোক, এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টির বিষয়টি ছিল সামাজিক ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি কালজয়ী পদক্ষেপ। রাসূল (সা.) মুসলিম উম্মাহকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন-হে মানুষেরা! আমার কথা শুনুন! জানিনা, এরপর হয়তো এখানে আপনাদেরকে আর না-ও দেখতে পারি! হে মানুষেরা! আপনাদের একজনের জান-মাল আরেক জনের জন্যে হারাম! জেনে রাখুন! প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই এবং মুসলমানরা পরস্পর ভাই-ভাই!  এই ঘোষণার মধ্যেই ইসলামের মানদন্ড প্রকাশ পায়। তা হলো, গোত্র কিংবা বংশ নয় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনটি নির্ভর করে ঈমানের ওপর। শ্বাশ্বত এই সত্যটিকে কাজে লাগিয়ে আজো কি সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না! নবীজী মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্যে সকল প্রকার অন্যায়-বৈষম্য, গোত্র ও বংশপ্রীতির নেতিবাচকতা তুলে ধরেছেন। জাহেলি জুলুম ও মূল্যবোধগুলোকে রহিত করে বিভিন্ন গোত্র ও বংশের লোকজনকে তৌহিদের পথে আহ্বান জানিয়ে বা নতুন দ্বীনের মাঝে দাওয়াত দিয়ে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সাম্য প্রতিষ্ঠা ও বংশগত বৈষম্য দূর করে তিনি যায়েদ বিন হারেসার মতো ব্যক্তিকে ইসলামের সেনা কমান্ডার বানিয়েছেন। কৃষ্ণাঙ্গ দাস বেলাল হাবশি’কে বিশেষ মুয়াজ্জিন বানালেন এবং ইরানের অধিবাসী সালমান ফারসি’কে (রা.) সম্মানিত করেছেন। এভাবেই তিনি বিদ্যমান সামাজিক অন্যায় মূল্যবোধ ও বৈষম্যগুলোকে দূর করে নতুন এক সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেন।
সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পবিত্র কোরআন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোর জবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত মত ও পথকে সঠিক মত ও পথ থেকে ছাঁটাই করে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।’ সুতরাং ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য।’ একে অন্যের ধর্ম পালন করতে গিয়ে কেউ কোনোরূপ সীমা লঙ্ঘন কিংবা বাড়াবাড়ি করবে না। যদি ধর্ম নিয়ে অন্য কেউ বাড়াবাড়ি করেও ফেলে তবে ভুলেও যেন কোনো ইমানদার এ ধরনের হীন ও জঘন্য কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত না করে। এ বিষয়টিই নসিহতস্বরূপ মুমিনদের উদ্দেশে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেবদেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না। যাতে করে তারা শিরক থেকে আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে।’ যেখানে অন্য ধর্মের দেবতাকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ সেখানে মন্দির ভাঙচুর ও মানুষ হত্যা কীভাবে বৈধ হতে পারে ? একজন প্রকৃত মুসলমান কখনোই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত আসে এমন কোনো কাজ করতে পারে না।  হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুন্ন করে কিংবা তাদের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আমি মুহাম্মদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব।’
তিনি ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের রাস্ত্রা দূরত্ব থেকেই ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের চিরাচরিত নিয়ম ছিল, যখন কোনো সেনাবাহিনী প্রেরণ করার প্রয়োজন হতো, তখন যুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন নসিহত, দিকনির্দেশনার পাশাপাশি একথা অবশ্যই বলে দিতেন যে, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে বা যুদ্ধের পর কোনো মন্দির-গীর্জা-উপাসনালয় ভেঙে ফেলবে না।’ একজন প্রকৃত মুসলমানের পক্ষে মন্দির ভাঙ্গা তো দূরের কথা মন্দির ভাঙ্গার চিন্তা করাও সম্ভব নয়। কারণ, তিনি (সা.) বলেছেন, ‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।’ সর্বাধিক প্রণিধানযোগ্য কথা হলো, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ, প্রেম-ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিনের সঙ্গে নির্দিষ্ট নয়। কোনো একক মাস বা তারিখের চৌহদ্দিতে বন্দি নয়। বরং তার আদর্শ ও ভালোবাসা নিত্য দিনের অপরিহার্য অনুসঙ্গ হওয়া অত্যাবশক। তার যুগোপযোগী আদর্শের সামনে অন্য যেকোনো ধরনের আদর্শ গৌণ। তার আদর্শ পৃথিবীর সর্বকালের সর্বোৎকৃষ্ট মানবতা ঘনিষ্ঠ আদর্শ। যার তুলনা শুধুই তার ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ বা সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ। পৃথিবীর উদার চিন্তাশীল মহল একবাক্যে তা স্বীকার করে। মার্কিন লেখক মাইকেল এইচ হার্ট যুক্তিসঙ্গত কারণেই মহানবী (সা.)-কে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের স্থান দিয়েছেন। বস্তত চিন্তাকর্ম ও অবদানের বিচারে মাইকেল এইচ হার্ট তা’ দিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও তার এ দেওয়া বা না দেয়া মহানবী (সা.) এর সাফল্যের মানদন্ড বা মাপকাঠি নয়। মহান আল্লাহ তা’আলা এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের আশা রাখেন এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করেন, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।’
প্রকৃতপক্ষে, জ্ঞানই সবকিছুর ভিত্তিমূল । জ্ঞানের আলোকেই মানুষ ন্যায়-অন্যায় ও ভাল-মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে। জ্ঞান তথা শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই রচিত হয় জাতিসত্তা। কোন জাতির সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হ’ল শিক্ষা। ইউরোপ তথা বিশ্বের অন্যান্য সব মহাদেশের বহু খ্যাতনামা অমুসলিম পন্ডিত-গবেষক শেষ নবী (সা:)-এর জীবনীমূলক অনেক গ্রন্থ  প্রকাশ করেছেন। খ্রিস্টান ধর্মের ব্যক্তিরা বিশেষ করে ইংরেজি ভাষাভাষি সাহিত্যিকরাও অধিক হারে মহানবী (সা:) এর জীবনী গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তারা রাসুল (সা:) এর সুমহান আদর্শ, মহত্ব, মানবতার তথা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন দিক বিশেষভাবে শ্রদ্ধাভরে বর্ণনা করেছেন। অমুসলিম লেখকদের মধ্যে গদ্য আর পদ্য ব্যতীত সে সকল লেখক শেষনবী (সা.) এর জীবনী তথা গবেষণাধর্মী রচনা এমনকি কাব্য রচনা করেছেন। তারাও আধুনিক বিশ্বের দরবারে মহানবীকে আদর্শ মানব, মহান বিপ্লবী, ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতা, শ্রেষ্ঠ মানব এবং মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাদের মধ্যে ফরাসী লেখক আলফ্রেড দ্য ল্যামারটাইন, বীরযোদ্ধা নেপোলিয়ন বোনাপার্টি, ইংরেজি পাদ্রী বচওয়ারাথ স্মিথ, স্ট্রিফেন, পন্ডিত টয়েনবী, ঐতিহাসিক গিবন, থমাস, কার্লাইল, আলবার্ট জনসন প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
  স্কটল্যান্ডের খ্যাতিমান গ্রন্থকার স্যার টমাস কারলাইল (১৭৯৫-১৮৬২ খ্রী:) তাঁর প্রধান গ্রন্থ  ’অন হিরোস হিরো ওয়ারশিপ এন্ড দি হিরোইন ইন হিসটরী’তে লিখেছেন- মহানবীর আগমনে মানুষের সার্বিক অবস্থায় এবং চিন্তাধারায় এক বিরাট পরিবর্তন সূচিত হয়। আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ জাতির এক বিরাট অংশ অন্য কারো কথা অপেক্ষা মুহাম্মদের কথায়ই অধিকতর আস্থাশীল। অন্ধকার হতে আলোর পথের দিশারী হযরত মুহাম্মদ (স.)। তিনি নিজে যা নন তাই হওয়ার জন্য তিনি ভান করতেন না। প্রাচ্য পন্ডিত  গিব তাঁর “মুহাম্মদেনিজম” শীর্ষক ইংরেজী গ্রন্থে’ বলেছেন, “আজ এটা এক বিশ্বজনীন সত্য যে, মুহাম্মদ নারীদেরকে উচ্চতর মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন।” ফরাসী দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম পন্ডিত ও ইতিহাসবিদ প্রফেসর লামার্টিন তার ‘তুরস্কের ইতিহাস” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “উদ্দেশ্যের মহও¦, উপায় উপকরণের স্বল্পতা এবং বিস্ময়কর সফলতা এ তিনটি বিষয় যদি মানব প্রতিভার মানদন্ড হয়, তাহলে ইতিহাসের অন্য কোন মহামানবকে এনে মুহাম্মদের সাথে তুলনা করবে এমন কে আছে ?  দার্শনিক বাগ্মী, ধর্ম প্রচারক, আইন প্রণেতা, যোদ্ধা, আদর্শ বিজেতা, মানবিক রীতি-নীতির প্রবর্তনকারী এবং একটি ধর্মীয় সাম্রাজ্য ও বিশটি জাগতিক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা যিনি, তিনি মুহাম্মাদ। তিনি বিনম্র তবু নির্ভীক, শিষ্ট তবু সাহসী, ছেলে মেয়েদের মহান প্রেমিক, তবু বিজ্ঞজন পরিবৃত। তিনি সবচেয়ে সম্মানিত, সব চেয়ে উন্নত, বরাবর সৎ্, সর্বদাই সত্যবাদী, শেষ পর্যন্ত  বিশ্বাসী এক প্রেমময় স্বামী, এক হিতৈষী পিতা, এক বাধ্য ও কৃতজ্ঞ পুত্র, বন্ধুত্বে অপরিবর্তনীয় এবং সহায়তায় ভ্রাতৃসুলভ, দয়ার্দ্র, অতিথিপরায়ন, উদার এবং নিজের জন্য সর্বদাই মিতাচারী। কঠিন তিনি মিথ্যা শপথের বিরুদ্ধে, ব্যভিচারীর বিরুদ্ধে। খুনী, কুৎ্সাকারী, অর্থলোভী, মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা এ ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে। ধৈর্যে, বদান্যতায়, দয়ায়, পরোপকারিতায়, কৃতজ্ঞতায়, পিতা-মাতা গুরুজনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে এবং নিয়মিত আল্লাহর প্রার্থনা অনুষ্ঠানে এক মহান ধর্ম প্রচারক।”  ইউরোপের বিশ্ব বিখ্যাত মহাবীর নেপোলিয়ান বোনাপার্ট তার “অটোবায়োগ্রাফী”তে বলেছেন, “আমি আল্লাহর মহিমা কীর্তন করি, এবং পূত চরিত্র ও দিব্য প্রেরণা দীপ্ত মুহাম্মদকে আর পবিত্র কুরআনকে শ্রদ্ধা নিবেদন করি।”
ভারতীয় পন্ডিতদের মধ্যেও জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীজী, স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহরু, স্যার পিসি রাম, স্বামী আহিয়ার, স্বামী বিবেকানন্দ, সরোজনী নাইডু, অ্যানি বেসান্ত, বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, সুশান্ত ভট্টাচার্য, এম এন রায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বি এন পান্ডে, স্বামী লক্ষী শংকরাচার্য আরও অনেকে  মহানবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মহানবী (সা:) এর ওপর এসকল মনীষীদের মূল্যবান বক্তব্য তথা দৃষ্টিভঙ্গিগুলো ইতিমধ্যে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়- আমার দৃষ্টিতে মহানবী (সা:)ই হচ্ছেন – সেই মহাপুরুষ যিনি বিশ্বজগতে সাম্যভাবের বার্তাবহন করে এনেছেন। তিনি হলেন, সাম্যবাদের প্রবাদ পুরুষ। তিনিই মানবজাতির ভাতৃভাব এনে দিয়েছিলেন বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে। তিনিই ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ বটে। হজরত মুহাম্মদ (সা:)কে নারী জাতির মুক্তির প্রবক্তা হিসাবে প্রদান করে কবি বচন্ড বার্থ স্বীয় কবিলাইন, সরোজিনী নাইডু, ক্রাবাইট প্রমুখ বিশ্ব বিখ্যাত মনীষীগণ ঘোষণা দেন যে, “নারী জাতিদের অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে মহানবী (সা:) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান রেখে গেছেন। ইতিপূর্বে কেউ এভাবে নারী জাতির অধিকার প্রদান করেনি। জাহেলিয়াতের চরম অন্ধকার যখন পৃথিবীকে গ্রাস করে বসেছিল, সেই চরম দুর্দিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ব শান্তির  বার্তা নিয়ে দুনিয়ায় এলেন। তখন মানুষ হয়ে পড়েছিল সৃষ্টির দাসত্বে বন্দি। নারী জাতি ও দাস-দাসীরা ছিল চরমভাবে নিপীড়িত। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ করতেও হৃদয়হীন মা-বাবা কুণ্ঠিত হতো না। মানবতা ও মনুষ্যত্ব বলতে কিছুই তখন অবশিষ্ট ছিল না। অনিয়ম, হানাহানি, সন্ত্রাস, কুসংস্কার ও শোষণ-নিপীড়নে গোটা মানবসভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। মহানবী (সা.) হেদায়াত ও সংস্কারের এক আলোকবর্তিকা নিয়ে মানবতার কাছে উপস্থিত হলেন। হেরার যে আলোকরশ্মি তিনি আল্লাহর কাছ থেকে ধারণ করলেন, তার মাধ্যমেই তিনি মহান এক সভ্যতা বিশ্বের মানুষের কাছে উপস্থাপন করলেন। অন্ধকারময় আরবে মানবতা ছিল বন্দি। সমাজে মানবাধিকারের লেশমাত্র ছিল না। এ অবস্থা থেকে মানবতাকে বাঁচাতে মহানবী (সা.) সমাজের সব পর্যায়ে মানবাধিকারের এমন এক নমুনা পেশ করেন, যা আজও জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে গোটা বিশ্বের কাছে অনন্য হিসেবে স্বীকৃত।
ইসলাম পূর্ব আরববাসীরা অন্যায় ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করত। তারা লুণ্ঠন, রাহাজানি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ঘুষ, জুয়া, প্রতারণা, দুর্নীতি ইত্যাদি হারাম পন্থায় অর্থ উপার্জন করত। সুদ ছিল অর্থনৈতিক শোষণের প্রধান হাতিয়ার। আর রাসূল (সা.) এগুলো সবকিছু হারাম ঘোষণা করে দেন। তিনি সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা বাতিল করে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু করেন। তিনি সম্পদের মালিকানাকে সুরার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্পদ যাতে কোথাও কুক্ষিগত না হয় সে লক্ষ্যে অর্থলগ্নীকে উৎসাহিত করেছেন। সম্পদ অপচয় ও অপব্যয় করাকে নিষিদ্ধ করেছেন যদিও তা নিজের হয়। তিনি সুদ এবং মজুতদারীকে হারাম ঘোষণা করেছেন, যাতে সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছুলোকের হাতে কুক্ষিগত না হয়। যেমন আল্লাহতায়ালা বলেছেন : ‘সম্পদ যাতে তোমাদের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে আবর্তিত না হয়।’  মহানবী (সা.) বলেছেন: ‘সাদাকা হলো দলিল’। তিনি গ্রাম ও শহরের যাকাত দাতাদের নিকট থেকে যাকাত আদায় করে প্রথমেই  গ্রামের গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দিতেন। অবশিষ্ট কেন্দ্রীয় বায়তুলমালে জমা করতেন। রাসূল (সা.) এর  প্রণীত অর্থনীতির প্রভাবে সম্পূর্ণভাবে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হয়েছিল। ফলে খলিফা হযরত ওমর (রা.) খিলাফতের সময় যাকাত দেয়ার জন্য পথে-পথে ঘুরেও যাকাত গ্রহণ করার মত কোনো লোক পাওয়া যেত না। তাই এ কথা বলতেই হয় অর্থনৈতিক মুক্তিতে রাসূল (সা.) এক মাত্র পথপ্রদর্শক। ইসলাম ধর্ম হল-আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক একমাত্র মনোনীত জীবন ব্যবস্থা। যে জীবনব্যবস্থার  প্রতিটি কাজই হল-বিজ্ঞান সম্মত ও আধুনিক।
নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের সাক্ষাতকার নেয়ার সময় অভিনেতা ও সাংবাদিক মাহফুজ আহমেদ একটি প্রশ্ন করেছিল…. প্রশ্নটি ছিল : ‘এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ?’’ হুমায়ূন আহমেদের সাবলীল উত্তর: “আমাদের বুদ্ধিজীবী সমাজে যাঁরা আছেন, তাদের কার্যক্রম খুব একটা পরিষ্কার না। এরা কেন জানি ইসলাম ধর্মকে খুব ছোট করে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান অন্য যেকোনো ধর্মের প্রায় সব উৎসবে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত থাকেন, বক্তৃতা করেন, বাণী দেন- কিন্তু ইসলামি কোনো জলসায় কেউ উপস্থিত থেকেছেন বলে শোনা যায় না। তাদের মতে, ইসলামি জলসায় কেউ উপস্থিত থাকা মানে তার বুদ্ধিবৃত্তিও নিম্নমানের। সে একজন প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক লোক। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কাছে হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টানদের কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অর্থ মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা, প্রগতির চর্চা করা, সংস্কারমুক্ত হওয়া ইত্যাদি। প্রফেসর সালাম ঢাকায় এসে যখন বক্তৃতার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’  বললেন, তখন আমাদের বুদ্ধিজীবীরা হকচকিয়ে গেলেন। কারণ,  তাদের কাছে প্রগতিশীল হওয়া, বুদ্ধিজীবী হওয়া, মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা মানেই ইসলাম বিরোধী হতে হবে। তাদের কাছে রামকৃষ্ণের বাণী, যিশুর বাণী সবই গ্রহণীয়। এসব তারা উদাহরণ হিসেবেও ব্যবহার করেন; কিন্তু হজরত মোহাম্মদের বাণী কখনো তাদের মুখ থেকে শোনা যায় না। তাদের কাছে হজরত মোহাম্মদের বাণী গ্রহণযোগ্য নয়। আমার মতে, পৃথিবীর তাবৎ ঔপন্যাসিক যাঁর কোটের পকেট থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তার নাম দস্তয়ভস্কি। আরেকজন আছেন মহামতি টলস্টয়। এক রেলস্টেশনে যখন টলস্টয় মারা গেলেন, তখন তাঁর ওভারকোটের পকেটে একটি বই পাওয়া গেছে। বইটি ছিল টলস্টয়ের খুব প্রিয়। সব সময় সঙ্গে রাখতেন। সময় পেলেই পড়তেন। বইটিতে হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর বিভিন্ন সময়ে বলা ইন্টারেস্টিং কথাগুলো নিয়ে গ্রন্থিত। আমি বিনয়ের সঙ্গে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কাছে জানতে চাইছি, আপনাদের ক’জন বইটি পড়েছেন ? টলস্টয় যে বইটি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, সেই বই আমাদের প্রত্যেকের একবার কি পড়া উচিত নয় ? আমার মতে, প্রতিটি শিক্ষিত ছেলেমেয়ের বইটি পড়া উচিত।”
পৃথিবীতে নবী-রাসুলদের আগমনের ধারাক্রম মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে শেষ হয়েছে। তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। ফলে তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষ ও জিন তাঁর আনীত শরিয়তের জীবন বিধান মানতে বাধ্য। আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে মানবতার মুক্তির দূত ও সৃষ্টি জগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই  প্রেরণ করেছি।’  আসলে শুধু দেশি-বিদেশি ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়িয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, যদি সমাজে, সরকারে ও প্রশাসনে একদল নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠার মতো সৎসাহসী নিবেদিত কর্মী নিয়োগ দেওয়া না যায়। আর এর জন্য ধর্ম ও নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আল্লাহ রাববুল আলামিন বলেছেন:  ‘‘হে নবী! (সা.)- আপনি বলে দিন, আমার নিজের ভাল-মন্দের মালিকও তো আমি নই, তবে আল্লাহ তায়ালা যা’ চান তাই হয়। যদি আমি অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতাম, তাহলে আমি নিেেজর জন্য সে জ্ঞানের জোরে অনেক ফায়দাই হাসিল করে নিতে পারতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করতে পারতো না, আমি তো শুধু একজন নবী, জাহান্নামের সতর্ককারী ও জান্নাতের  সুসংবাদবাহী মাত্র, শুধু সে জাতির জন্যে যারা আমার উপর ঈমান আনে।’’  ইসলাম মহান আল্লাহ তা’আলা প্রদও একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। এই জীবন বিধানের কল্যাণ ও উপকারিতা নির্দিস্ট কোন যুগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; বরং মানব জাতির সমস্যা সমাধানে এর ক্ষমতা, কল্যাণকামিতা সার্বক্ষণিক ও চিরন্তন।   কেননা, ইসলাম মধ্যমপন্থা ও ভারসাম্য নীতিতে বিশ্বাসী।
লেখক: সার্ক স্কলার, গবেষক,  প্রশিক্ষক, খ্যাতিমান গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, প্রবীণ সাংবাদিক এবং
সাবেক ডাইরেক্টর (জনসংযোগ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ