| |

ময়মনসিংহে রেলওয়ের কঠোর উচ্ছেদ অভিযানের পরেও জবরদখলদকারীরা পূনঃ দখলের অপচেষ্টায় সক্রিয়

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশাল ভূমি, জলাশয়, বাসা ও বিভিন্ন স্থাপনার অবৈধ-জবরদখলদারদের উচ্ছেদে দেশব্যাপী রেলকর্তৃপক্ষের কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহেও উচ্ছেদ অভিযান চলছে। চলতি নভেম্বর ১৯ ইং মাসের প্রথম সপ্তাহেই এখানকার সকল জবরদখলদারদের রেলওয়ের যে কোন ধরনের ভূ-সম্পদের দখল ছেড়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে তাগিদ দেয়া হয়। মাইকিং শুনে অর্ধেকের বেশী দখলদার তাদের নির্মিত অবৈধ স্থাপনার চালা-বেড়া খুলে সরিয়ে নেয়। রেলের বাসার দখলও ছেড়ে দেয়। বহু বেহায়া দখলদার মাইকিং- এ গুরুত্ব না দিয়ে বেমালুম বহাল তবিয়তে থাকেন। পরবর্তীতে ম্যাজিষ্ট্রেট ও রেলওয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তাগণের নেতৃত্বে ভ্যাকু-বুলড্রোজারে ১৮,১৯ ও ২০ নভেম্বর এই তিনদিনের কঠোর অভিযানে পাকা-আধা পাকা সহ বহু (৩০%) অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযানে অংশ নেয় ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশ, রেল নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। এই কঠোর অভিযানটি চলে ময়মনসিংহ জংশন স্টেশনের প্রধান ফটকের সামনে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে, মালগুদাম রোডে, স্টেশন মসজিদ সংলগ্নে, জে.সি গুহ রোডে, নাটকঘরলেনে, পুরোহিত পাড়ায়, গার্ড কলোনীতে। এছাড়া স্বেচ্ছায় অবৈধ দখল ছেড়ে যায়, র‌্যালীর মোড়ের, মদের ডিপো সংলগ্নে কৃষ্টপুর কলোনী, নিউ কলোনী পাওয়ার হাউজ কলোনীর, কেওয়াটখালী নদীর পাড় কলোনীর, রানিং রুম, ফুটানী বাজার কলোনীর ও বাঘমারা মেডিকেল গেইট এলাকার শ’ শ’ দলখদার। ময়মনসিংহের প্রায় ৭০% এসব দখলদার মালামাল-আসবাবপত্র সহ তাদের দখলীয় স্থাপনার চালা-বেড়া খুলে সরিয়ে নিয়ে গেলেও অদ্যাবধি ওরা এলাকা ছাড়েনি। ওদের স্থাপনার খুঁটি গুলো এবং ইটের দেয়াল গুলো যথাযথ দাঁড়িয়েই রয়েছে। আর এসবের পাশে ওরা রাত-দিন সবসময়েই ঘুরছে। ওদের একান্ত প্রত্যাশা অভিযান শিথীল বা থেমে গেলেই ওরা ফের পূর্ব দখলীয় স্থানসমূহে আস্তানা গড়ে তোলবে।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রেলওয়ের ভূমির উপরের অবৈধ স্থাপনা সমূহের চালা-টিন বা চাটাইয়ের বেড়া না থাকলেও সে সবের খুঁটিগুলো এবং ইটের দেয়ালগুলো এখনো দাঁড়িয়ে, তার পাশে বাধা গরু-ছাগলদের খাবার খেতে দিয়েছে সেই জবরদখলদাররা। তারা রান্না-বান্নাও করছে নিজেরা খেতে। ওদের সকল নিত্য কর্ম এখনো বিদ্যমান। আরও দেখা গেছে আরো বেশকতক জায়গায় রেলের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। যা এখনও উচু হয়ে দাড়িয়েছে।
জানাগেছে, এসব দখলদারদের অধিকাংশের নগরীর বাইরে গ্রামাঞ্চলে বাড়ি-ঘর, জমা-জমি রয়েছে। অথচ কোন অনুমতি ছাড়াই যুগ যুগ ধরে অবৈধ দখলীয় রেলের জমির মায়া ওরা ত্যাগ করতে পারবে না।
আরোও জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী রেলের সম্পত্তি জোর দখল করে লিজে এনেছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম ভাড়ায় দিয়েছে। অভিযান শুরু হওয়ায় এসব বোকা ব্যবসায়ীরা সব কিছু হারালো।
এদিকে গৌরীপুর, শ্যামগঞ্জের দখলদাররা উচ্ছেদের খবর শুনেই স্বেচ্ছায় দখল থেকে সরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বহু রেলের ড্যামেজ বাসাসহ যতসব ভূমি ভোগদখল ছাড়াও এসব দখলদাররা নানা অপকাজে জড়িত হয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং এই নগরে নানা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে সমাজকে অশান্ত করে তোলে। ওরা রেলওয়ের সম্পদ-বাসা লাখ লাখ টাকায় অন্যের কাছেও বিক্রি করে ফায়দা লুটেছে।
কর্তৃপক্ষের কাছে দেশ প্রেমিক সচেতন মহলের আবেদন যে, দীর্ঘদিন রেলের ভূমি-সম্পদ ভোগদখলের জন্য উপযুক্ত ভাড়া-জরিমানা আদায় সহ ওদের চিরতরে উচ্ছেদ করা হোক । উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হোক । রাষ্ট্রীয় স্বার্থের এই অভিযানকে সর্বস্তরের নাগরিকগণ অভিনন্দন জানাবে ।