| |

বাংলাদেশের জনসংযোগে সামাজিক সাংস্কৃতিক   আভিজাত্যের প্রতীক আধুনিক পিকনিক-ডক্টর দেওয়ান রাশীদুল হাসান

বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে বন এবং জলপ্রপাত সমৃদ্ধ স্থাপত্য আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রতিফলিত হয়েছে। পিকনিক মানুষের জীবনের অবসর ও বিনোদনের জন্য অত্যন্ত আনন্দের প্রতীক বলে বিবেচিত। বার্ষিক পিকনিকে যাতায়াতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও পরিবহণ ব্যবস্থা পর্যটকদের যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে। বছরের প্রথম উষ্ণ দিনে বাইরে আরামের চেয়ে ভাল আর কিছু নেই। পিকনিকের বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পারিবারিক পুনর্মিলন। দিনক্ষণ স্থির। রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারের আমিন বাজার মধুমতি মডেল টাউনের সন্নিকটে করিম পল্লীতে  ২৪ জানুয়ারী ২০২০ অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি’র বনভোজন। আর এদিন সকাল থেকেই পিকনিকের মত আনন্দ উৎসবে যোগ দেবেন পরিবারের সদস্যসহ জনসংযোগ সমিতির সদস্য, অতিথি ও কর্মকর্তারা। পরিবার সন্তানসহ জনসংযোগ কর্মীদের উপস্থিতিতে আনন্দ আর ফূর্তিতে কেটে যাবে একটি দিন ! পিকনিক প্রায়শই বার্ষিক জমায়েতের জন্য বুফে-স্টাইল ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেশে, বিভিন্ন জাতীয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় ছুটিতে অনুষ্ঠিত পিকনিকগুলি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। অসুস্থ রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে জনসংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সবাই মিলে উৎসবের মেজাজে আনন্দ করার জন্য জনসংযোগ সমিতির ব্যবস্থাপনায় এই পিকনিকের  উদ্যোগ ও ‘ফ্যামিলি ডে’র মত  সামাজিক মেলবন্ধন ও সম্প্রীতির আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি মহতী পদক্ষেপ। সময় বদলালেও পিকনিকের চেহারা যে বদলায়নি তা আশে পাশের  পিকনিক স্পটে গেলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে বড় দিন বা নতুন বছরের শুরুর দিনে পিকনিক স্পটে গেলেই বোঝা যায় অতীতের মতো আজও দৃশ্যটা রয়েছে হুবহু একই। এক প্রজন্ম পিকনিকের আনন্দে মাতে। আরেক প্রজন্ম  পিকনিকের স্মৃতি রোমান্থন করে। পিকনিকের কোনও বিকল্প হয় না। পিকনিক মানেই তো প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলন! প্রাণোজ্জল গভীর আন্তরিকতার সম্পর্ক।
পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকন করতে চায় না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। পিকনিকের মত একটি অন্তরঙ্গ অনুষ্ঠানের থিম চয়ন করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি ডে’। গত বছরের মত এবারও বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতির বাৎসরিক পিকনিককে ‘ফ্যামিলি ডে’ বা ‘পারিবারিক দিবস’ নামে অভিহিত করেছে। নবীন প্রবীণ জনসংযোগ পেশাজীবি ভাই ও বোনেরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ সাভারের করিম পল্লীতে অনুষ্ঠেয় BPRA (Bangladesh Public Relations Association) Family Day’’-তে উপস্থিত থাকবেন। দিনটিকে স্মরণীয় বরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলার পাশাপাশি থাকবে বহুজাতিক কোম্পানি ও দেশী পতিষ্ঠানের দেওয়া আকর্ষনীয় অনেক ব্রান্ডের পুরস্কার ও উপহার সামগ্রী। যারা সরকারি – বেসরকারি, মাল্টিন্যাশনাল, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও  প্রতিষ্ঠানে জনসংযোগ, ব্র্যান্ড-কমিউনিকেশন বিভাগে কাজ করছেন, প্রত্যেককে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়, বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি (BPRA) এই পারিবারিক  মহামিলনে অংশ নেবার জন্য। পিকনিকের  বিভিন্ন স্পটগুলো আদর্শ জায়গা হলেও মানুষ চায় প্রতি বছর নতুন জায়গায় যেতে। রাজধানী ঢাকা  শহরের সম্ভবত এমন মানুষ কমই আছে যাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় একবারও পিকনিক করতে যাননি। সেক্ষেত্রে আকর্ষণ ধরে রাখতে গেলে শুধু বন জঙ্গল থাকলেই তো হবে না। নিত্য নতুন ভাবে জায়গাটাকে সাজাতে হবে। বিনোদনের উপকরণ, শিশু কিশোরদের খেলার সামগ্রী ও উপকরণ  থাকতে হবে। পিকনিকে যারা  অংশগ্রহণ করবেন তারা  প্রাকৃতিক, আড়ম্বরপূর্ণ, স্নেহময়, ঘাসযুক্ত এবং প্রচুর প্রাকৃতিক ছায়াযুক্ত স্থান সন্ধান করুন। খুব বেশি উত্তাপ হলে আপনি কাঙ্খিত স্থানটি ব্যবহার করতে পারবেন কিনা তা’ নিশ্চিত করার জন্য একটি গাছের নীচে স্থাপন করার লক্ষ্য রাখুন এবং বাচ্চাদের আশপাশে প্রচুর পরিমাণে জায়গা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
অনুভূতিপ্রবণ মানুষের জন্য শত শত বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবসর কাটানোর অনুষঙ্গ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পিকনিক। বনভোজন, চড়ুইভাতি কিম্বা অধুনা ‘পিকনিক সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণ আমাদের আবেগ-অনুভূতি ও হৃদয়কে আরও বেশি আলোড়িত করে  তোলে। কে  ‘পিকনিক’  আবিষ্কার করেছেন ? শব্দটি ফ্রেঞ্চ শব্দ ‘পাইক-এনিক’ থেকে এসেছে, যার মুদ্রণের প্রথম দিকের ব্যবহার টনি উইলিস, অরিজিনেস দে লা ল্যাঙ্গু ফ্রেঞ্চাইজের ১৬৯২ সংস্করণে রয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক উৎস হিসাবে পাইক-এনিকের ( pique-nique ) উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক আভিজাত্যের একটি প্রিয় বিনোদন পিকনিক। বছর শেষের আমেজে মাতোয়ারা সকলেই। বড় দিন থেকে শুরু হয়ে গেল এই উৎসব। নতুন বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই চলবে হৈ চৈ-নাচ গান-পার্টি আর বনভোজন। যাঁরা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি এই বছরে কোথায় যাবেন পিকনিকে তাঁদের জন্য রইল রাজধানী ঢাকার কাছেই সেরা পিকনিক স্পটের ঠিকানা। আমাদের চারদিকে ঘটছে অনেক কিছু। আমাদের সবার মনেই আছে অনেক কথা, নানা জিজ্ঞাসা, নিজস্ব মতামত। অনেক কিছু আমরা জানতে চাই, আবার জানাতেও চাই। নিজের চেনা জানার বাইরেও আছে আরেকটি জগত যারা হয়ত  আমাদের মতই ভাবছে, চিন্তা করছে। তোমাকে তোমার নিজের মত করে প্রকাশ করার একটি নতুন জায়গা – বেশতো ! চল ঘুরে আসি। আমরা দেখেছি, সৌখিন ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক, কর্পোরেট ব্যবসায়ী কিংবা শিল্পপতিগণ ট্যুর অথবা অতিথি আপ্যায়ণে বড় ধরনের বৈচিএ্য আনতে চান, তাই হোটেল – কমিউনিটি সেন্টার বাদ দিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি চলে যান পিকনিকের অনুষ্ঠানগুলোকে প্রাণবন্ত ও আরো উপভোগ্য করার জন্য। তাই, প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠান পিকনিককে নতুন মাত্রা দিতে এই স্থানগুলি থাকতে পারে পছন্দের শীর্ষে। পিকনিকে যাওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য প্রকৃতিপাঠ, প্রকৃতির ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া,তার রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ নিবিড়ভাবে অনুভব করা।
পিকনিক একটি ফ্রেঞ্চ শব্দ। পিকনিক শব্দটি ইংরেজিতে প্রথম লর্ড চেস্টারফিল্ডের ১৭৪৪ (ওইডি) এর একটি চিঠিতে প্রকাশিত হয়েছিল, যিনি একে কার্ড-খেলা, পানীয় এবং কথোপকথনের সাথে যুক্ত করেছিলেন। এর অর্থ প্রকৃতির কোলে বসে খাওয়া দাওয়া আর হই হুল্লোড় করা। খাওয়া দাওয়া বলতে রোজকার সাধারণ খাবারের পরিবর্তে একটু অন্য ধরনের খাওয়ার কথাই বলা হয়। যাহোক, সেটা ব্যক্তিগত রুচির ব্যাপার। নদী তীর, পার্ক, গ্রামের প্রান্তে এক টুকরো ময়দান অথবা সবুজে ঘেরা বনভূমিই চড়ুইভাতি অথবা বনভোজনের আদর্শ জায়গা। রবিঠাকুরের লেখায় একাধিকবার এসে পড়েছে এই পিকনিক প্রসঙ্গটি। যদিও সেই সময় চড়ুইভাতি বা বনভোজনই ছিল পিকনিকের সদর্থক সমার্থক। তবে বনভোজনের কথা এসেছে তাঁর জাপান যাত্রীতে বেশ কয়েকবার। এছাড়া তাঁর যোগাযোগ উপন্যাসে আছে পিকনিক প্রসঙ্গ। সবচেয়ে ভালোভাবে এই পিকনিকের পুরো ছবিটি উঠে এসেছে ইউরোপ প্রবাসীর চিঠিপত্রে। পিকনিক নামের বিদেশি শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন ইউরোপের প্রবাস থেকে লেখা চিঠির মধ্যে। বিদেশের প্রবাসে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন সেখানকার ঘন ঘন সংঘটিত মিলনোৎসবের ক্ষণ। ফুর্তি, আমোদ প্রমোদ অন্তপ্রাণ মেম সাহেবদের চূড়ান্ত বিলাসিতা এই পিকনিকেও দেখা যায়। এ সময় একটি আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি হয়।
গতানুগতিক জীবন থেকে একটা দিনের ছুটি নিয়ে কোনও এক শীতের মিঠে রোদ আর হিমেল হাওয়ায় বনভোজনের আনন্দে মেতে উঠতে চায় আমাদের মন। বিদেশি সভ্যতায় যা পিকনিক তাইতো আমাদের দেশের চড়ুইভাতি। আজ কালকার আধুনিক শিশু-কিশোর কিশোরীরা হয়ত বনভোজন বা চড়ুইভাতির নামই শোনেনি। তাদের কাছে শীতকাল মানে পিক এবং নিক। আমরা বরং জেনে নিই কেমন ছিল তখনকার দিনের চড়ুইভাতি। কেনই বা পিকনিকের নাম চড়ুইভাতি! শীতের দিনে পাড়ার কচি কাঁচারা একজোট হয়ে নিজের নিজের বাড়ি থেকে চাল, ডাল, তেল, আলু, নুন আর অন্যান্য কাঁচামাল সংগ্রহ করে আনত। তারপর গাছপালার ছায়ায় একটু নিরিবিলি জায়গা দেখে শুরু হত তাদের রান্নার তোড়জোড়। একদল শুকনো ডালপালা, পাতা, কাঠ, খড় জোগাড় করতে ছুটত। একটা শীতকালীন গেট টুগেদার। আত্মীয় স্বজনের পিকনিক, পড়ার ব্যাচের পিকনিক, বন্ধুদের পিকনিক আমাদের ছেলেবেলার সেই চড়ুইভাতির এখন কতোই না রকমফের! মনের আনন্দ আর ছুটির আমেজ এটুকুই বোধহয় আসল। সত্যি বলতে কি, শীতের মরসুমে দল বেঁধে পিকনিকে যাননি, এ রকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চড়–ইভাতির চরিত্র বদলালেও,তার স্বাদ এখনও অমলিন। প্রকৃতিবিলাস, নির্ভেজাল আড্ডাতো আছেই, সঙ্গে কব্জি ডুবিয়ে রসনা তৃপ্তিওতো পিকনিকের প্রাপ্তি।
জনসংযোগের হাতিয়ার পিকনিক! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাংলাদেশে বাস্তব। বাড়ি-বাড়ি ঘুরে প্রত্যেক ভোটারের সঙ্গে এখন নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করাই হল প্রকৃত জনসংযোগ। আর ভোটে প্রাথী নেতৃবৃন্দের একাংশের মত, ভোটারদের বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার দিন এখন অতীত। মানুষের মনে জায়গা করে নিতে গেলে তাঁদের আনন্দে রাখতে হবে। আর নিজেদের সেই ধারণার জেরেই জনগণের মন পেতে শীতের মরসুমে বনভোজনকে হাতিয়ার করছেন বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় দলীয় প্রাথী। তাঁদের সাফ কথা, ভোটারদের বাড়িতে শুধু পানীয় জল সরবরাহ, রাস্তা ঘাট নির্মাণ ও জঞ্জাল সাফাইয়ের খোঁজ রাখলেই হবে না। এলাকাবাসীকে হাসিখুশি রাখাও আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তাই বনভোজনের আয়োজন বলে জানাচ্ছেন দলীয় প্রাথীরা। বনভোজনের দিন এলাকাবাসীদের খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি বিনোদনের জন্য থাকবে খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনেক নেতারা বলছেন জনসংযোগের জন্য আমি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকেই বেছে নিয়েছি। শাসক দলের নেতারা বুঝতে পারছেন, মানুষ ওঁদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই কারণেই ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতে টাকা খরচ করে মানুষের মন জয় করতে চাইছেন। তবে দলীয় ভ্রমণ, বনভোজন ইত্যাদিতে যখন পেশাদার ভ্রমণ কোম্পানী ছিলো না কিংবা নিজেরা নিজেরা দলগত ভাবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতো তখন সেটাকে পিকনিক বা বনভোজন বলা হতো। এতে দলীয়ভাবে নিজেরাই রান্নাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাসঙ্গিক কাজগুলো সম্পন্ন করত। এখানে অবশ্যই একটা কথা মনে রাখতে হবে, পিকনিক করতে আপনারা দূরবর্তী যে স্থানে যাবেন সেখানকার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন। কাউকে কটাক্ষ করবেন না।
সাংবাদিকতা এবং জনসংযোগ উভয় ক্ষেত্রেই পেশাদাররা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে নিয়মিত জনগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। জনসংযোগ পেশার মানোন্নয়ন, পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, নিজেদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি ও মর্যাদা বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশের কয়েকজন পথিকৃৎ জনসংযোগবিদের উদ্যোগে ১৯৭৯ সালের ২২ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মো. নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জহিরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ ছিলেন আহমেদ জামাল। আমরা তাঁদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। একবিংশ শতাব্দীর ঊষালগ্নে পৃথিবীর দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাপনায় যেমন এসেছে নতুন ধারা তেমনি সামাজিক,ভূ-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চিন্তানায়ক ও রাষ্ট্রনায়কদের কর্মধারা ও মননজগতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তনের জোয়ার। আজকের ডিজিটাল যুগে ব্রান্ডিং মূলত মার্কেটিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হলেও আধুনিক জনসংযোগের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সামগ্রিকভাবে, জনসংযোগ যোগাযোগের কাজগুলি মানুষের উপস্থিতি, প্রেস রিলিজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কোনও ক্লায়েন্ট বা সংস্থার সার্বজনীন চিত্র বিকাশ এবং পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি জনসংযোগ উন্নয়ন কোনও সংস্থার জন্য অর্থ বা সচেতনতা বাড়াতে ইভেন্টগুলি ডিজাইন এবং আয়োজনের দিকে মনোনিবেশ করে। গণমাধ্যমের সঙ্গে জনসংযোগ বিভাগের সম্পর্কোন্নয়ন করতে হবে। কেননা, জনসমর্থন বা জনগণের ভালবাসা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারে না। এজন্য জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। আর এ কথা জনগণকে জানাতে হবে। জনগণকে জানার এ কাজটি করতে হলে প্রয়োজন গণমাধ্যমের সহায়তা।  পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের হতে হবে সার্বিকভাবে তথ্যসমৃদ্ধ। জনসংযোগ পেশাজীবীদের প্রাতিষ্ঠানিক উজ্জ¦ল ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হলে, আন্তরিকতার সাথে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতাকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যাবার জন্য থাকতে হবে সার্বক্ষণিক প্রয়াস।
 ========================================================================
লেখক: সার্ক স্কলার, প্রশিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, খ্যাতিমান গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, প্রবীণ সাংবাদিক এবং
সাবেক ডাইরেক্টর (জনসংযোগ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ