| |

ময়মনসিংহ জেলার ৯ পৌরসভার ৫টিতে আওয়ামীলীগ ২টিতে বিএনপি ও ২টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহ জেলার ৯টি পৌরসভার নির্বাচন গতকাল ৩০ ডিসেম্বর (বুধবার) অনুষ্ঠিত হেয়েছে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ন ভাবে পৌরসভাগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বেসরকারী ফলাফলে ৫টি পৌরসভায় আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, ২টিতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ২টিতে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। যে ৫টি পৌরসভায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন সেগুলো হচ্ছে-গৌরীপুর, নান্দাইল, গফরগাঁও, ভালুকা, ও ফুলবাড়িয়া পৌরসভা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ২ জন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ ও ত্রিশাল পৌরসভায়। এছাড়া বিএনপি’র প্রার্থী ২ জন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ফুলপুর ও মুক্তাগাছা পৌরসভায়। নি¤েœ আমাদের উপজেলা প্রতিনিধিদের প্রেরিত বিস্তারিত খবর দেয়া হলো।
ত্রিশাল :
রফিকুল ইসলাম শামীম ঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভা নির্বাচনে ককটেল বিস্ফোরন ফাঁকা গুলি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অন্তত ১০ আহত হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র পদে বর্তমান মেয়র আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবিএম আনিছুজ্জামান বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
জানাযায়, বুধবার দুপুরে নৌকা সমর্থিত লোকেরা পৌর সভার ১নং ওয়ার্ডে দুখুমিয়া বিদ্যা নিকেতন কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীর ক্যাম্পে হামলা করে ককটেল বিস্ফোরন ঘটালে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে । এসময় র‌্যাব,বিজিবিও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পরে উপজেলা পরিষদ মোড়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা রাস্তায় ককটেলের বিস্ফোরন ঘটিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়লে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সাময়িকভাবে একটু গন্ডগোল হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। তবে এসব ঘটনায় নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলেনি বলে দাবি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস।
এর আগে দুপুরে প্রশাসন কর্তৃক ময়মনসিংহের ত্রিশালের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম জুয়েল সরকারকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে নৌকার সমর্থকরা। এ সময় তারা দু’দফায় প্রায় আধা ঘন্টা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে।
পরে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জুয়েল সমর্থকরা মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে। এসময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবী .পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়।
নির্বাচনে বেসরকারী ভাবে ত্রিশাল পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবিএম আনিছুজ্জামান ৭২৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার ৫৭৫৯ ভোট পেয়েছেন।
ফুলপুর :ফুলপুর প্রতিনিধি : ফুলপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী মোঃ আমিনুল হক (ধানের শীষ) ৪ হাজার ৮৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ প্রার্থী শশধর সেন (নৌকা) ৩ হাজার (২য় পাতায়)(১ম পাতার পর) ৮৯২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আওয়মী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র মোঃ শাহজাহান (জগ) ৩ হাজার ২৬৩ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ ইউসুফ (মোবাইল) ২ হাজার ৪৬৪ ভোট পান।গৌরীপুর:শফিকুল ইসলাম মিন্ট ঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার নির্বাচন বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৭হাজার ১৩৩ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নৌকা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম হবি নারিকেল গাছ প্রতিক পেয়েছে ৪হাজার ১৫০ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুজিত কুমার দাস ধানের শীষ প্রতিক পেয়েছে ২হাজার ৭২৬ ভোট। উক্ত পৌরসভায় মোট ১৮০৮৬জন ভোটারের মধ্যে ৯টি ভোট কেন্দ্রে ১৪১৬০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তন্মধ্যে বৈধ ভোট ১৪হাজার ৯ ভোট ও অবৈধ ভোট ১৫১।
সংরক্ষিত কাউন্সিলার ১নং আসনে দিলুয়ারা বেগম কাঁচি প্রতিক ১৮২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী কবিতা আক্তার পুতুল প্রতিক পেয়েছে ১১৯৫ ভোট। ২নং আসনে শিউলী চৌধুরী চুড়ি প্রতিক ১৬৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী সেলিনা খাতুন পুতুল প্রতিক পেয়েছে ৭৮০ ভোট। ৩নং আসনে জেসমিন আক্তার মৌমাছি প্রতিক ২৩১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছালেহা আক্তার ব্যানেটি ব্যাগ পেয়েছে ৮৮৭ ভোট।
১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে দেওয়ান মাসুদুর রহমান খান সুজন বোতল প্রতিক ৭১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আব্দুর রউফ মোস্তাকিম উটপাখি প্রতিক পেয়েছে ৪৩৭ ভোট। ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে আব্দুল কাদির টেবিল ল্যাম্প প্রতিক ৬১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী দেলোয়ার হোসেন ডালিম প্রতিক পেয়েছে ৪৮০ ভোট। ৩নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে মাসুদ মিয়া রতন বোতল প্রতিক ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ফাহিম উদ্দিন চৌধুরী পাঞ্জাবী প্রতিক পেয়েছে ২৫২ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে নুরুল ইসলাম ৪১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী শফিকুল ইসলাম ভূট্টো পেয়েছে ৩৫১ ভোট। ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে আতাউর রহমান আতা ব্রীজ প্রতিক ৬৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জিয়াউর রহমান জিয়া ব্ল্যাকবোর্ড প্রতিক পেয়েছে ৬২০ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে মোঃ এমরান মুন্সী ব্রীজ প্রতিক ৫১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মজিবুর রহমান টেবিল ল্যাম্প প্রতিক পেয়েছে ৩৩৫ ভোট। ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে মোফাজ্জল হোসেন খান উটপাখি প্রতিক ৯৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মোঃ নাজিম উদ্দিন পাঞ্জাবী প্রতিক পেয়েছে ৫৬১ ভোট। ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে সাইফুল ইসলাম রিপন উটপাখি প্রতিক ৫২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মাসুদুর রহমান শুভ্র পাঞ্জাবী প্রতিক পেয়েছে ৪৪০ ভোট। ৯নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে এস আলী আহাম্মদ প্রতিক ৭৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী লাল মিয়া প্রতিক পেয়েছে ৩৮১ ভোট।
গফরগাঁও :
মানছুর আহম্মেদ : ময়মনসিংহের গফরগাওয়ে পৌরসভা নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডের ১০টি ভোট কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী আলহাজ ইকবাল হোসেন সুমন বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহন করা হয়।নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আলহাজ ইকবাল হোসেন সুমন পায় ১২৭১৪ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বি,এন,পি দলীয় প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন পায় ৫৮৯ ভোট। বধ্যভূমি, ইসলামিয়া ও কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রতিদ্ধন্ধি কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামীলীগ সমর্থকদের একচেটিয়া প্রভাব থাকলেও বি,এন,পি দলীয় প্রার্থীকেকোন কেন্দ্রে দেখা যায় নাই।তিনি তার ভোটাধিকারও প্রয়োগ করেননি। এছাড়াও কোন কেন্দ্রেই বি,এন,পি দলীয় প্রার্থী তার এজেন্ট দেয় নাই।
ঈশ্বরগঞ্জ :
আবুল কালাম আজাদ ঃ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার। ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন । নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার নারিকেল গাছ প্রতিকে ৭২১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬৩৬ ভোট। স্বতন্ত্রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সাত্তার ৫৭৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হন।
মুক্তাগাছা:
শফিউল্লাহ সরকার শফিক ঃ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধি জাতীয় পার্টির আতউর রহমান লেলিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৩২০ ভোট।
নান্দাইল:
ইছমত আরা বেগম ঃ ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বেসরকারীভাবে ৯২৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ রফিক উদ্দিন ভূঞা (নৌকা)। নিকটতম বিএনপি’র প্রার্থী এ.এফ.এম আজিজুল ইসলাম পিকুল পেয়েছেন ৬ হাজার ২শত ৩৮ ভোট।
ভালুকা:
মোঃ কামরুল এহসান চন্দন : ভালুকা পৌরসভা নির্বাচনে ৯ টি কেন্দ্রের মাঝে ৮ টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. একেএম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ূমকে (নৌকা) বেসরকারীভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন, ৯হাজার ৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান (ধানের শীষ) পেয়েছেন, ৪ হাজার ৩ শত ২১ ভোট। তাছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বহিস্কৃত) আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন সরকার (জগ) পেয়েছেন, ১ হাজার ৪ শত ৩৫ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন, ৪ শত ৪৮ ভোট। গোলযোগের কারণে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত রয়েছে।
ফুলবাড়ীয়া:
ফুলবাড়িয়া ব্যুরো অফিস : শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ২য় বার মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া (নৌকা)। তিনি ৭হাজার ৭শ ৯৫ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি বিদ্রোহী চান মাহমুদ জগ পেয়েছেন ৪হাজার ৯৮ ভোট। এখানে ধানের শীষ প্রতিকে ৯টি ওয়ার্ড ১০টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষনা করেন রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনানী বিশ্বাস।