| |

মোহনগঞ্জে জেলেদের জালে প্রতিদিন টনকে টন মাছ ধরা পড়ছে

কামরুল ইসলাম রতন ঃ  নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া, মাঘান-সিয়াধার, সুয়াইর ও গাগলাজুর ইউনিয়নের ডিঙ্গাপুতা হাওরে জেলেদের মাছ ধরা উৎসব চলছে। গত সোমবার সরেজমিনে ডিঙ্গাপুতা হাওর পরিদর্শন করে মাছ ধরার উৎসব দেখা যায়। একদিন বা দুইদিন নয়, পুরো বর্ষাকাল জুড়ে চলে এই মাছ ধরা। মাইলের পর মাইল জুড়ে হাওরের শান্ত জলে বাঁধাহীন পরিবেশে চলছে এই মাছ ধরা। আর প্রতিদিন এই জেলেদের জালে ধরা পরা লাখ লাখ টাকার মাছ ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী হচ্ছে। মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরই যেন জেলেদের প্রাণ। প্রায় ৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এই হাওরের মাছ ধরে ৫২ গ্রামে ৪ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করছে। স্থানীয় মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিঙ্গাপোতা হাওরের ৮ হাজার হেক্টর এবং ১১ হাজার হেক্টর প্লাবন ভূমি অর্থাৎ ১৯ হাজার হেক্টরের উন্মুক্ত বিশাল জলরাশি রয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিন টনকে টন মাছ আহরিত হচ্ছে। এদিকে সোমবার সরেজমিন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নৌকা, জাল আর জেলেদের মাছ ধরার এক মনোরম দৃশ্য। এক একটি জাল ২ হাজার, আড়াই হাজার ফুট দীর্ঘ। আর তা হাওরে ফেলতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতি নৌকাতেই আছে ১৪/১৫ জনের দল। হাওরের সেওড়াতলী, পুটিউগা, রামপাশা, খুরশিমূল, সিয়াধার, তেতুলিয়া, গাগলাজুর ও বরান্তর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই মাছ ধরতে জেলেরা উৎসবের আমেজে কাজ করছে। হাওরের ফত্তে বিল এলাকায় মাছ ধরারত সাদেক মিয়া জানান, এখানে মাছ ধরতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। গত সোমবার বরান্তর বাজারে বিরাশি সদস্যের বরান্তর মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি দ্বিগেন্দ্র বর্মন বলেন, আমরা কোন বাধাবিঘœ ছাড়াই হাওরের জলে মাছ ধরছি। তবে অমৎস্যজীবিরা নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এই অমৎস্যজীবি কারা জানতে চাইলে বরান্তর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী খান বলেন, বিএনপি নামধারী অমৎস্যজীবিরা সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্রমূলক মাছ ধরতে বাধা দেয়ার মিথ্যা অপবাদ তুলছে।
মোহনগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান রতন, তোফায়েল আহমেদ জানান, হাওরের জেলেদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য এমপি রেবেকা মমিনের প্রচেষ্টায় অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাওরের গজারিয়া বিল ও ছেচড়াখালী কুড়ে ২টি মৎস্য অভয়াশ্রম নির্মাণ করা হয়েছে। সাপমারা নদীর মুখ হতে একুশে দীঘি ও হাতি ভাঙ্গা হয়ে খাল খনন করা হয়েছে। এসব কারণে মাছের বংশবৃদ্ধি সহ উৎপাদন বাড়বে। যার পুরো সুবিধাই জেলেরাই ভোগ করবে।