| |

ফুলবাড়িয়ায় জেএমবি’র চার সদস্য আটক : ৪দিনের রিমান্ড

মো: আব্দুস ছাত্তার : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র (জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৪। আটক ৪জনকে গতকাল রবিবার চারদিন করে রিমান্ড মুঞ্জুর করেছে বিজ্ঞ আদালত। আটক ওসমান গনি মল্লিক (৪৮), জাকির হোসেন (৫০), আক্কাছ আলী (৫৫) ও মো. হারুন (৩৫) এর কাছ থেকে উগ্রবাদী ১১টি বই, লিফলেট, একটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল, দুটি সিমকার্ড, দুটি মেমরি কার্ড উদ্ধার করে। এ ঘনটায় র‌্যাব বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত জেএমবির সদস্যদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। এদের মধ্যে ওসমান মল্লিক ও জাকির হোসেন সদরের আল-হেরা একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এর আগে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালতের বিচারক চারদিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করেন।
গতকাল রবিবার বিকেলে র‌্যাব-১৪ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব আরও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৪ জানতে পারে, জোরবাড়িয়া গ্রামের মো. আবুল হোসেন বুলবুলের বাড়িতে কয়েকজন জঙ্গি নাশকতার পরিকল্পনা করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে র‍্যাব-১৪’র কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এফতেখার উদ্দিনের নির্দেশে র‍্যাবের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌঁড়ে পালানোর সময় ওই চারজনকে আটক করে র‍্যাব-১৪। আটককৃতরা দীর্ঘদিন যাবত তারা বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তার বয়ান শুনতো এবং সেগুলো শুনে তারা উগ্রবাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গি সমর্থক হয়ে উঠে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের জন্য বিভিন্ন কৌশলে কাজ করতো ও মসজিদসহ বিভিন্ন জায়গায় গোপনে বৈঠক করে উগ্রবাদী ও নাশকতামূলক তালিম প্রদান করত এবং সংগঠনের জন্য নিয়মিত চাঁদা তুলে সংগঠনের তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা রাখত।
এই তহবিল তারা বর্তমানে যেসব জেএমবি সদস্য জেলে বন্দী আছে তাদের হাজত থেকে বের করে এনে নতুনভাবে নাশকতা কার্যক্রম শুরু করাসহ সংগঠনের অন্যান্য খরচ বহন করার কাজে ব্যবহার করতো। উগ্রবাদ কায়েম করার লক্ষ্যে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নাশকতা করার পরিকল্পনা করছিল বলে স্বীকার করেন তারা।