| |

নির্যাতিত গৃহকর্মীকে আর্থিক সহায়তা দিলেন শ্রীবরদী উপজেলা প্রশাসন

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় নির্যাতিত গৃহকর্মী সাদিয়া পারভিনকে আর্থিক সহায়তা দিলেন উপজেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ নির্যাতিত শিশুর পরিবারের সদস্য উজ্জল মিয়ার হাতে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। আর্থিক সহায়তা তুলে দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার। এসময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) মনজুর আহসান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জুয়েল আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, পৌরশহরের মুন্সীপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া পারভিন (১০) উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিলের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। ওই নেতার স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুর মাঝে মধ্যে সাদিয়াকে নানা অজুহাতে মারধর করতো। এমনকি গরম খন্তি দিয়ে ওই শিশুর মাথায়, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতো। এতে দগদগে ক্ষত হয় সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থান। গত শুক্রবার সাদিয়াকে মারপিট ও গরম খন্তি দিয়ে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে প্রতিবেশি একজন ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে, পুলিশ পৌর শহরের বিথি টাওয়ারের ৬ তলা বাসা থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাদিয়ার বাবা সাইফুল ইসলাম জানান, সাদিয়ার শারিক অবস্থা অপরিবর্তিত। ময়মনসিংহ হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন। এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতার বাসা থেকে তার স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুরকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোর্পদ করেন। কোর্ট তাকে জেলা হাজতে প্রেরণ করেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করে এ মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, এ মামলার তদন্তের প্রয়োজন হলে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
সোমবার আলোচিত এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ওই নির্যাতিত শিশুর পরিবারের সদস্যের হাতে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব ওই নির্যাতিত শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছেন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার বলেন, আমরা ভূক্তভোগী শিশুর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছি। এ ধরণের বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি তুলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ ওই শিশুর চিকিৎসাসহ আইনি সহায়তা প্রদানে পাশে থাকবে।