| |

নির্বাচনে হার না মানতে ট্রাম্পকে রিপাবলিকানদের সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হার স্বীকার না করা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে এবার জোরাল সমর্থন জানিয়েছেন রিপাবলিকানরা।
সিনেটের শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখার শতভাগ অধিকার আছে ট্রাম্পের।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন জয় পাওয়ার পর সোমবার প্রথম মন্তব্যে ম্যাককনেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থাই “যে কোনও ভোট পুনর্গণনা কিংবা মামলার নিষ্পত্তি করে দেবে।
ট্রাম্প নির্বাচনে হার মেনে না নেওয়ার গোঁ ধরে বসে আছেন। ভোটে জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ করে যাচ্ছেন তিনি। ট্রাম্পের হার স্বীকার না করা নিয়ে তার পরিবারও বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার তাকে হার মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের দুই বড় ছেলে বাবাকেই সমর্থন করছেন।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের নেতারাও তাকেই সমর্থন জানালেন।
শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এর আগে ট্রাম্প নির্বাচনে হারলে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিতভাবেই হবে বলে মন্তব্য করলেও এবার তার কণ্ঠেই ভিন্ন সুর।
“বৈধ সব ব্যালট অবশ্যই গণনা হতে হবে, অবৈধ ভোট গোনা যাবে না। এ বিষয়ে উদ্বেগ নিয়ে কাজ করার জন্যএখানে আদালত আছে,” বলেছেন তিনি।
কংগ্রেসের হাউজ এবং সিনেটে রিপাবলিকানদের জয়ে দলীয় সহকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর বার্তায় ম্যাককনেল এইসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ বলছে, এ পর্যন্ত মাত্র চারজন রিপাবলিকান সিনেটর বাইডেনের জয় স্বীকার করেছেন এবং তাকে ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ বলেছেন। এরা হচ্ছেন, উটাহ’র সিনেটর মিট রমনি, নেব্রাস্কার বেন সাস, মেইন এর সুসান কলিন্স এবং আলাস্কার সিনেটর লিসা।
এছাড়া, রোববার সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আলাদাভাবে ফোনে বাইডেনকে জয়ের অভিনন্দন জানিয়েছেন, বলছে বিবিসি।
ফোনে বুশ বলেন, “আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও আমি জানি জো বাইডেন ভাল মানুষ। তিনি আমাদের দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং একতাবদ্ধ রাখার সুযোগ জিতে নিয়েছেন।”
কিন্তু মাত্র এই হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া মিচ ম্যাককনেলের মতো বেশিরভাগ রিপাবলিকানই বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিতে রাজি নন। এমনকী কেউ স্বীকার করে থাকলেও তা ভেতরে ভেতরেই করছেন।
সিনেট মেজোরিটি হুইপ জন টিউনের কথায়, “আমি মনে করি তার (ট্রাম্প) অধিকার আছে, সাংবিধানিক অধিকার। তারা আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইলে প্রত্যেকেরই তা করতে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”
ওদিকে, রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত রাজ্য সরকারগুলো সোমবার থেকেই নির্বাচনী ফলকে চ্যালেঞ্জ করে নেওয়া ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন দিতে শুরু করেছে।