| |

‘আমি বাঙলায় পথ চলি — চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস পায়ে উর্বর পলি’

মো. আবুল কালাম আজাদ : ‘আমি পথ চলেছি পাড়া গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে, তবুও আমার চেহারায় নেই ক্লান্তির ছাপ, আছে কেবল চোখে হাজারো স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নেরা আমাকে যন্ত্রণা দেয় বলেই আমি বসে নেই, বসে থাকতে পারিনা, পারছিনা! আমার স্বপ্ন নিজের জীবনকে উজ্জ্বলতর করা অথবা আমার লালসাকে পূরণ করার স্বপ্ন নয়, আমার স্বপ্ন শুধু হাওরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন, তাদের জীবনাচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো সহ হাজারো উপাদান প্রতি মুহূর্তেই আমার মস্তিস্কের নিউরনে অনুরণন জাগায়। আমি আর স্থির থাকতে পারিনা। পারিনা বলেই আমার স্বপ্নগুলো পূরণের নেশায় আমি ছুটে চলি অসীমের পানে।’ কথাগুলো নিশ্চয়ই আমার তথা এই গল্পের লেখকের নয়। এই আবেগ আর মমতা মাখানো কথামালা সত্যিই আমার হতে পারেনা। হ্যাঁ পাঠক, আমি বলছিলাম হাওর পাড়ের মানুষের মানবিক অভিভাবক সর্বপ্রিয় সাজ্জাদুল হাসান এবং তার ভাবনা ও স্বপ্নের কথা। যে মানুষটি ঘাত প্রতিঘাত উপেক্ষা করে গ্রাম বাঙলার আলপথ দিয়ে ছুটে চলেছেন সাধারণের কাছে, দশের কাছে । কেননা, তিনি ভাবছেন এই সাধারণই দেশটিকে অনন্যসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে এসেছেন। শুক্রবার হাওর পাড়ের আলপথ আর গাঁয়ের মেঠোপথে শুরু হয় সাজ্জাদুল হাসানের স্বপ্নযাত্রা। সকালে মোহনগঞ্জ পৌঁছেই শিয়ালজানি খাল পরিদর্শনে ছুটে যান। বিকেলে উপজেলার বড়তলী গ্রামে জামে মসজিদ উদ্বোধন করে সুধীজনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে মন্দির পরিদর্শনে ছুটে চলেন। ফেরার পথে বাহামের দারুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শুভেচ্ছা জানালে তিনি মাদ্রাসায় নেমে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপচারিতা পরবর্তী ইসলামী ফাউন্ডেশনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে মাদ্রাসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। শনিবার সাজ্জাদুল হাসান তার বাবার স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ আদর্শনগর শহিদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান এবং সেখানকার সুধীজনের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেন। একইদিন বিকেলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মোহনগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন। আলোচনায় সাজ্জাদুল হাসান বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি সবার সাথে আছি এবং থাকবো। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখতে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করা হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করে বলেন, মোহনগঞ্জ উপজেলাকে তিনি বাংলাদেশের মডেল উপজেলা হিসেবে দেখতে চান। মতবিনিময় সভায় পৌরসভা মেয়র লতিফুর রহমান রতন, আটপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. খায়রুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অসিত সরকার সজল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী চৌধুরী হীরা মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক মাহবুব এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনময় শেষ করে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মের অনুসারীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। রবিবার উপজেলার ৫ নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ছাড়াও চলমান প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে রামজীবনপুর হিফজুল কোরআন মাদ্রাসা, খান বাহাদুর কবির উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত শহিদ মিনার, শাঁকরাজ ও সহিলদেও গ্রামে নবনির্মিত মসজিদ ভবনের উদ্বোধন করেন। ইউনিয়নের চলমান অবকাঠামোগত, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন পাশাপাশি স্থানীয় সুধীসমাবেশে তিনি সরকারের ইতিবাচক কাজের ব্যপ্তি বর্ণনা করে বক্তব্য প্রদানের সাথে তিনি সাধারণের সুবিধা অসুবিধার কথা মনোযোগের সাথে শ্রবণ করে যথাযথ সমাধান করাবারও উদ্যোগ নিয়েছেন। এসময় সাজ্জাদুল হাসানের সফরসঙ্গী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী চৌধুরী হীরা মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক মাহবুব সহ নতুন প্রজন্মের কুশীলবরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিক্রিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক মাহবুব বলেন, সাজ্জাদুল হাসান একজন সফল আমলা, নীতির মধ্যে থেকে জনকল্যাণে তিনি এক নিবেদিত প্রাণ। তিনি আরও বলেন, সাজ্জাদুল হাসানের সফরসঙ্গী হিসেবে আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই হাজারো মানুষের ঢল দেখতে পেয়েছি। তিনি মানুষের সমস্যার কথা শোনা মাত্রই সমাধান করে দিচ্ছেন এই অর্থে তিনি সর্ব সাধারণের প্রিয় মানুষে পরিণত হয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী চৌধুরী হীরা মিয়া তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাজ্জাদুল হাসানের পদচারনা এই হাওর জনপদের মানুষের জন্য সত্যিই ইতিবাচক একইসাথে আনন্দেরও বটে। তিনি আরও বলেন, সাজ্জাদুল হাসানের উন্নয়নমূলক কাজের হেতু জনমানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং তাঁর আগমনে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের উত্তেজনা কাজ করছে। আমরা তাঁকে সীমাহীন উচ্চতায় দেখতে চাই বলে দৃঢ় চিত্তে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী চৌধুরী হীরা মিয়া।