| |

২০২৫ সালের মধ্যে সবাইকে অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে আনতে কৌশল প্রণয়ন

২০২৫ সালের মধ্যে সবাইকে অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমের মধ্যে আনতে পাঁচ বছরমেয়াদী কৌশলপত্রের খসড়া অনুমোদন করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কৌশল’ এর বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় এনে তাদের জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে।
“এর মূল বিষয় হচ্ছে- ডিজিটাইজেশন এবং ইনোভেশনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাইজেশন এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি।”
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য এই কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, ২০৪১ এর যে পরিকল্পনা আছে সেটার সাথে আমাদের যে সপ্তম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং এসডিজির সঙ্গে এটি রিলেটেড।
কৌশলপত্রে সাতটি উদ্দেশ্য এবং ১২টি কৌশলগত অভীষ্ট এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ৬৫টি লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই কৌশলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাঁচ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা অর্থায়ন প্রাক্কলন করা হয়েছে।
“কোভিড-১৯ এর কারণে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যন্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন খাতের উত্তরণে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলোর মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কৌশলের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলো ব্যাংক, অ-ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, পুঁজিবাজার মধ্যস্ততাকারী, মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী এজেন্সিকে গ্রাহকবান্ধব করে সেবা নিশ্চিত করা হবে।
জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কৌশল পূরণে মন্ত্রিসভা কিছু নির্দেশনা দিয়েছে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, যে কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে ২০১৭-১৮ এর ডাটা ধরা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছে ২০২০ এর ডাটা ব্যবহার করার জন্য।
“কারণ ২০২০ এ সরকার যে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করল সেখানে হিউজ সংখ্যক লোক কিন্তু অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমের মধ্যে চলে এসেছে। সব পেমেন্ট কিন্তু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়েছে, মোবাইল অ্যাকাউন্ট বা ফিনান্সিয়াল ফরমাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।”
কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে গার্মেন্টস বা অন্যান্য খাতের প্রণোদনাগুলোও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিতরণ করা দেওয়া জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এতে করে ৪০ লাখের মত নতুন অ্যাকাউন্ট হয়ে গেছে।
“আড়াই হাজার টাকা করে যে অনুদান দেওয়া হল, সেটাওৃ যাকেই যে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
“আমাদের এখন যে স্ট্যাটাস তাতে ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত ফিনান্সিয়াল কাভারেজ দিতে পারছি। ২০২০ সালের প্রোগ্রামগুলো যদি আমরা কাউন্ট করি তাহলে ৭২-৭৩ শতাংশে চলে যাব। ২০২৫ সালের মধ্যে শতভাগ এই অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমের মধ্যে আনার চিন্তাভাবনা আছে।”
আনোয়ারুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন ‘আমার বাড়ি আমার খামারের’ জন্য আলাদা জাতীয় সঞ্চয় স্কিম এখানে অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া, যাতে গ্রামাঞ্চলে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আয় করছে সেটাকেও যেন অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমের মধ্যে আনা যায় এবং তাদের যেন সঞ্চয়ের একটা সিস্টম করে দেওয়া যায়।
পাটকল শ্রমিকদের যে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেওয়া হচ্ছে ৫০ শতাংশ অর্থ একবারে দেওয়া হয়েছে। বাকী ৫০ শতাংশ সঞ্চয়পত্র আকারে দেওয়া হয়েছে, যাতে একবারে খরচ করতে না পারে।
ভারতে ৭৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৭৩ শতাংশ অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে ৫৩ শতাংশ হলেও গত ৭-৮ মাসে যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো কাউন্ট করলে আমাদের অ্যাকান্টিং সিস্টেম আরও বেশি হবে।
“আপনি যখন অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমের মধ্যে আসবেন তখন আপনার সবকিছু পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে। যে টার্গেট ছিল সেই আকারে কত টাকা কোথায় ব্যয় করছেন, কি রিটার্ন আসছেৃ।”